রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৮:৫৬

কঠোর বিধিনিষেধে অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা: বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ধাক্কার শঙ্কায় কর্মস্থলে পৌঁছাতে ৫ দেশে বিশেষ ফ্লাইট

কঠোর বিধিনিষেধে অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা: বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ধাক্কার শঙ্কায় কর্মস্থলে পৌঁছাতে ৫ দেশে বিশেষ ফ্লাইট

/ ৩৯
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

নিউজ ডেস্ক, ঢাকা: করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে আবারও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েন হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী। যাদের ভিসা ও চাকরির মেয়াদ শেষের পথে, তারা সরকারি এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন। আবার অন্যদিকে হাজার হাজার প্রবাসী সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) কারণে বাংলাদেশে আসতে পারছেন না। আবার বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরাও দেশ ছাড়তে পারছেন না। সময় মতো না গেলে ‘চাকরি থাকবে না’— এমন অনেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। প্রথম আলো, সময়নিউজ, ঢাকা পোস্ট।

সাত বছর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেননি দুবাইপ্রবাসী রাহাত আলী। এবার আগেভাগেই ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন। দেশে ফিরে মা আর স্ত্রীর সঙ্গে রোজা পালন করবেন। গত ৩ এপ্রিল টিকিট ইস্যু করেন। দেশে ফিরে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বনানীতে একটি হোটেলও নিশ্চিত করেন। কিন্তু দুদিনের নোটিশে ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তে দেশে আর ফেরা হলো না রাহাত আলীর। রাহাত বলেন, টিকিট ও ১৪ দিনের হোটেল খরচ বাবদ এক লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। লকডাউন শেষ হলে টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে। হোটেলের টাকা আদৌ ফেরত পাব কি না, তা এখনও জানি না। তারা এখনও কিছু জানায়নি। নতুন করে টিকিট হলে আবার নতুন করে হোটেল বুকিং দিতে হবে। সবমিলে অনেক ভেজালে পড়ে গেলাম।

লকডাউনে আটকেপড়া প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে যোগদান নিশ্চিত করতে ৫টি দেশের সঙ্গে চালু করা হচ্ছে বিশেষ ফ্লাইট। মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কাতার এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশসহ মোট ৫টি দেশের প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে সরকার। তবে কয়টি ফ্লাইট চলবে, বিশেষ ফ্লাইটের ভাড়া কত হবে এসব বিষয় এখনো নির্ধারণ হয়নি। সংকট ও বাড়তি চাহিদার অজুহাতে এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান সংশ্লিষ্টদে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা নেগেটিভ সনদসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিমানবন্দরে আনবে। এছাড়া প্রবাসী কর্মীরা কেবলমাত্র জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের ছাড়পত্র গ্রহণ করে এবং দেশে প্রযোজ্য কোয়ারেন্টাইন শর্ত মেনে কোভিড নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে আসতে পারবেন।

বগুড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মো. আব্দুল হাকিম (৪০)। ঢাকায় এসেছেন জর্ডান যাওয়ার উদ্দেশে। আসার আগে অবশ্য এয়ার এরাবিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে দেখেন, করোনা প্রতিরোধের বিধিনিষেধের জন্য সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ। কোনো কিছু জানার জন্য তারা বিমানবন্দরের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারছেন না। গেটের সামনে কর্তব্যরত এপিবিএন সদস্য তাদের থামিয়ে জানিয়ে দেন, ‘বিমানবন্দর বন্ধ। এখন ভেতরে যাওয়া যাবে না।’ ফলে বিপদে পড়েন আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল হাকিম। প্রবাসে যেতে পারবেন কি না, না যেতে পারলে টিকিটের অর্থ ফেরত পাবেন কি না— তা নিয়ে সংশয়ে পড়েন তারা।

রেস্তোরাঁর কাজ নিয়ে প্রথমবার সৌদি আরব যাবেন চুয়াডাঙ্গার মো. লাভলু। ১৯ এপ্রিল তাঁর ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারঘোষিত লকডাউনের আওতায় বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল। এতে ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লাভলু। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে সব কাজ শেষ করেছি। এখন কীভাবে যেতে পারব, বুঝতেছি না।’

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা লুৎফুর রহমান লিটন বলেন, ‘দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসি। আসার সময় একই ফ্লাইটে ফিরতি টিকিট করেছিলাম। আজ আমার সৌদি আরবে ফেরার কথা। কিন্তু এসে দেখি বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ। করোনা প্রতিরোধের বিধিনিষেধের কারণে কোনো ফ্লাইট ওঠা-নামা করছে না। এরপর ফ্লাইট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা বলে, ঢাকা থেকে তাদের ফ্লাইট চালু রয়েছে। বন্ধ হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন কী করব বুঝতে পারছি না। ফ্লাইট কর্তৃপক্ষ বলছে, ফ্লাইট ওপেন রয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে দেখি সবকিছু বন্ধ। সময় মতো সৌদি পৌঁছাতে না পারলে চাকরি থাকবে কি না— তা নিয়ে এখন চিন্তায় আছি।’

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এক সপ্তাহে দুবাই, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরের জন্য ইউএস-বাংলার প্রায় চার হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এগুলো এখন রি-শিডিউল করতে হচ্ছে।’ এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারলাইন্স, সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ার, সালাম এয়ার, এমিরেটস, ইতিহাদ এয়ারলাইন্স, এয়ার এরাবিয়া, এয়ার এরাবিয়া দুবাই, ফ্লাই দুবাইয়ের এক সপ্তাহে প্রায় ২০ হাজার যাত্রীকে আনা-নেওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্তে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর ১০ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গেছে মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজার। ধাক্কা কাটিয়ে উঠে এ বছর শুরুটা মোটামুটি ভালোই হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে গেল। সরকারের সিদ্ধান্তে বিদেশি নিয়োগদাতারাও অবাক হয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের দেশ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ফের নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। আর এটি হলে আবার লম্বা সময়ের জন্য কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে যাবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com