যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির নতুন উপ-প্রধান ও লিডস শহরের কাউন্সিলর মতিন আলী বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
মতিন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, উপকূলীয় শহর ক্রোমারে ভ্রমণের সময় সমুদ্র সৈকতে তিনিসহ তার মা, স্ত্রী এবং সন্তানকে একদল লোক বর্ণগতভাবে নির্যাতন এবং আক্রমণ করে।
শেফিল্ডে জন্মগ্রহণ করা মতিন আলী সারা জীবন ইয়র্কশায়ার কাউন্টিতে বসবাস করেছেন। সম্প্রতি তিনি গ্রিন পার্টির যুগ্ম উপ-প্রধান নির্বাচিত হন।
তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এটা একটা সুন্দর রৌদ্রোজ্জ্বল দিন ছিল। আমি আমার ছয় বছরের বাচ্চার সঙ্গে বালির দুর্গ তৈরি করছিলাম এবং পাথরের খাঁদে চিংড়ি ধরছিলাম।
হঠাৎ করেই কিছু লোক আমাদের দিকে বিয়ারের বোতল ছুঁড়ে মারতে লাগলো এবং চিৎকার করতে লাগলো- আমাদের দেশ থেকে বেরিয়ে যাও’। (আরও অসভ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়, যা উল্লেখ করা অযোগ্য) তারপর লোকদের মধ্যে একজন তার পোশাক খুলে ফেলার হুমকি দেয়।
মতিন আলী বলেন, এই হামলা ব্রিটেনে অতি-ডানপন্থী মনোভাবের উত্থান এবং সামাজিক সমস্যার জন্য অভিবাসী ও শরণার্থীদের দোষারোপ করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার প্রতিফলন।
তিনি গত মে মাসে লিডসের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে তার মতামত স্পষ্টভাষী। নির্বাচনের দিন তিনি ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি তার বিজয়কে ‘গাজার জনগণের জয়’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
বিজয় ভাষণে ‘আল্লাহু আকবর’ ব্যবহার করার জন্য তার সমালোচনা করা হয়। তিনি বলেন, এই নিন্দা যুক্তরাজ্যে ব্যাপক ইসলামোফোবিয়াকেই প্রতিফলিত করে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা একটি ক্রমবর্ধমান লক্ষ্য করেছেন যে, গাজা সম্পর্কে ক্ষমতাসীনদের নীতির প্রতি হতাশার কারণে লেবার পার্টিকে ভোট দেওয়া লোকেরা গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছে।
মতিন আলী গাজার বিষয়ে বলেন, একটি গণহত্যা চলছে। আমরা যা দেখছি, তা যথেষ্ট ভয়াবহ। লেবার পার্টি গাজার প্রতি করুণ ছিল, কিন্তু তারাও এর সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাজ্য কেবল (যুদ্ধের) নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষক নয়; আমরা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
Leave a Reply