সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে এক সভার আয়োজন করা হয় নগরীর দরগাহ গেইটস্থ একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে। এ সময় এক বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয় নগরীর দরগাহ গেইটস্থ একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে।
সিলেট নগরীর বন্দরবাজারে যেখানে বর্তমানে হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেট আছে, সে জায়গায় ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলা হবে। এমন পরিকল্পনা করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। অত্যাধুনিক এই কমপ্লেক্সে থাকবে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা। সিসিকের এই পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে আজ শুক্রবার ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায়।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি প্রধান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বিশেষ অতিথি ছিলেন। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ এতে বক্তব্য রাখেন।
এই সভায় জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স হবে প্রায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে। হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেটের জায়গায় এই কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। এখানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থাকবে। দৃষ্টিনন্দন নাগরিক চত্বর রাখা হবে। ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণে নকশা প্রণয়নের কাজ করেছে ট্রায়াঙ্গল কনসালট্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর সাথে জড়িত স্থপতি শাকুর মজিদ। আজ অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ বিষয়ক নানা তথ্য স্ত্রিরচিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় উপস্থাপন করেন তিনি।
কমপ্লেক্সের মধ্যে থাকবে ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’। যেখানে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীকী উপস্থাপনা থাকবে। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে আঙুল উঁচিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তাঁর সেই উঁচু অঙ্গুলির আদলে এই কমপ্লেক্সে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। থাকবে ‘বঙ্গবন্ধু প্লাজা’, সুউচ্চ ভবন। যেখানে সিনেপ্লেক্স, অডিটোরিয়াম, ১ হাজার আসনের কনভেনশন হল, মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক স্মারক সংগ্রহশালা রাখা হবে।
কমপ্লেক্সে থাকবে খোলা পার্ক, বইমেলা বা কুঠিরশিল্প মেলা করার জন্য ৩৪২টি স্টল বসানোর সুবিধা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ রাখা হবে। হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য ৬ তলাবিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ করা হবে। ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে’র ল্যাম্পপোস্টগুলো হবে সিলেটের ঐতিহ্য দুটি পাতা-একটি কুঁড়ির আদলে। শাকুর মজিদ জানান, প্রকল্পটির পুরো নকশা সিসিকে জমা করা হয়েছে। বর্তমানে এটি সরকারি পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।