ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। কুখ্যাত দণ্ডিত শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তার অতীত যোগাযোগ নিয়ে যেন আর কোনো অতিরিক্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য তিনি পদত্যাগ করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এরই মধ্যে এপস্টিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের অনেক শীর্ষ নেতা সহ বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের বিপুল পরিমাণ নেতার যোগাযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পদত্যাগ করলেন পিটার ম্যান্ডেলসন।
এতে আরও বলা হয়, সাবেক এই মন্ত্রীকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। কারণ তখনই তার এপস্টিনের সঙ্গে অতীত সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত সর্বশেষ নথির মধ্যেও তার নাম উঠে এসেছে।
এসব নথিতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে জেফ্রি এপস্টিন লর্ড ম্যান্ডেলসনের নামে তিন দফায় মোট ৭৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন। প্রতিটি লেনদেন ছিল ২৫ হাজার ডলার করে।
লেবার পার্টির মহাসচিবকে লেখা এক চিঠিতে লর্ড ম্যান্ডেলসন বলেন, এ সপ্তাহান্তে জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে যে স্বাভাবিক ক্ষোভ ও আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে আমাকে আবারও যুক্ত করা হয়েছে।
এতে আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত ও দুঃখিত। ২০ বছর আগে তিনি আমাকে আর্থিকভাবে অর্থ দিয়েছিলেন- এমন অভিযোগ, যেগুলো আমি মিথ্যা বলে মনে করি এবং যার কোনো রেকর্ড বা স্মৃতি আমার নেই, সেগুলো আমার পক্ষ থেকে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এই তদন্ত চলাকালে আমি লেবার পার্টিকে আর কোনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চাই না। তাই আমি দলের সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেসব নারী ও কিশোরীর কণ্ঠ বহু আগেই শোনা উচিত ছিল, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক ক্ষমা আবারও পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। আমি আমার পুরো জীবন লেবার পার্টির আদর্শ ও সাফল্যের জন্য উৎসর্গ করেছি। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে আমি মনে করি, দলের সর্বোত্তম স্বার্থেই কাজ করছি।
রোববারের আগেই লর্ড ম্যান্ডেলসন বলেন, নতুন করে প্রকাশিত নথিগুলো আসল কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি আবারও স্বীকার করেন যে, এপস্টিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়াটাই ছিল একটি বড় ভুল। তার দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি অনুতপ্ত। তিনি বলেন, এপস্টিনের কারণে যেসব নারী ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে তিনি ‘নিঃশর্তভাবে ক্ষমাপ্রার্থী’।
লেবার এমপি গর্ডন ম্যাকি বিবিসি রেডিও ফোরকে বলেন, এপস্টিনের ভুক্তভোগীরা এসব নতুন তথ্য শুনে যথার্থই ক্ষুব্ধ হবেন। তার মতে, লর্ড ম্যান্ডেলসন দল ছাড়ার মাধ্যমে সঠিক কাজটাই করেছেন।
অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সমালোচনা করে বলেন, ম্যান্ডেলসনকে দল থেকে বহিষ্কার না করে তাকে নিজে থেকে পদত্যাগের সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে স্টারমার দুর্বলতা দেখিয়েছেন।
এর আগে রোববার কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক লর্ড ম্যান্ডেলসনের দলীয় সদস্যপদ স্থগিত করা এবং এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আহ্বান জানান। লরা কুয়েন্সবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গৃহায়ণ বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেন, সরকার এপস্টিনের সঙ্গে লর্ড ম্যান্ডেলসনের কথিত আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে অবগত ছিল না।
Leave a Reply