নিউজ ডেস্ক, সিলেট: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপিঠ এলাহাবাদ ইসলামীয়া আলীম মাদ্রাসায় দুর্নীতি রুখতে ও উক্ত মাদ্রাসা রক্ষায় মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আবু তাহির মােঃ হুসাইনের অপসারণ দাবি জানিয়েছেন উক্ত মাদ্রাসার প্রতিষ্টাতা সদস্যসহ এলাকাবাসী।
অধ্যক্ষের দুর্নীতির চিত্র তুলে গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখত আবেদনের মাধ্যমে তার অপসারণের দাবী জানান দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য এহসানুর রহমানসহ প্রায় শতাধিক এলাকাবাসী। সেই সাথে গত ১৩ ডিসেম্বর সিলেট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অনুলিপিও দেয়া হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ আবু তাহির মােঃ হুসাইন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে সুনামধন্য এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রসায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রতি, মাদ্রাসার হিসাবে গড়মিল, লুটপাট, নিয়ােগ বাণিজ্য, প্রতিষ্টাতা পরিবারকে মামলা-হামলা, শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি ও নামে-বেনামে চাঁদাবাজি করে মাদ্রাসাকে ক্ষতিগ্রস্থ করার মহােৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, কথা বললে এলাকার অনেক জনগনও হয়রানির শিকার হতে হতে হচ্ছে। এছাড়া চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গভর্ণিং বডির সভাপতি মারা যান। আর এই শূন্য পদে এমপির সুপারিশ না নিয়ে ও সভাপতির মৃত্যু সনদ ছাড়াই তার মনােনীত ব্যক্তিকে সভাপতি পদে আনতে হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। ২০১৯ সালের ১২ মার্চ অধ্যক্ষ আবু তাহির মাে. হুসাইনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযােগ দেয়া হয়।
ওই অভিযােগের পরিপ্রেক্ষিতে তার দুর্নীতির তদন্ত করে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি অধ্যক্ষের দুর্নীতির প্রমান পাওয়া যায় মর্মে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। চলতি বছরের ১১ ও ১৮ ফেব্রুয়ারী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত পৃথক আরও দুটি অভিযােগ তদন্ত করে গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
একই তদন্তেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পেয়েছেন জানা যায়। তাই দুর্নীতি দায়ে এই অধ্যক্ষকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে মাদ্রাসাটিকে রক্ষার দাবি জানান অভিযােগ প্রদানকারীরা। এদিকে, অধ্যক্ষ দ্রুত অপসারণ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে লিখিত সুপারিশ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির মাধ্যমে মাদ্রাসার আয়–ব্যয়ের হিসাব না দিয়ে অর্থ আত্মসাত করে চলেছেন, তদন্ত করে এর সত্যতা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস পেয়েছেন বলে জানান তারা। এমপিও ভূক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হয়েও একই সাথে, বিধি বহির্ভূতভাবে স্থানীয় ইউনিয়নের কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হয়রানী করার জন্য উদ্দেশ্য মুলক মিথ্যা মামলা করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ স্বরেজমিনে তদন্ত করলে অভিযােগগুলো মিথ্যা প্রমানিত হয়। আর অভিযােগগুলাে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলী, প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও এলাকাবাসী গন্যমান্য ব্যাক্তিদের ক্ষতি সাধনের জন্য বিষেশ করে মাদ্রাসার ক্ষতি সাধনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন আবুতাহির মোহাম্মদ হোসাইন।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এম পি মোকাব্বির খান অত্র নির্বাচনী এলাকার একজন জনপ্রিয় একজন জনপ্রতিনিধি। তার চিরাচরিত বৈশিষ্ট এর অংশ হিসেবে তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন ও সার্বিক বিষয়ে তার দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শে প্রতিষ্ঠানি জ্ঞানের আলো বিতরন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে একজন আপোষহীন নেতা হিসেবে মাদ্রাসার দুর্নীতির বিষয়ে তার কঠোর অবস্থান বরাবরের মতই।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গঁবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেখানে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন; সেখানে ৫০ বৎসরের ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে তদন্তে প্রমানীত দুর্নীতিগ্রস্ত ও অর্থ আত্মসাৎকারী তথাকথিত আলিম নামধারী আবু তাহির মোহাম্মদ হোসাইন কিভাবে স্বপদে বহাল থেকে এবং সরকারী নির্দশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খাজাঞ্জী ইউনিয়নের কাজীসহ দুটি সরকারী পদে বহাল আছেন! সেটা এলাকাবাসীর প্রশ্ন?
লিখিত অভিযোগের এলাকাবাসী বলেন, এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে অধ্যক্ষের কড়াল থাবা থেকে মুক্ত দেখতে চাই। এলাকাবাসী চায় প্রতিষ্ঠানটি আবার যেন ফিরে পায় তার পুরোনো ঐতিহ্য। প্রতিষ্ঠানটি যেন মুক্ত হয় সকল দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে। বর্তমান অধ্যক্ষ দুর্নীতি থেকে মাদ্রাসাকে মুক্ত করে মাদ্রাসাকে তার স্ব-মহিমায় ফিরিয়ে দেওয়ার সকল কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেতে প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসী।