বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:১৮

উচ্চশিক্ষার র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা এগিয়ে

উচ্চশিক্ষার র‍্যাঙ্কিংয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা এগিয়ে

দীর্ঘকাল ধরে ব্রিটেনের উচ্চশিক্ষা ছিল ধনকুবের আর অভিজাত ঘরের সন্তানদের দখলে। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে ইতিহাস গড়ছে নিউহ্যাম ও টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো সাধারণ ও নিম্নবিত্ত প্রধান এলাকা থেকে আসা ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধার দাপটে ব্রিটেনের আভিজাত্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র বদলে গেছে। পোস্টকোড বা পারিবারিক আভিজাত্য যে এখন আর সাফল্যের পথে বাধা নয়, ইটন ও ওয়েস্টমিনিস্টারের মতো শতবর্ষী নামী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেছনে ফেলে পূর্ব লন্ডনের মেধাবীরা তা প্রমাণ করে দিয়েছে।

গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের স্ট্র্যাটফোর্ডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অনুদানপ্রাপ্ত লন্ডন একাডেমি অফ এক্সিলেন্স থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৬২ জন শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ড থেকে ২৩টি এবং কেমব্রিজ থেকে ৩৯টি অফার এসেছে। এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

টাওয়ার হ্যামলেটস এবং নিউহ্যামের প্রায় ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলাদেশি ঐতিহ্যের অধিকারী। দীর্ঘকাল অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও, এই প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশি মেয়েরা এখন শিক্ষার প্রাণশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক বঞ্চনা সত্ত্বেও টাওয়ার হ্যামলেটসের স্কুলগুলো থেকে এখন ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্রিটেনের প্রথম সারির ‘রাসেল গ্রুপ’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ পাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, পূর্ব লন্ডনের এই কমিউনিটি এখন আর কেবল বসবাসের এলাকা নয়, বরং এক নতুন মেধাভিত্তিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

এক ঐতিহাসিক বাঁক বদলে ২০২৬ সালের র‍্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজকে পেছনে ফেলে লন্ডনের এলএসই  এখন ব্রিটেনের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ব লন্ডনের এই বাংলাদেশি মেধাবীদের বড় একটি অংশ এখন এই নামী প্রতিষ্ঠানের দিকেই ঝুঁকছে। স্কুলের নির্বাহী প্রধান শিক্ষক অ্যালেক্স ক্রসম্যান এই সাফল্যকে ‘সুপ্ত মেধার জাগরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে এই নতুন মেরুকরণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি বিশাল অংশ উঠে আসছে টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহ্যামের মতো এলাকায় বেশিরভাগ বাংলা‌দেশী ঘর থেকেই।

তথ্যানুযায়ী, অক্সব্রিজ থেকে সুযোগ পাওয়া এই শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই নারী। এদের অনেকের পরিবারই প্রথমবারের মতো উচ্চশিক্ষার আঙিনায় পা রাখতে যাচ্ছে। এই অভাবনীয় সাফল্যকে ব্রিটেনের ‘মেধার নতুন বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

যেখানে ওয়েস্টমিনিস্টার স্কুলের মতো আভিজাত্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড ফি দিয়েও ৭৫টি অক্সব্রিজ অফার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, সেখানে কোনো ফি ছাড়াই ‘লন্ডন একাডেমি অফ এক্সিলেন্স’ সেই সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025