দিনভর হাই ড্রামা। মধ্য রাতে তাতে যবনিকাপাত হলো। ড্রামা বা নাটকের শেষ অংক মঞ্চায়ন হলো। আর রচিত হলো পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। শেষ রক্ষা হলোনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন ও জিও টিভি।
দিনভর নাটকীয়তার পর অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালেন ইমরান খান। তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন ১৭৪ জন সংসদ সদস্য। পার্লামেন্টে নাটকের শেষ অংকের যবনিকাপাত হলো শনিবার দিবাগত মধ্যরাতের পরে। তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে পেরে বিরোধী শিবিরে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। শোকে মুর্ছমান হয়ে পড়ছেন ইমরানভক্তরা।
দেশটিকে প্রথম ক্রিকেটে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এনে দেয়া ক্যাপ্টেন ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি হেলিকপ্টারে করে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। ক্রিকেটের মাঠে অসম্ভব নৈপুন্য দেখালেও রাজনীতিতে অবশেষে হেরে গেলেন তিনি। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি হলেন অনাস্থা প্রস্তাবে প্রথম ক্ষমতা হারানো পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।
ভোট শেষে প্যানেল স্পিকার আয়াজ সাদিক ঘোষণা দেন, ১৭৪ জন সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে তাদের ভোট দিয়েছেন। ফলস্বরূপ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে।
এর আগে হাইকোর্ট নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগে শনিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে দেশটির জাতীয় পরিষদে এই অনাস্থা ভোট শুরু হয়। দেশটির জাতীয় পরিষদ সকাল সাড়ে ১০টায় ইমরানের ভাগ্য নির্ধারণ করতে বসে। কিন্তু অধিবেশন শুরু হলেও বারবার তা মুলতবি হয়ে যাওয়ায় ভোটাভুটি স্থগিত হয়।
এদিকে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার আসাদ কায়সার এবং ডেপুটি স্পিকার কাশিম সূরি অনাস্থা ভোটের আগে তাদের দায়িত্বভার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্পিকার আসাদ কায়সার গণমাধ্যমকে জানায়, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিদেশী ষড়যন্ত্রে অংশ হতে পারবেন না।
স্পিকার আরো বলেন, আমাদের আইন এবং দেশের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি স্পিকার পদে থাকতে পারব না। পদত্যাগের ঘোষণার আগে তারা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বাড়ীতে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। শনিবার দেশটির গণমাধ্যম জিও টিভি এ খবর প্রকাশ করে।
এরপর আসাদ কাইসারকে তার দলের প্রতি অনুগত থাকার জন্য এবং সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নতুন স্পিকার আয়াজ সাদিক। তার সম্পর্কে আয়াজ সাদিক বলেন, তার সঙ্গে আমাদের সবার খুব সুসম্পর্ক ছিল। কাজের সম্পর্ক ছিল। তিনি মর্যাদার সঙ্গে সব কাজ করেছেন। বিরোধী দলের সঙ্গেও একই রকম কাজ করেছেন। এরপরই তিনি পার্লামেন্টে বেল বাজাতে বলেন। এর মধ্য দিয়ে সদস্যদের এটাই জানিয়ে দেয়া হয় যে, অনাস্থা প্রস্তাব শুরু হয়ে যাচ্ছে। পাঁচ মিনিট পরেই পার্লামেন্টের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে ভোট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আয়াজ সাদিক এরপর নিয়ম অনুযায়ী চার মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন। কারণ, একই অধিবেশন মধ্যরাত বা রাত ১২ টার পরে চলতে পারে না। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও নাত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নতুন অধিবেশন শুরু হয় রাত ১২টা ২ মিনিটে। এরপর ভোটিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। পার্লামেন্টের একটি দরজার কাছে রক্ষিত রেজিস্টারে পার্লামেন্ট সদস্যদের নাম লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে ভোট নিশ্চিত করতে বলা হয়।
Leave a Reply