মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১২:০১

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রজন্ম জড়িয়ে পড়ছে অপরাধ চক্রে

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রজন্ম জড়িয়ে পড়ছে অপরাধ চক্রে

যুক্তরাজ্যে বাঙালি পাড়া হিসেবে খ্যাত পূর্ব লন্ডনে মাদকসেবীরা তাদের নেশার টাকা জোগাড় করতে কিংবা সহজ উপায়ে টাকা কামাতে জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে।  বাংলাদিশ বংশোদ্ভূত তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা মাদকের নেশায়।

এই অপকর্মটির সঙ্গে নাইফ ক্রাইম বা ছুরি ব্যবহারজনিত অপরাধ, গ্যাং ফাইট, হামলা, চুরি, ছিনতাইয়ের মতো মারাত্মক অপরাধগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গত এক বছরে অন্তত ২০ জন বাংলাদেশি তরুণ মাদক বিক্রির দায়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন। এমন‌কি টাকার জন‌্য নিজেদের বাঙালি কমিউনিটির ব‌্যবসায়ীদের ওপরও হামলা, মারধরের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধের ঘটনায় অনেক তরুণ পুলিশের হাতেও ধরা পড়ছে।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলেছেন কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, মাদক আমাদের কমিউনিটিকে খুবলে খাচ্ছে। ব্রিটিশ বাংলাদেশি অনেক মা-বাবাও মাদকাসক্ত। গত ৩০ বছর আগ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক সম‌ন্বিত কার্যক্রমের জন‌্য লিখ‌ছি। এ নিয়ে কথা বলছি। সামা‌জিক সংগঠনগুলো যদি মাদকের বিরুদ্ধে সেমিনার, ক্যাম্পেইন করতো তাহলে আজকে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

জানা যায়, ২০১৪ সালের দিকে পু‌লি‌শ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং কমিউনিটি নেতাদের সম‌ন্বিত প্রচেষ্টায় টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলা‌দেশী কমিউনিটির তরুণদের মধ্যে মাদক ও অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। এখন আবার মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

সাম্প্রতিক করোনাকালীন সময়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ, খেলাধূলার সুযোগ নেই, কাজকর্ম নেই, ঘরে বসে বসে তরুণরা হতাশ হচ্ছে। মাদকাস‌ক্তি, মাদক ব্যবসা, গ্যাং ফাইট এর মতো অপরাধ অনেক বেড়ে যাবার অন্যতম কারণ হিসেবে এসব হতাশাকে দায়ী করা যায়। কমিউনিটির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের দায় শুধু কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধিদের নয় বরং এই দায়িত্ব কমিউনিটির প্রতিটি সচেতন সদস্যের। তরুণ সমাজের অভিভাবক, কাউন্সিলর, সামাজিক সংগঠন এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যদি সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে তাহলে এসব অপরাধ থেকে তরুণ সম্প্রদায়কে বাঁচানো অসম্ভব।

বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশীয় ওয়েলফেয়ার নিয়ে, দেশীয় রাজনীতি নিয়ে এবং নিজেদের প্রচার প্রসার নিয়ে যতটুকু ব্যস্ত সে তুলনায় আমাদের তরুণ সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা মোটেও সোচ্চার বলে মনে হয় না। দেশীয় রাজনীতি নিয়ে প্রচুর সভা-সমিতি হয়। কিন্তু তরুন সমাজের অধঃপতন নিয়ে কোনও একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয় না। নিজেদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026