শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬

ইরানের বৈদেশিক আয় বেড়ে দৈনিক ১৪ কোটি ডলার

ইরানের বৈদেশিক আয় বেড়ে দৈনিক ১৪ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে প্রায় এক মাস ধরে চলমান তীব্র সংঘাত সত্ত্বেও ইরানের বৈদেশিক আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি। বরং এই সময়েই দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করছে, যার প্রায় পুরোটাই আসছে তেল রপ্তানি থেকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের বরাতে জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা এ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ—বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও তরল গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই এই রুট দিয়ে যায়।

হরমুজ প্রণালিকে ‘বিশ্ব জ্বালানির প্রবেশদ্বার’ও বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এ পথেই তাদের পণ্য রপ্তানি করে থাকে। কিন্তু বর্তমান সংকটে অনেক দেশ বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য হয়েছে, কেউ কেউ আবার তেল উত্তোলনও কমিয়ে দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইরান। অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও ইরানের ‘ইরানিয়ান লাইট’ নামে পরিচিত জ্বালানি তেল তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে রপ্তানি হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল বিদেশে পাঠাচ্ছে। মূল ভূখণ্ড থেকে এই তেল প্রথমে খার্গ দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

ফলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ তেল বিক্রি করেই বেশি আয় করছে দেশটি। গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হতো, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

শুধু তেল নয়, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকেও রাজস্ব আদায় করছে ইরান। টোল বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার আয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রয়টার্স–কে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের একটি উদ্দেশ্য ছিল ইরানের তেল খাতকে চাপে ফেলা।

তবে বাস্তবে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপই ইরানের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026