শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১১:১০

ভারতের নির্বাচনে ফল যেভাবে নির্ধারণ হয়

ভারতের নির্বাচনে ফল যেভাবে নির্ধারণ হয়

বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে মাসব্যাপী নির্বাচনি যজ্ঞ শেষ হয়েছে। আজ ফল ঘোষণার পালা। ফল নির্ধারণ হয় ভোট গণনার ভিত্তিতে।

গত কয়েক বছর ধরেই লোকসভা নির্বাচনে সব কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ করা হয়ে থাকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের মাধ্যমে। এবারেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি।

তবে নিজের কেন্দ্রের বাইরে কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মী বা সেনা সদস্যরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

গত বছর কয়েক হলো নির্বাচন কমিশন বেশি বয়স্ক নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সেখানে বসেই ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু করেছে, যাতে তাদের পোলিং বুথে আসার কষ্ট না করতে হয়।

আর এগুলো সবই হলো পেপার ব্যালট, অর্থাৎ কাগজের ব্যালট। যেকোনো গণনাকেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু হয় প্রথমে এই পোস্টাল ও পেপার ব্যালটগুলো গোনার মাধ্যমে। তাতে কেন্দ্রভেদে আধঘণ্ট থেকে এক ঘণ্টাও সময় লেগে যেতে পারে।

ফলে সকাল ৮ টা থেকে ভোটগণনা শুরু হলেও ইভিএম গোনা শুরু হতে হতে প্রায় ৯ টা বেজে যায় বেশিরভাগ কেন্দ্রেই।

প্রতি দফার ভোট শেষ হওয়ার পরই ইভিএমগুলো সিলগালা করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিভিন্ন সংসদীয় কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে রাখা হয়ে থাকে।

প্রতিটি ইভিএমের ‘কন্ট্রোল ইউনিট’ ভালো মতো সিল করা ছিল কি না, সঠিকভাবে কাজ করছে কি না- গণনা শুরু করার আগে তা বারবার ভালো করে পরীক্ষা করার কথা ও সব দলের প্রতিনিধিদের সম্মতি নিয়েই গোনার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা।

প্রতিটি কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেন ‘কাউন্টিং সুপারভাইজর’ ও ‘কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট’রা– যাদের নিয়োগ করেন ওই সংসদীয় আসনের রিটার্নিং অফিসার।

ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটে প্রত্যেক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট এক এক করে দেখানো হতে থাকে। এক দফায় ১৪টি ইভিএম পরপর গোনার পর এক একটি রাউন্ডের ফল ঘোষণা করা হয় এবং তারপর আরও ১৪টি ইভিএম গোনা শেষ হলে ঘোষিত হয় পরবর্তী রাউন্ডের ফল।

এইভাবে সব ইভিএম গোনা শেষ হলে ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন এবং সব চেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থীর হাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বিজয়ীর সার্টিফিকেট তুলে দেন।

ভোটগণনার প্রক্রিয়াকে বিতর্কমুক্ত রাখতে কমিশনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেখা গেছে ভারতের প্রায় সব নির্বাচনেই ইভিএম কমবেশি বিতর্কের মুখে পড়েছে।

পরাজিত দল বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগ করে থাকে, ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব এবং তা করাও হয়েছে– যদিও ভারতের শীর্ষ আদালত আজ পর্যন্ত ইভিএমের ব্যবহার বন্ধ করার কোনো নির্দেশ দেয়নি।

বস্তুত ভারতের নির্বাচনি প্রক্রিয়া আর ইভিএম কার্যত সমার্থক হয়ে উঠেছে– যা অদূর ভবিষ্যতে পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ভারতে ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে সুদীর্ঘ ভোটগ্রহণ পর্বের শেষে আজ একসঙ্গে সারা দেশের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। মোট সাত দফায় এবার দেশে ভোট হয়েছে প্রায় দেড় মাস ধরে, আর নির্বাচনি তফশিল ঘোষণা হয়েছিল গত ১৬ মার্চ – অর্থাৎ আড়াই মাসেরও বেশি আগে। অবশেষে সেই নির্বাচনি প্রক্রিয়া এখন তার চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে ভোটগণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে, আর যেহেতু ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়েছে, তাই বিকালের আগেই গোটা দেশের নির্বাচনি ফল বা ‘ট্রেন্ড’ মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন জোট ‘এনডিএ’ একটানা তৃতীয়বার দেশের ক্ষমতায় আসার জন্য লড়ছে।

বিজেপির সেই লক্ষ্য সফল হলে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পর নরেন্দ্র মোদিই হবেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের মূল জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারাও আশাবাদী যে তারা সরকার গড়ার জন্য যে গরিষ্ঠতা দরকার, তা অর্জন করতে পারবেন।

‘ইন্ডিয়া’ জোটের সব চেয়ে বড় দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ভোটপর্ব মেটার পর দাবি করেছেন তাদের জোট ২৯৫ বা তার কাছাকাছি আসন পাবে বলে তাদের ধারণা। লোকসভায় নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য দরকার অন্তত ২৭২টি আসন।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ‘এনডিএ’ বা বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরেও অবশ্য বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল রয়েছে – অর্থাৎ এই দলগুলো ভোটে লড়েছে কোনও জোটের অংশ না-হয়েই।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওড়িশার বিজু জনতা দল, অন্ধ্রের ওয়াই এস আর কংগ্রেস, উত্তরপ্রদেশে বহুজন সমাজ পার্টি প্রভৃতি রাজনৈতিক দল।

গত ১লা জুন সপ্তম দফার ভোটের শেষে ভারতের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা যে সব ‘এক্সিট পোল’ বা বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে, তার বেশিরভাগ জরিপেই অবশ্য বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে বিপুলভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

তবে বুথফেরত জরিপ ভুল প্রমাণ করে বিজেপির একচেটিয়া জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে।

ফলে ভারতের ৫৪৩ আসন-বিশিষ্ট লোকসভায় কোন দল বা কোন জোট শেষ পর্যন্ত ঠিক কত আসন পায়, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আজ বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই।

দেশের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহের সঙ্গে এই গণনার দিকে যেমন তাকিয়ে আছেন; যাদের অর্ধেক ভোটার।

ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, দেশে এবারের লোকসভা নির্বাচন মোট ভোট পড়ার সংখ্যায় ‘সারা বিশ্বের সর্বকালের সব রেকর্ড’ ভেঙে দিয়েছে!

ভোটগণনার ঠিক আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করার রেওয়াজ না-থাকলেও সোমবার দুপুরে কিন্তু দিল্লির অশোকা রোডে কমিশনের সদর দফতরে ভারতের তিনজন নির্বাচন কমিশনারই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

সেখানে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার জানান, সাত দফা মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৬৪ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি– যা একটি সর্বকালীন বিশ্বরেকর্ড। যদিও এবারের ভোটে দেশে মোট নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন প্রায় ৯৭ কোটি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024