শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাউন্সিল সদস্য নির্বাচনে প্রার্থিতার পক্ষে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা প্রচার চালিয়ে গেলেও তাতে অনুপস্থিত বাংলাদেশ। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে আইটিইউর সম্মেলনে হবে এই নির্বাচন। এতে বাংলাদেশও অংশ নিচ্ছে। তবে প্রচারণায় পিছিয়ে রয়েছে।
ওই নির্বাচন নিয়ে গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন ডেভলপমেন্ট কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এ অঞ্চলে আইটিইউর নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। দুবাই সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী কেউ অংশ নেননি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তিনজন সরকারি কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ থেকে আসা বিটিআরসি সচিব মাহবুব আহমেদ অবশ্য দাবি করেছেন, তারাও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের পক্ষ থেকেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের সুভেনির সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে আসা এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত কাউন্সিল সদস্য নির্বাচনে প্রার্থিতার পক্ষে মন্ত্রীদের প্রচারণা বেশি কাজে দেয়। কর্মকর্তাদের প্রচারণা সীমিত পরিসরে, তারা তো মন্ত্রী পর্যায়ে প্রচার চালাতে পারেন না। বাংলাদেশ থেকে সম্মেলনে অংশ নেয়া অন্য দুজন হলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ সালেহ উদ্দিন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফকরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
এর আগে ২০১০ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো আইটিইউর কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। তারও আগে ১৯৭৩ সালে পায় সাধারণ সদস্যপদ। গত নির্বাচনে এশীয় অঞ্চলের ১৩টি পদের জন্য ১৭টি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে ১২৩ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ স্থান লাভ করে বাংলাদেশ। ২০১০ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদে ডব্লিউটিডিসি-২০১০ সম্মেলনে তৎকালীন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর নেতৃত্বে ১১ সদস্যর প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছিল।
এই সম্মেলনে আইটিইউ সদস্য ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১৩০টির ৫০ জন মন্ত্রী এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন সরকারি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্রডব্যান্ড (ব্রডব্যান্ড ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট) এবারের সম্মেলনের মূল বিষয়। সম্মেলনে মন্ত্রীরা নিজেদের দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরছেন। ইন্টারনেট সহজলভ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পাচ্ছে তাদের আলোচনায়।