আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘বৃহস্পতিবার’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনে দিন ও রাত দুটি ধারা রেখেছেন। এর মধ্যে কিছু দিন ও রাতকে বিশেষভাবে বরকতময় করেছেন। এতে সঠিকভাবে আমল করলে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা লাভ হবে।
এমন একটি রাত হলো বৃহস্পতিবার রাত অর্থাৎ জুমার দিনের আগের রাত। বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুক্রবার সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়টা অনেক বরকতপূর্ণ। হাদিসে এ রাতের অনেক ফজিলত, বরকত ও উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে।
সৃষ্টি: আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেন, বৃহস্পতিবার দিন তিনি পৃথিবীতে পশু-পাখি ছড়িয়ে দেন। বান্দার আমল আল্লাহর সামনে উপস্থাপন এ রাতে পুরো সপ্তাহের আমল আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করা হয়। এজন্য বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
এ বিষয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- বৃহস্পতি ও সোমবার আল্লাহ তায়ালার সামনে বান্দার আমল উপস্থাপন করা হয়, তাই আমি চাই- আমার আমল পেশ করার সময় আমি যেন রোজা অবস্থায় থাকি। -সুনানে নাসায়ী, ২৩৫৮
গোনাহ মাফ এ দিনের রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহ গোনাহ মাফ করেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (গুরুত্বের সাথে) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।
নবীজিকে জিজ্ঞাসা করা হলো- আল্লাহর রাসূল! আপনি (গুরুত্বের সাথে) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন! (এর কারণ কী?)।
নবীজি বললেন, সোম ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহ সব মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। তবে ওই দুই ব্যক্তি ছাড়া, যারা একে অপরকে বর্জন করেছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘পরস্পর মিলে যাওয়া পর্যন্ত এদেরকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ, ১৭৪০
দোয়া কবুল হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, পাঁচটি রাত এমন আছে যেগুলোতে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১) শুক্রবারের রাত। ২) রজবের প্রথম রাত। ৩) শব-ই-বরাত (শাবানের পনের তারিখের রাত)। ৫) ঈদের রাত (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা)। (বায়হাকী,ঈদের ফজিলত, ১৪৯)
হজরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হে আলী! শুক্রবার রাতের শেষ তৃতীয়াংশে সাহস করে উঠে পড়ো, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং এতে দোয়া কবুল হয়। (মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, ১১৯০)

Leave a Reply