পূর্ব লন্ডনে একটি বার ও রেস্তোরাঁর মধ্যবর্তী তলার একটি ফ্লোর ভেঙে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩ জন। স্থানীয় সময় শনিবার বিকাল ৪টা ৪৪ মিনিটে হ্যাকনি উইক সংলগ্ন টু মোর ইয়ারস নামের এই পানশালাটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
ঘটনার পর পরই জরুরি বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা সেখানে ছুটে যান। লন্ডন এম্বুলেন্স সার্ভিস একে বড় দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭ জনকে। তারা সেবা দিয়েছে ১৩ জনকে। এর মধ্যে তিনজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। চারজনকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে।
লন্ডন এম্বুলেন্স সার্ভিসের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডার ব্রায়ান জর্ডান বলেছেন, তাদের উদ্ধারকর্মীদের ডেকে নেয়া হয়েছে ঘটনার পরপরই। সেখানে লন্ডনের এয়ার এম্বুলেন্স টিমও পাঠানো হয়। তার ভাষায়, আমরা উদ্ধার করা ১৩ জনের বিষয়ে জরুরি সেবার বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
এলএএস-এর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মোট ১৩ জনের চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন গুরুতর আহত। বাকি ১০ জনের আঘাত যৎসামান্য। চার জনকে হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
টুইটারে ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছে এলএএস। বারে থাকা হ্যারিয়েট ম্যাকমোহন বলেন, তিনি ও তার সঙ্গী কিছুটা আঘাত পেলেও তারা ঠিক আছেন। তিনি বলেন, কেউ জানতো না কি ঘটছে। উপরে তাকিয়ে দেখি পুরো সিলিং আমাদের দিকে আসছে। অবস্থা দেখে দ্রুত তারা সেখান থেকে সরে যান। লোকজন চিৎকার করতে থাকে। ম্যাকমোহন বলেন, এটি ছিল ভয়ঙ্কর ঘটনা। পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না যে, আমরা মারা যাইনি।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ফায়ার সার্ভিস এবং মেট্রোপলিটন পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।
লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের স্টেশন কমান্ডার সাচা ক্লিমেন্ট বলেন, সাত জনকে বারান্দার মেঝেতে আটকা পড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। ভবন থেকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য ক্রুরা মেঝে এবং অভ্যন্তরীণ সিঁড়ির মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি মই ব্যবহার করেন।
Leave a Reply