রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:৪৮

আমিরাত-বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় চুক্তির উদ্যোগ

আমিরাত-বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় চুক্তির উদ্যোগ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে আবুধাবিভিত্তিক একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে। এ চুক্তি হলে আরব আমিরাতে বন্দি প্রায় পাঁচশ বাংলাদেশি দেশে ফিরে সাজার বাকি মেয়াদ পার করতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দিদের পরিচর্যা, পুনর্বাসন ও তাদের সঙ্গে ‘ভালো’ আচরণ করায় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের প্রশংসা করেছেন। তবে ভাষার কারণে অনেক বাংলাদেশি কয়েদিকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত ইমরান বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তি হলে সাজার মেয়াদ পেরোনোর পর তাদের জন্য একটি উন্নত জীবন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কারাগারে আমাদের বন্দিরা একাকিত্ব বোধ করেন এবং ভাষাগত সমস্যার কারণে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর মনোবল হারিয়ে ফেলেন। অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়।

দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরানকে উদ্ধৃত করে দ্য নাশনাল জানিয়েছে, আমরা এ চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে শিগগিরই চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ইমরান। চুক্তি সই হলে তাতে উভয় দেশের জনগণ লাভবান হবে বলেন তিনি।

তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আমি বাংলাদেশি কয়েদিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তারা দেশে বাকি সাজা কাটানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যাতে তারা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। রাষ্ট্রদূত জানান, শ্রমিক শিবিরে মারামারি, ঋণের অর্থ শোধে ব্যর্থতা ও চুরির মতো অপরাধে অনেকে দণ্ড ভোগ করছেন।  বড় ধরনের অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তির সংখ্যা খুবই কম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন কারাগারের সেকশন প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফ আল নুয়াইমির সঙ্গে রাষ্ট্রদূত ইমরানের সাক্ষাৎ হয়েছে এবং বন্দি বিনিময় চুক্তির ব্যাপারে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, চুক্তি হলে দণ্ডের মেয়াদ কমবে না। তবে পুনর্বাসনের জন্য তারা তুলনামূলক ভালো পরিবেশ পাবেন। তারা নিজেদের খাবার খেতে পারবেন এবং নিজের ভাষায় অন্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। আর এ সুবিধাগুলো তাদের মনোবল বাড়াবে। নিজ দেশের কারাগারে থাকলে তারা সহজে সমাজের মূলধারায় ফিরতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে একটি উন্নত জীবনের জন্য তারা মানসিকভাবে তৈরি হবেন। নতুন ধরনের কাজে তাদের দক্ষ হয়ে ওঠারও সুযোগ থাকবে।

দণ্ডের মেয়াদ শেষ হলে অধিকাংশ বাংলাদেশিকেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়।  এক্ষেত্রে আরব আমিরাত সরকারই তাদের দেশে আসার ব্যয় বহন করে। কারো কোনো ধরনের পরিচয়পত্র না থাকলে দূতাবাস থেকে তাদের শুধু দেশে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়। নতুন এই চুক্তি হলে বাংলাদেশি বন্দিদের দেশে ফেরার খরচ দুই দেশকেই দিতে হবে বলে রাষ্ট্রদূত ইমরান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি আরব আমিরাতের কয়েকটি কারাগার পরিদর্শনের পর রাষ্ট্রদূত ইমরান বন্দি বিনিময় চুক্তির জন্য তৎপরতা শুরু করেন বলে জানায় ন্যাশনাল। তিনি বলেন,  আরব আমিরাতের কোনো নাগরিক বাংলাদেশের জেলে আছেন কি না সে বিষয়ে তার জানা নেই।  তবে কেউ থেকে থাকলে চুক্তি অনুযায়ী তিনিও একই সুবিধা পাবেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026