মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫০

দুই দেশে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে রুশনারা আলীর নেতৃত্বে বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকায়

দুই দেশে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে রুশনারা আলীর নেতৃত্বে বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকায়

ব্যবসা-বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো থাকাকে গুরত্ব দেয় যুক্তরাজ্য। এমনটা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক দূত, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রুশনারা আলী এমপি। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

চতুর্থবার বাংলাদেশ সফরে আসেন ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। সোমবার বিকেলে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর সুশাসন প্রশ্নে এখনো ব্রিটিশ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। জোর দেন মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর। জানান, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করার উপায় খুঁজে দেখতেই তার এবারের সফর।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক দূত রুশনারা আলী বলেন, যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি সুদৃঢ় অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। এক্ষেত্রে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার অনেক ক্ষেত্র আছে। এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় ব্রিটেন।

বিপুল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ব্রিটেনে পড়তে আগ্রহী জানিয়ে রুশনারা আলী বলেন, মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার বড় সুযোগ রয়েছে। তিনি খুবই আশাবাদী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। পহেলা এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের সাথে বৈঠকসূচি থাকলেও রাজনৈতিক দলের সাথে কোনো কর্মসূচি নেই রুশনারা আলীর।

বাংলাদেশের ১২ বছর ধরে রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আজ যে প্রশ্নটি এসেছে তা হলো অন্তর্বর্তীমূলক গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি ব্যবসা-বাণিজ্যকে কতটা প্রভাবিত করে? হ্যাঁ, অবশ্যই ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর রাজনীতির প্রভাব রয়েছে। একটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন তার ওপর নির্ভর করে সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কতটা স্থিতিশীল হবে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বন্ধু হিসেবে তারা প্রতিনিয়ত তাগিদ দেন জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা বা রাজনীতি সর্বত্রই মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে হবে, সম্মান দেখাতে হবে। তাছাড়া গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুরক্ষাও জরুরি। এসব মূল্যবোধের ক্রমাগত চর্চা করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, উন্নতির ধারায় আত্মতুষ্ট থাকার বা থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ জন্য অবশ্যই লড়তে হবে।

কারণ এটা মানতে হবে যে, একটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যও ওলটপালট হয়ে যায়! মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ক্রমাগত ঘটতে থাকলে ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ে। ভয়ে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেন। ৫ দিনের সফরে আসা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃৃটেনের প্রভাবশালী ওই রাজনীতিক গতকাল বিকালে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনের বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সেখানে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সরকার এবং দেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনগুলো অবাধ এবং সুষ্ঠু হওয়া জরুরি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত রাখতে এটা অপরিহার্য। তবে এখানকার নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা একান্তই বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্ত। বন্ধু হিসেবে তারা পরামর্শ দিতে পারেন জানিয়ে রুশনারা বলেন, আমরা উদ্বেগজনক ইস্যুগুলো কখনো এড়িয়ে যাই না।

সমালোচক বন্ধু হিসেবে আমরা সরকারের কাছে নিয়মিতভাবে উদ্বেগগুলো উত্থাপন করি। তার কাছে প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের এফটিএ সই করার কোনো চিন্তা আছে কিনা? জবাবে তিনি বলেন, আপাতত হয়তো তা হবে না, তবে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়লে তা হতে পারে। বাংলাদেশে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করবো। এসবের সমাধান করা দরকার।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস খোলার বিষয়টিও আটকে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমি এ নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করি তারও সমাধান পাবো। ঢাকা-লন্ডন রুটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালুর কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা?

জানতে চাইলে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন প্রশ্নটির জবাব দেন। বলেন, এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। প্রাইভেট কোম্পানি ব্রিটিশ এয়ার নিশ্চয়ই ঢাকা রুটে তাদের ফ্লাইট কতটা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং স্থিতিশীল হবে তা নিয়ে ভাববে। সম্ভাবনাময় রুট হলে নিশ্চয়ই তারা ফ্লাইট রিজিউম করবে। তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান ব্রিটিশ দূত।

রুশনারা আলী আজ বুধবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিনে দেখতে। সেখান থেকে ফিরে যাবেন পৈতৃক নিবাস সিলেটে। বিশ্বনাথসহ ওই অঞ্চলে থাকা স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষিদের সঙ্গে ক’ঘণ্টা কাটিয়ে রোমাঞ্চকর সব স্মৃতি নিয়ে লন্ডনে ফিরবেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026