সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫২

ঐতিহাসিক মসজিদ: মসজিদে কুবা

ঐতিহাসিক মসজিদ: মসজিদে কুবা

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘ঐতিহাসিক মসজিদ: মসজিদে কুবা’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসের প্রথম নির্মিত মসজিদ। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় মদিনার অদূরে কুবায় এ মসজিদ নির্মাণ করেন।

ইতিহাসবিদরা বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন। এর আগে মক্কায় তিনি কোনো মসজিদ নির্মাণ করেননি। হিজরতের প্রথম দিন কুবা অবস্থানকালে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। মসজিদের নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে স্বয়ং রাসুল (সা.) অংশগ্রহণ করেন।

কুবা মসজিদের জায়গাটি ছিল- হযরত কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর পতিত জমি। তিনি ছিলেন আমর ইবনে আওফের গোত্রপতি। এখানে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ১৪ দিন (কেউ বলেন ১০ দিন) অবস্থান করেন ও তার আতিথ্য গ্রহণ করেন।

মসজিদে কুবা: ইসলামের প্রথম নির্মিত মসজিদ
সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে এক অসাধারণ তাৎপর্য বহন করে। এটি মুসলমানদের দ্বারা নির্মিত প্রথম মসজিদ, যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের সময় তাঁর পবিত্র হাতে নির্মিত হয়েছিল। এই মসজিদটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি তাকওয়া ও পবিত্রতার এক অনন্য নিদর্শন।

ঐতিহাসিক পটভূমি:
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় মদিনার অদূরে কুবা নামক স্থানে ১৪ দিন অবস্থান করেন। এই কুবায়ই তিনি সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে একটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এর আগে মক্কায় কোনো মসজিদ নির্মিত হয়নি। মসজিদটি কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর পতিত জমিতে নির্মিত হয়েছিল। নবীজি (সা.) নিজেও এই নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

কুরআন মাজীদে সূরা তাওবার ১০৮ নং আয়াতে এই মসজিদের বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছে: “যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তোমার দাঁড়ানোর জন্য সেটাই অধিক উপযুক্ত। সেখানে এমন লোক রয়েছে, যারা পবিত্রতা পছন্দ করে। আর আল্লাহ পবিত্র ব্যক্তিদের ভালোবাসেন।” এটি মূলত মসজিদে কুবাকেই ইঙ্গিত করে বলে অধিকাংশ মুফাসসিরদের অভিমত।

কুবা নামের উৎপত্তি:
কুবা নামটি এসেছে এখানকার একটি বিখ্যাত কূপ থেকে। সেই কূপকে কেন্দ্র করে একটি জনবসতি গড়ে ওঠে, যা কুবা মহল্লা নামে পরিচিত ছিল। এই মহল্লার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় মসজিদে কুবা।

ফজিলত ও গুরুত্ব:
মসজিদে কুবার বিশেষ ফজিলত রয়েছে, যা একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে একটি ওমরাহর সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ৩২৪; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪১১)

নবীজি (সা.) নিজেও প্রায়শই শনিবার পায়ে হেঁটে বা উটে আরোহণ করে কুবা মসজিদ পরিদর্শন করতেন এবং সেখানে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার স্থান, যা এর মর্যাদা প্রমাণ করে।

স্থাপত্য ও সংস্কার
মসজিদে কুবা তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহুবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। নবীজির (সা.) আমলের পর ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) তার খেলাফতকালে এর সংস্কার করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.), ওসমানী সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এবং তার ছেলে প্রথম আব্দুল মাজিদসহ আরও অনেক শাসক এর পুনর্নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করেছেন।

সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আলে সৌদের সময় মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে এর স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। পুরো মসজিদটি এক ধরনের সাদা পাথর দিয়ে নির্মিত, যা একে এক ভিন্ন সৌন্দর্য দান করেছে। এতে চারটি উঁচু মিনার, ছাদে একটি বড় গম্বুজ এবং পাঁচটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া, ছাদের অন্য অংশে ৫৬টি ছোট গম্বুজের অবয়ব দেখা যায়। মসজিদের চারপাশের সবুজ পাম গাছের বলয় এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই মসজিদে প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদে কুবার আধুনিক কাঠামোতে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা নামাজ ও অজুর ব্যবস্থা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং ভেতরের কারুকাজও বেশ আকর্ষণীয়। মূল মসজিদ ছাড়াও এখানে আবাসিক এলাকা, অফিস, দোকান ও লাইব্রেরি বিদ্যমান।

পরিশেষে
মসজিদে কুবা ইসলামের এক জীবন্ত সাক্ষী। এটি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং তাকওয়া, পবিত্রতা এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসলিম এই ঐতিহাসিক মসজিদ পরিদর্শনে আসেন এবং এর পবিত্র পরিবেশে নামাজ আদায় করে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন। মসজিদে কুবা তাই মুসলিম উম্মাহর কাছে এক বিশেষ সম্মানের স্থান দখল করে আছে। একমাত্র আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য তাকওয়ার ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছে মসজিদে কোবা। পবিত্র মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কর্তৃক নির্মিত প্রথম মসজিদ, মসজিদে কোবা। আল্লাহ পাক স্বয়ং এ মসজিদের পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন ও এতে যারা সালাত আদায় করতেন তাদের প্রশংসা করেছেন। মসজিদুল কুবা বা কুবা মসজিদ।

মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসের প্রথম নির্মিত মসজিদ। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় মদিনার অদূরে কুবায় এ মসজিদ নির্মাণ করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন। এর আগে মক্কায় তিনি কোনো মসজিদ নির্মাণ করেননি। হিজরতের প্রথম দিন কুবা অবস্থানকালে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। মসজিদের নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে স্বয়ং রাসুল (সা.) অংশগ্রহণ করেন।

কুবা মসজিদের জায়গাটি ছিল- হযরত কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর পতিত জমি। তিনি ছিলেন আমর ইবনে আওফের গোত্রপতি। এখানে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ১৪ দিন (কেউ বলেন ১০ দিন) অবস্থান করেন ও তার আতিথ্য গ্রহণ করেন।

মসজিদে কুবা: ইসলামের প্রথম নির্মিত মসজিদ
সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মসজিদে কুবা ইসলামের ইতিহাসে এক অসাধারণ তাৎপর্য বহন করে। এটি মুসলমানদের দ্বারা নির্মিত প্রথম মসজিদ, যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতের সময় তাঁর পবিত্র হাতে নির্মিত হয়েছিল। এই মসজিদটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি তাকওয়া ও পবিত্রতার এক অনন্য নিদর্শন।

ঐতিহাসিক পটভূমি:
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় মদিনার অদূরে কুবা নামক স্থানে ১৪ দিন অবস্থান করেন। এই কুবায়ই তিনি সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে একটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এর আগে মক্কায় কোনো মসজিদ নির্মিত হয়নি। মসজিদটি কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর পতিত জমিতে নির্মিত হয়েছিল। নবীজি (সা.) নিজেও এই নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

কুরআন মাজীদে সূরা তাওবার ১০৮ নং আয়াতে এই মসজিদের বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছে: “যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তোমার দাঁড়ানোর জন্য সেটাই অধিক উপযুক্ত। সেখানে এমন লোক রয়েছে, যারা পবিত্রতা পছন্দ করে। আর আল্লাহ পবিত্র ব্যক্তিদের ভালোবাসেন।” এটি মূলত মসজিদে কুবাকেই ইঙ্গিত করে বলে অধিকাংশ মুফাসসিরদের অভিমত।

কুবা নামের উৎপত্তি:
কুবা নামটি এসেছে এখানকার একটি বিখ্যাত কূপ থেকে। সেই কূপকে কেন্দ্র করে একটি জনবসতি গড়ে ওঠে, যা কুবা মহল্লা নামে পরিচিত ছিল। এই মহল্লার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় মসজিদে কুবা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025