দি হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই শহর তিনটি হলো এন্টিয়ক, সানলিউরফা ও আলেপ্পো। প্রথম শহর দুটি তুরস্কে এবং আলেপ্পো হলো সিরিয়ায়। শহরগুলো খ্রীষ্টপূর্ব ছয় বা সাত হাজার বছর আগে সভ্যতায় যাত্রা শুরু করেছে।
অতীতের সুদীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও এসব শহর এবং শহরগুলোর অলংকার নানা ভাস্কর্য অক্ষত ছিল। কিন্তু এবারের ভূমিকম্পে সেগুলো কেবল ক্ষতিগ্রস্তই হয়নি, বিলীন হয়ে গেছে সভ্যতার ইতিহাস থেকে।
মঙ্গলবার ইউনেস্কো সতর্ক করেছে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থান জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ কর্তৃক তাদের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক এবং অন্যান্য তাৎপর্যের জন্য চিহ্নিত – ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। আল-জাজিরা
উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে, এন্টিয়ক শহরটিতে অন্তত আড়াই লাখ লোকের বসবাস ছিল। শহরটির বড় অংশই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সালে গোড়াপত্তন করা হয় নগরটির। গোড়াপত্তন করে মহাবীর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের এক সেনাপতি। শহরটি একসময় খ্রিস্ট ধর্মের প্রচারকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। প্রাচীন সিল্ক রোডের ওপর অবস্থিত হওয়ায় শহরটির বাণিজ্যিক গুরুত্বও ছিল বেশ।
আলেকজান্ডারের সেনাপতি শহরটির গোড়াপত্তন করলেও শিগগিরই তা রোমানদের দখলে চলে যায়। পরে হেলেনিস্টিক, বাইজেন্টাইন এবং ওসমানীয়দের দখলে থাকে দীর্ঘসময়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের দখল করা সিরিয়ার অংশ ছিল এন্টিয়ক। পরে ১৯৩৯ সালে তা আবারও তুরস্কের অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
সানলিউরফা শহরটি আগে উরফা নামেও পরিচিত ছিল। শহরটি মূলত এর প্রাগৌতিহাসিক মেগালিথিক বা প্রস্তর যুগের কাঠামোর জন্য বিখ্যাত। গোবেকলি তেপেতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে পুরো পুরনো প্রস্তরযুগীয় কাঠামোকে অনেকেই বিশ্ব সভ্যতার উন্মেষের শুরু বলে উল্লেখ করে থাকেন।
প্রায় ৭ হাজার বছর আগে, সে সময়কার শিকারি মানুষেরা টি-আকৃতির পাথর দিয়ে বিভিন্ন কাঠামো তৈরি করেছিল। সে সময়টিতে পিরামিডও তৈরি করা হয়নি। শহরটি মূলত প্রাচীন সিরিয়ার অংশ ছিল। ক্রুসেডের সময় ক্রুসেডাররা শহরটি দখল করে নেয়। পরে ওসমানয়ীরা ক্রুসেডারদে তাড়িয়ে দিয়ে শহরটি নিজেদের অংশ বলে ঘোষণা করে।
আলপ্পো শহরটি এমন এক শহর যেখানে খ্রীষ্টপূর্ব ৬ শতাব্দী ধরে মানুষ বসবাস করে আসছে। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক কারণে এই শহরটি গুরুত্বপূর্ণ। শহরটি মেসোপোটেমিয়া সভ্যতার আদিস্থান বর্তমান ইরাক ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগপথের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এজন্য বাণিজ্যিকভাবে শহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভূমিকম্পের আগে থেকেই গৃহযুদ্ধের কারণে প্রাচীন এই শহরটি বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিল। ভূমিকম্প ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে মাত্র।
Leave a Reply