যুক্তরাজ্যে যথাযোগ্য মর্যাদায় গত ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছে বিএলএ ইউকে।
বিকেল ৩টায় আলতাব আলী পার্কে পরিবার-সন্তানদের নিয়ে সমবেত হন সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা। পরে তারা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
এবারের মহান শহীদ দিবস মাহে রমজানেরও অংশ হওয়ায় বিকেলে সমিতির সদস্যবৃন্দ এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের সমবেত হন। পূর্ব লন্ডনের মাইদাহ গ্রীল রেস্তোঁরার ব্যাংকোয়েটিং হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএলএ পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান সন্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা চৌধুরী।
ইফতারের আগে শিশুদের পরিবেশনা ছিল দিনের অন্যতম আকর্ষণ। পবিত্র কুরআন থেকে সুমধুর তেলাওয়াত করে শোনায় সিনদিদ আর তর্জমা করে অনুজ রাশদান। ভাষা দিবসের ইতিহাস ও এর তাৎপর্য তুলে ধরে অদ্রি আর আরিষা। জারা’র কণ্ঠে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ গান টি সবাইকে আবেগ আপ্লুত করে। পবিত্র রমজানের মাহাত্ম ও রোজার ফজিলতের উপর রুয়াইফি র তত্থবহুল বক্তব্যের পর রুহি, সায়হান, সিমিন, নাভীদ, নাবিল সহ শিশুদের সমবেত কণ্ঠে একটি না’তে রাসূল সবাইকে মুগ্ধ করে।
এরপর ইফতারের আগেই সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মাদ মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে রোজার মাহাত্ম্যের উপর আলোকপাত করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের গর্ব উল্লেখ করে তিনি মাতৃভাষায় ইসলাম শিক্ষার ও কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পরে ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের শহীদের মর্যাদা দান ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ব্যারিস্টার নাজির উদ্দিন চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন- ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্লাব এর বিধান গোস্বামী ও তানভীর আহমেদ এবং ডিইউ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের খালেদ মিল্লাত।
ইফতার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কার্যকরি পরিষদের পল্লবী, আতিকুর রহমান, কাজী আশিকুর রহমান, মাহবুব তোহা, বিভা মোশাররফ, সানজিদা খান, শফিকুর রহমান, আবু তাহের হামীম, সঞ্জয় কুমার রায় ও মনির চৌধুরী।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান ডিউএ, উইক এর সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সহ উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ও হারুনুর রশিদ। আরো ছিলেন প্রাক্তন ইলেকশন কমিশনার চৌধুরী হাফিজুর রহমান, শরিফ আমিন ও মোহাম্মাদ সাইফুর রহমান চৌধুরী।
Leave a Reply