শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: যুক্তরাজ্যে তৃতীয়বারের মত জাতীয় লকডাউন আরোপ করায় কঠিন সংকটে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ খবর দিয়েছে ব্রিটিশ অনলাইন দৈনিক ডেইলি মেইল।
বরিস জনসন গত বছর মার্চে দেওয়া জাতীয় লকডাউনের পর এবার তৃতীয়বারের মত এই কঠিন নিষেজ্ঞাধা আরোপ করে বলেছেন, মিউট্যান্ট কোভিডের স্ট্রেইন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ভাইরাস ৫০ থেকে ৭০ শতাংশে সংক্রমণযোগ্য। অতএব ‘ঘরে অবস্থান করুন, এনএইচএস রক্ষা করুন, জীবন বাঁচান’।
করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনে বিপর্যস্ত ইংল্যান্ড। এটি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে সমগ্র ইংল্যান্ডজুড়ে কড়াকড়ি বৃদ্ধি করেছে দেশটির সরকার। এরমধ্যে রয়েছে, বাধ্যতামূলকভাবে বাড়িতে থাকার নির্দেশ। অর্থাৎ, অনুমোদিত কারণসমূহ ছাড়া কেউ এখন থেকে আর বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না। এমনকি কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্দেশনায় বাড়ি থেকে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই কড়াকড়ি জারি থাকবে বলে মনে করছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এর অধীনে নাগরিকদের ওপর জারি থাকবে কঠিনসব বিধিনিষেধ।
আগামি মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল ও কলেজ। একইসঙ্গে চালু করা হবে অনলাইনে ক্লাস। নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিদেশ সফর। এ লেভেল ও জিসিএসই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ একজনের সঙ্গে এক্সারসাইজের জন্য দেখা করা যাবে। অতি প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া বাকিসব বন্ধ থাকবে এই সময়ে।
নির্দেশনায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বন্ধের ঘোষণা থাকলেও নার্সারি খোলা থাকবে বলে জানানো হয়। এছাড়া, বিয়ের ক্ষেত্রেও ছার দেয়া হয়েছে। সীমিত আকারের অনুষ্ঠান করা যাবে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশনায়। বলা হয়েছে, খেলার মাঠগুলো নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। তবে কোনো ক্রীড়া অনুষ্ঠান চলবে না। বাতিল করা হয়েছে শিশুদের খেলাও। নির্দেশনার শেষে সতর্ক করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, পুলিশ আগের মতোই নির্দেশনা ভঙ্গের দায়ে জরিমানা করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকতে এবং দূর থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। বয়স্কদের ঘরে বা শেল্টার হাউজে থাকতে বলা হয়েছে। উদ্বাস্তু লোকদের পুনর্বাসন ক্ষেন্দ্রে বা যেখানে সম্ভব সেলটারে স্থান দিতে হবে। ধর্মীয় উপাসনার স্থানে সামাজিক দূরত্ব অব্যাহত রাখতে হবে।
মধ্য ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আগামী ৬ সপ্তাহের জন্য ব্রিটেনে এই লকডাউন অব্যাহত থাকবে। গত মার্চে লকডাউনে যে ৫টি বিশেষ কারণে মানুষ বের হতে পারত এবারো সে সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাত (এনএইচএস) বড় রকম চাপে পড়েছে।
ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক স্বীকার করেছেন, করোনা ভাইরাসের মিউট্যান্ট ভার্সন মোকাবেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের বিধিনিষেধ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। টিয়ার-৪ এর সমস্ত বিধি মেনে চলতে জনগণকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু যথাযথ ভাবে তা না মানার কারণে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।
দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেরেমি হান্ট অবিলম্বে দেশজুড়ে লকডাউন দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন সব স্কুল-কলেজ এমনকি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মিউট্যান্ট কোভিড ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যাবার ফলে ‘ন্যাশনাল লকডাউন’ ঘোষণার দাবি করছেন ব্রিটেনের বিরোধী লেবার পার্টির নেতা স্যার কেয়ার স্টারমার।