মানবিকতা, নেতৃত্ব এবং দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১১ বছর বয়সী সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি লেখিকা জয়নাব চৌধুরীর। নিজের লেখা বইয়ের সম্পূর্ণ বিক্রয়লব্ধ অর্থ গাজা ও ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অসহায় শিশুদের সহায়তায় দান করে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন সর্বমহলে।
লন্ডনের সিভিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এই কিশোরী লেখিকা এই রমজানে তার বই “My Journey Through Cayley Primary” বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ মোট পাঁচশত পাউন্ড হাউস অফ গিভিং নামক একটি মানবিক সংস্থার মাধ্যমে গাজা ও ইয়েমেনের ক্ষুদার্থ ও অসহায় শিশুদের জন্য ট্রাকের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা জন্য দান করেন।
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে এই অনুদান প্রদান করে জয়নাব একদিকে যেমন উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন, তেমনি অন্যদিকে মানবতার প্রতি তার গভীর দায়বদ্ধতার পরিচয় তুলে ধরেছেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজা ও ইয়েমেনের বহু পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবে, যা তাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জয়নাব বলেন, “আমি নিজেও একজন শিশু, তাই মনে হয়েছে অন্য শিশুদের জন্য কিছু করা উচিত। প্রতিটি শিশুরই মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার, শান্তিতে থাকার এবং শিক্ষা ও মৌলিক চাহিদা পাওয়ার অধিকার আছে।”
অল্প বয়সেই জয়নাব তার প্রতিভা, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একজন তরুণ অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি শিক্ষা ও মানবিক কাজ—উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন।
ঈদের মতো আনন্দঘন সময়ে তার এই মহৎ উদ্যোগ শুধু অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটায়নি, বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—বয়স কখনোই মানবিক কাজের জন্য বাধা নয়।
জয়নাব চৌধুরীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে, আগামী প্রজন্ম যদি সঠিক দিকনির্দেশনা পায়, তবে তারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
জয়নাব চৌধুরী হচ্ছেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সলিমবাড়ির হাসান চৌধুরী শিপনের বড় মেয়ে এবং ডেপুটি হেড টিচার রুনা বেগমের নাতনি।
Leave a Reply