শীর্ষবিন্দু নিউজ: ২০২০ সালটি বাংলাদেশের জন্য হওয়ার কথা ছিল অন্যরকম। কিন্তু তা হয় নি। আজ ২০২১-এর প্রথম দিন। যা কিছু জীর্ণ, যা কিছু অবরুদ্ধ করেছে সময়, ভেসে যাক নতুনের আহ্বানে।
করোনার ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি বিশ্ব। উৎসব উদযাপন ও আয়োজনের বছর মুহুর্তে পরিণত হয় অবরুদ্ধ এক বছরে। মহামারির ভয়াল ছোবল কোথাও কমছে কোথাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আরেকটি নতুন বছরের সামনে দাঁড়িয়ে করণীয় নির্ধারণ, জীবন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় আশায় বুক বেঁধে বিশ্ববাসী প্রার্থনারত। শত বাধা বিপত্তির মধ্যেও সকলে নতুন বছরটিকে তাই বরণ করে নিচ্ছে আশায়।
অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী রিজার্ভ গড়ার লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি ২০২১ সালেই পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে ২০২১ সালেই। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২/৩টি প্রকল্পের কাজ সমাপ্তির বছরও হবে ২০২১। তাদের মতে, আমাদের অর্থনীতি যেখানে চলে গেছে এবং শিল্পকারখানাগুলো করোনার ধাক্কা যেভাবে মোকাবিলা করেছে, তাতে নতুন বছরে শেয়ারবাজার নিয়েও বেশ আশা রাখা যায়।
২০২১-এ আরেক আশা- করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন। বাংলাদেশে জানুয়ারির মাঝামাঝি ভ্যাকসিন এসে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ভ্যাকসিনের আগমণ ও প্রয়োগ আগের বছরের ভোগান্তি কিছুটা কমাবে সেই প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হচ্ছে সম্ভাবনার বছরটি।
গত বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ডিজিটাল ওয়ালেটে যুক্ত হয়েছেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থের লেনদেন অবিশ্বাস্য পরিমাণে বেড়েছে। আমার মনে হচ্ছে ২০২১ সালে এর একটা বড় প্রভাব আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখব। বাড়ির কাজ, সন্তান লালন, বয়ষ্কদের যত্ন, রান্না, বাজার করা, অফিসের কাজ, শিশুদের অনলাইন ক্লাস; সবই প্রায় একা হাতে সামাল দিতে হচ্ছে কিনা নারীদের। ২০২১ সালে এ দিকে পুরুষও নজর দেবেন এবং কিছু কাজের পূর্ণ দায়িত্ব নেবেন, এটাও আমার প্রত্যাশা।
বাংলাদেশের কথাই যদি ধরি- এই করোনাকালেও দেশের অর্থনীতি শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছে। আসছে বছরে চাক্ষুস অনেক পরিবর্তনের ভেতর দিয়েও বাংলাদেশ যাবে। বেশক’টি বড় প্রকল্প শেষ হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বলেই ২০২১ সালকে ঘিরে বাঙালির আরও দৃঢ় আশাবাদ তৈরি হয়েছে। আশা করি, দেশের কুরাজনীতি আমাদের লেট ডাউন’ করবে না। যেহেতু গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের কথা বলছি, তাই আশাবাদটি ইংরেজিতেই করলাম।
শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, বা করোনার টিকা পাওয়া যেতে পারে সে জন্য নয়, মানুষ এই অচলাবস্থা থেকে যে কোনও মূল্যে মুক্তি চাইছে। তবে যে পরিবর্তন ২০২০’কে স্থায়ী করে দিল তার অভিঘাত পৃথিবীকে বহুকাল বইতে হবে। এই মুহূর্তের জীবিত মানুষের জীবৎকালজুড়ে থাকবে ২০২০-এর কালোস্মৃতি। ফলে নতুন বছরকে নিয়ে আশাবাদের মাত্রাও হবে ভিন্ন ও নতুন।