শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৭

ইরানের যেসব অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মাথাব্যথা

ইরানের যেসব অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মাথাব্যথা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। একের পর এক এই হামলার পর প্রশ্ন উঠেছে—ইরান কী ধরনের সামরিক সক্ষমতা এখনও মজুদ রেখেছে এবং কী ধরনের অস্ত্র করছে। তা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও চলছে বিশ্লেষণ।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার রয়েছে ইরানের। কিছুটা পুরোনো প্রযুক্তির হলেও দেশটির হাতে অনেক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হাতে পারে।

কাছাকাছি থাকা লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানার জন্য ইরানের হাতে রয়েছে ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ফতেহ ভেরিয়েন্টের ‘জুলফিকার’, ‘কিয়াম-১’ এবং ‘শাহাব-১/২’ এর মধ্যে অন্যতম।

২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে হামলায় ইরান এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল।

ইরানের দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই মূলত যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ‘শাহাব-৩’, ‘ইমাদ’, ‘গদর-১’, ‘খোররামশহর’ এবং ‘সেজ্জিল’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইল ছাড়াও কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে সলিড ফুয়েলের ‘সেজ্জিল’ দ্রুত মোতায়েন করার উপযোগী হওয়ায় এটি ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

ইরানের হাতে রয়েছে ‘সুমার’, ‘ইয়া-আলি’, ‘কুদস’, ‘পাভেহ’ এবং ‘রাদ’-এর মতো ক্রুজ মিসাইল। আড়াই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘সুমার’ ক্ষেপণাস্ত্র মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন। ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে মিসাইল হামলা চালানো ইরানের একটি পরিচিত কৌশল।

ইরানের হাতে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নেভাল মাইন ও ড্রোন, যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো সম্ভব। ইরান দাবি করেছে, তাদের হাতে ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক মিসাইল রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন।

ইরান বছরের পর বছর ধরে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার গড়ে তুলেছে। মাটির নিচের এই বাঙ্কারগুলো ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মুখেও মাটির নিচের এই সুরক্ষিত ঘাঁটি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারবে ইরান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026