শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৭:৪০

লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগে এক বাংলাদেশির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগে এক বাংলাদেশির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

লন্ডনে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসাদ্দাক হককে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মাই লন্ডন।

তার বিরুদ্ধে ৫টি ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়। সেই মামলায় স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্ট বিরল ওই রায় দেয়। ফলে তাকে কমপক্ষে ১৪ বছর ৮ মাস কারাভোগ করতে হবে। তবে তিনি প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

এতে বলা হয়, মুসাদ্দাক হকের বিরুদ্ধে এ মামলায় দুই ভুক্তভোগী নারী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের একজনের হৃদয়বিদারক বিবৃতি শুনে বিচারক রস কোহেন দৃশ্যত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে মুসাদ্দাক হক ভিডিও লিংকের মাধ্যমে কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দেন।

ভিকটিম সাহসের সঙ্গে কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেন, আমাকে শুধু লাঞ্ছিত করা হয়নি। আমাকে এমনভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যা আর কখনো পূর্ণ হবে না। ভয়, অসহায়ত্ব, লজ্জা- সব এখনো আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আমি আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। আবারও আমাকে ধ্বংস করতে পারে এমন কাউকে জীবনে ঢুকতে দিতে ভয় পাই।

তিনি আরও বলেন, এটা শুধু এক মুহূর্তের ঘটনা নয়, এটা আজীবনের শাস্তি। মুসাদ্দাক হককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তুমি একজন সাইকোপ্যাথ। মুহূর্তেই রূপ পাল্টাতে পারো। আশা করি, তোমার মাথায় আর কখনো কোনো নারীর শরীরে হাত তোলার চিন্তা আসবে না।

অন্য ভুক্তভোগী বর্ণনা করেন, মুসাদ্দাক হকের বার বার আবেগিক, শারীরিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতন তাকে আতঙ্কে রেখেছিল। এখনও তিনি আতঙ্ক, ফ্ল্যাশব্যাক ও প্যানিক অ্যাটাকে ভোগেন।

মুসাদ্দাক হককে তিরস্কার করে বিচারক বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এক বিবাহবিচ্ছিন্ন নারীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। তার ৩০,০০০ পাউন্ড  সঞ্চয় ও পণের সোনা হাতিয়ে নিয়েছেন। একজন বাঙালি হিসেবে তুমি জানতে, তার পণের সোনার মূল্য কত।

মুসাদ্দাক হকের অপরাধের রেকর্ড দীর্ঘ। তিনি ২০১১ সালে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে একজন সাইক্লিস্টকে গাড়ি চাপা দেন। ২০১৮ সালে আরেক নারী সঙ্গীকে মারধর করেন।

২০২১ সাল থেকে তিনি কারাগারে আছেন। কারণ দক্ষিণ লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে অন্য এক মামলায় তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। পূর্ববর্তী এক মামলায় ১৫ বছর ধরে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানো, সিগারেট দিয়ে পোড়ানো, এসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়ার অপরাধে তাকে ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়।

বিচার চলাকালে জুরিরা শোনেন, মুসাদ্দাক হক ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে বলতেন, গর্ভবতী নারীর পেটে পা দিয়ে লাথি মারবেন, সিঁড়ি থেকে ফেলে দেবেন, এমনকি হ্যাঙ্গার দিয়ে গর্ভপাত করাবেন। এক ঘটনায় তিনি রান্নাঘরের ছুরি গর্ভবতী ভিকটিমের পেটে ঠেকিয়ে বলেন, তিনি বাচ্চাকে কেটে ফেলবেন। আতঙ্কে ওই নারী ছুরি ধরতে গিয়ে নিজের হাত কেটে ফেলেন।

বিচারক বলেন, মুসাদ্দাক হক ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে নারীদের জন্য ‘অবিরাম হুমকি’ হয়ে ছিলেন এবং এখনো নিজের অপরাধ স্বীকার করতে অস্বীকার করছেন। বিচারক বলেন, তুমি নারীদের প্রতি চরম উদাসীনতা দেখিয়েছ।

জুরিদের কাছে বারবার মিথ্যা বলেছ এবং নারীদের অধীনস্ত করতে চরম সহিংসতা ও ভয় প্রদর্শন করেছ। বিচারক কোহেন সেকশন ২৮৫ অনুসারে আজীবন কারাদণ্ড দেন তাকে।  কারণ হক দুই নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে এমন সময়, যখন তিনি ২০১৮ সালে এক প্রাক্তন সঙ্গীর ওপর হামলার মামলায় স্থগিত সাজা ভোগ করছিলেন।

বিচারকের মতে, হকের অপরাধের গুরুত্ব, আগের অপরাধের প্রকৃতি এবং সমাজে তার বিপজ্জনক অবস্থানের কারণে বিকল্প কোনো সাজা উপযুক্ত নয়।

এই সাজা অনুযায়ী, ন্যূনতম সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুসাদ্দাক হক প্যারোল বোর্ডের সামনে হাজির হতে পারবেন না। এরপরও যদি তিনি মুক্তি পান, প্যারোলে থাকা অবস্থায় কোনো অপরাধ করলে তাকে সরাসরি আবার আজীবনের জন্য কারাগারে পাঠানো হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026