শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: এক মুসলিম স্কুল পড়ুয়া বালককে সন্ত্রাসবিরোধী পর্যবেক্ষক ‘প্রিভেন্ট’ এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ব্রিটেনের এক শিক্ষক।
উচ্চারণ ভুল বুঝে ১১ বছর বয়সী এই বালকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর বিষয়টি এখন প্রকাশ হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য ওই বালক ক্লাসে বলেছিল, সে দাতব্য সংস্থাগুলোতে অনুদান দিতে চায়, যাতে অভাবীদের সাহায্য করা যায়। ইংরেজিতে সে সাহায্য দেয়াকে ‘আমজ’ (Alms) হিসেবে অভিহিত করেছিল। কিন্তু তার শ্রেণি শিক্ষক সেটাকে ‘আর্মস’ বা অস্ত্র বুঝেছিলেন। ফলে তিনি সন্ত্রাস বিরোধী পর্যবেক্ষকদের হাতে তুলে দেন ওই শিক্ষার্থীকে। এ জন্য ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুলটির বিরুদ্ধে আইনগত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
তাতে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষক ক্লাসে জানতে চান- যদি শিক্ষার্থীদেরকে প্রচুর অর্থ দেয়া হয় তাহলে তা দিয়ে তারা কি করবে। প্রাইমারিতে পড়া ওই শিক্ষার্থী এর জবাবে অসহায়দের সাহায্যের জন্য ‘আমজ’ শব্দটি ব্যবহার করে। তাকে সন্ত্রাস বিরোধী পর্যবেক্ষকদের কাছে তুলে দেয়ার পর পুলিশ কোনো তথ্য না পেয়ে, উগ্রপন্থা বা কট্টরপন্থা বা জাতীয় নিরাপত্তায় কোনো হুমকির বিষয়ে কোনোই প্রমাণ না পেয়ে ঘটনাটিকে ডিশমিশ করে দিয়েছে।
হয়রানির শিকার অভিভাবকরা এখন ওই স্কুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। তাতে লিখিতভাবে মাফ চাইতে বলা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। তাদের আরো অভিযোগ, যে শিক্ষক তাদের সন্তানকে ‘প্রিভেন্ট’-এর কাছে তুলে দিয়েছেন তিনি সমতা বিষয়ক ইক্যুয়ালিটি অ্যাক্ট ২০১০ ভঙ্গ করেছেন।
প্রসঙ্গত, এই শিক্ষার্থীকে তার পরিবার খুবই বুদ্ধিমান এবং ব্যাপক পড়াশোনা করা মেধাবী বলে বর্ণনা করেছে। সে প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাসের বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী। জবাবে সে জানায়- প্রচুর অর্থ থাকলে সে নির্যাতিতদেরকে সাহায্য (আমজ) করবে। এমন সাহায্য হিসেবে অতীতে ধর্মপ্রাণ মানুষরা গরিবদেরকে সাহায্য করতেন। তাদেরকে সাহায্য হিসেবে দিতেন খাবার, পোশাক অথবা অর্থ।
Leave a Reply