বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬

মাথা হাত পা কেটে নির্মমভাবে খুন

মাথা হাত পা কেটে নির্মমভাবে খুন

আগের দিন নয়ন ফোন করেছিলেন তার মা অঞ্জনা দেবনাথকে। বলেছিলেন- মা আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে মেরে ফেলবে। বৃহস্পতিবার বিকালে ছেলের এই আর্তনাদ শোনার পর দুর্জয়ের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন মা।  বলেছিলেন- আমার ছেলেকে হেফাজতে রাখো। কিন্তু না, শেষে লাশই পাওয়া গেল। কেন এই ঘটনা। এখনো অন্ধকারে পুলিশ।

মাথার খোঁজ নেই। বাম হাতও বিচ্ছিন্ন। পায়ের গোড়ালিও কাটা। রেললাইনে পড়েছিল ক্ষত-বিক্ষত দেহ। এই অবস্থায় শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ভাটেরা ব্রিজ থেকে পাওয়া যায় নয়নের মরদেহ।

তবে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নয়ন দেবনাথের বাড়ি কুমিল্লার ভাঙুরা বাজারের দৌলতপুর গ্রামে। তার পিতা দিলীপ দেবনাথ। এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে নয়ন দেবনাথ। এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে দেড় বছর আগে চলে এসেছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে।

বাজারে স্থানীয় দুর্জয় দেবনাথের ‘উপমা ফ্যাশনে’ চাকরি করতো। প্রায় দুই মাস আগে নয়ন বাড়ি চলে যায়। এই অবস্থায় গত জানুয়ারি মাসে দোকানের মালিক দুর্জয় কুমিল্লা থেকে নয়নকে সিলেটে নিয়ে আসে। এরপর থেকে  ফের ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের উপমা ফ্যাশনে চাকরি শুরু করে সে। বাড়ির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। নয়ন ছাড়াও দুর্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হতো কুমিল্লায় থাকা স্বজনদের।

নয়নের পিতামাতা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ করে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের কাপড়ের দোকানের মালিক দুর্জয় দেবনাথ ফোন দেন নয়নের মা অঞ্জনা দেবনাথকে।

জানান, আপনার ছেলে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তার কিছু হলে আমার কোনো দোষ নেই। এ কথা শুনে চিন্তিত হয়ে পড়েন নয়ন দেবনাথের মা। তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। এমন সময় নয়নও ফোন দেয় তার মাকে। বলে- মা আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে মেরে ফেলবে। এ কথা শোনার পর অঞ্জনা ফোনে দুর্জয়কে আকুতি জানান, তাকে আজকের রাতটা হেফাজতে রাখো।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশ ফেঞ্চুগঞ্জের কাপড়ের দোকানের ব্যবসায়ী দুর্জয় দেবনাথকে তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে দুর্জয় সহ তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। কেন এই হত্যাকাণ্ড- এটি এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে স্থানীয়দের ধারণা; মেয়েঘটিত ঘটনার জের ধরে হত্যা করা হতে পারে নয়ন দেবনাথকে। তাকে দেড় মাস আগে পরিকল্পিতভাবে ফেঞ্চুগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর হত্যা করে লাশ রেললাইনে ফেলে দিয়েছে।

নয়নের পিতা দিলীপ দেবনাথ জানিয়েছেন, তার ছেলের মাথা, বাম হাত ও পায়ের গোড়ালি পাওয়া যায়নি। গলা পুরোটাই কাটা। লোমহর্ষক ও নির্মমভাবে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। এ কারণে তিনি সিলেটের জিআরপি থানায় দুর্জয়, তার চাচা চন্দন সহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করতে চাইছিলেন।

কিন্তু থানায় মামলা নেয়া হয়েছে অজ্ঞাতদের আসামি করে। তাদের নামে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। তবে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ দুর্জয়কে আটক করে তাদের হেফাজতে রেখেছে। তিনি খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মা অঞ্জনা দেবনাথ জানিয়েছেন, তার ছেলে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ফোন করেছিলো। আমি ওদের বলেছিলাম  ছেলে পাগলামি করলে কারও হেফাজতে রাখো। কিন্তু তারা হেফাজতে রাখলো না। আমরা লাশ পেলাম। তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিলেটের জিআরপি থানার ওসি আলিম হোসেন জানিয়েছেন, আমরা লাশ উদ্ধারের পরপরই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। রেলওয়ের এসপি সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করছেন। তিনি বলেন, আমরা এখন কিছুই বলবো না। ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার পর সবই বলবো। আশা করি এ ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার গিয়ে তারা ভাটেরা ব্রিজের পাশ থেকে নয়নের মরদেহ নিয়ে আসেন। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026