মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৬:৩৬

হবিগঞ্জের গোলাবারুদের সঙ্গে ১০ ট্রাক অস্ত্রের মিল রয়েছে

হবিগঞ্জের গোলাবারুদের সঙ্গে ১০ ট্রাক অস্ত্রের মিল রয়েছে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জে ভারত সীমান্তে পাহাড়ি বনে পাওয়া বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদের সঙ্গে ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে আটক ১০ ট্রাক অস্ত্রের মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়িতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে টিলার ওপর কূপ করে তার ভেতরে বাংকারে রাখা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চলে। আগের দিন অভিযানে প্রায় ২০০ কামান বিধ্বংসী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গোলা পাওয়ার পর এদিন অস্ত্রের পাশাপাশি প্রায় ১৩ হাজার গুলিও পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের মুখপাত্র এটিএম হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, টিলাগুলোতে মোট সাতটি বাঙ্কারের সন্ধান পেয়েছেন তারা। সেগুলোর মধ্যে তিনটি থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি ও ভারী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে চারটি মেশিনগান, একটি রকেট লঞ্চার, মেশিনগানের পাঁচটি ব্যারেল, একটি রাইফেল, ২২২টি কামানের গোলা ও  তা ছোড়ার কাজে ব্যবহারের ২৪৮টি চার্জ এবং বিভিন্ন ধরনের ১১ হাজার ৮৬৪টি গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি। এছাড়া মেশিনগানের ১৯ ড্রাম চেইন,১৯টি ম্যাগজিন, অস্ত্র সচল রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

উইং কমান্ডার হাবিব বলেন, ২০০৩ সালের ২৭ জুন বগুড়ায় এক ট্রাক গুলি এবং ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে আটক ১০ ট্রাক অস্ত্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া এসব গোলাবারুদের সাদৃশ্য রয়েছে। চট্টগ্রামে আটক ১০ ট্রাক অস্ত্র আসামের বিদ্রোহী দল উলফার জন্য আনা হয়েছিল বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলার রায়ে উলফার সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জের যে স্থানে গোলাবারুদ পাওয়া গেছে, তা এক সময় অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্সের (এটিটিএফ) আস্তানা ছিল বলে মনে করা হয়। ত্রিপুরার এই বিদ্রোহী দলটি এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, এটিটিএফের এই আস্তানাটি উলফাও অস্ত্র পাচারের জন্য ব্যবহার করত। বর্তমানে পলাতক পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে এটিটিএফের কারাবন্দি নেতা রঞ্জিত দেবর্মার ঘনিষ্ঠতা ছিল।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ২০০৩ সালে বগুড়ায় যে এক ট্রাক গুলি পাওয়া গিয়েছিল, সেই ট্রাকের চালকের বাড়ি হবিগঞ্জের এই এলাকায়। এই গোলাবারুদের সঙ্গে ভারতের বিদ্রোহী দুই সংগঠনের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিললেও এখনি কোনো সিদ্ধান্ত টানতে চান না উদ্ধার অভিযানে থাকা র‌্যাবের কর্মকর্তারা।

এই অস্ত্র মজুদের সঙ্গে কারা জড়িত তা এখনি বলা যাচ্ছে না। তদন্তের মাধ্যমে তা উদঘাটন করা হবে, বলেন র‌্যাব মুখপাত্র হাবিব। যে টিলায় অভিযান চলছে, সেখানে বসতি থাকলেও পুরুষ বাসিন্দারা সবাই পালিয়ে গেছেন। তবে রয়েছেন নারী ও শিশুরা।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান অবশ্য বলেছেন, এলাকার পুরুষ মানুষেরা চলে গেলেও তারা নজরদারি মধ্যে আছে। প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ঠিক সামনে টিলার ওপর গড়ে তোলা অর্ধশত ঘর। এই এলাকাটি টিপড়াপাড়া হিসাবে পরিচিত, সেখানেই চলছে অভিযান।

গত ৩/৪দিন ধরে র‌্যাবের আনাগোনা এবং মঙ্গলবার থেকে অভিযানের পর বুধবার দুপুরে বাড়িগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো পুরুষ মানুষ নেই। কয়েকজন নারী এবং শিশুর দেখা মিললেও সাংবাদিক দেখে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয় তারা। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর সোনাকানি তন্তুবাই নামে একজন কথা বলতে রাজি হলেন। তিনি জানান, এই টিলায় স্বামী-সন্তান নিয়ে ২৬/২৭ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন তিনি।

এই নারী বলেন, কয়েক বছর আগে এখানে সেনাবাহিনী এবং বিজিবি অভিযান চালিয়ে কয়েকজন আটক করেছিল। তবে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাওয়া গিয়েছিল কি না, তা তার জানা নেই।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026