রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১০:৩৮

বড়লেখার যুবক ব্রাজিলে খুন

বড়লেখার যুবক ব্রাজিলে খুন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সুড়িকান্দি গ্রামের টিল্লা বাড়িরর আব্দুল হক ও রহিমা বেগমের পুত্র জাহেদ আহমেদ (২৮) সাওপাওলো থেকে ৭১১ কিলোমিটার দক্ষিণে প্যারাগুয়ের কাছে পারানা রাজ্যের রাজধানী সিয়া নর্থের কুজেরিয় গ্রামে খুন হয়েছেন এ ঘটনায় আতংক দেখা দিয়েছে ব্রাজিলে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে।

জানা যায়, গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় জাহেদ বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরিত্যক্ত এক বাড়ি থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানান। পরে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাওয়া যায় জাহেদের লাশ। জাহেদের মৃত্যুর খবরে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। জাহেদের মা-বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কেই তাদের সান্তনা দিতে পারছেন না।

গত ১ জুলাই জাহেদের লাশ হাসপাতাল থেকে গ্রহন করেন প্রবাসী বাংলাদেশী বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুরের বিহাইডর গ্রামের ছাদেক আহমদ। পরে ওই দিন পারানা রাজ্যের লনড্রিনায় জানাজা শেষে স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে তার লাশ দাফন করা হয় বলে নিহতের পরিবার ও প্রবাসীরা জানায়।

নিহতের পরিবার, ব্রাজিল প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে জীবিকার সন্ধানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে ব্রাজিল পাড়ি জমান জাহেদ। ব্রাজিলে যাবার প্রায় ৪ মাস পর তিনি বৈধ ভাবে কাজ করার একটি কার্ড পান। সেখানে তিনি একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করতেন। গত ২৭ জুন শুক্রবার শেষ বাড়িতে মায়ের সাথে ফোনে কথা হয় তার। এ সময় সে তার মায়ের শারীরিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেয় এবং মাকে চিকিৎসা করানোর জন্য ভাইদের বলে। রমজান উপলক্ষে বাড়িতে টাকা পাঠাবে বলেও নিহত জায়েদ তার পরিবারকে জানান।

এদিকে, জাহেদ খুনের ঘটনায় পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। জাহেদের মা-বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কেউই তাদের সান্তনা দিতে পারছেন না। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জাহেদ তৃতীয়। জাহেদের মা রহিমা বেগম জানান, ঘটনার একদনি আগে গত শুক্রবার (২৭ জুন) জাহেদের সাথে মোবাইল ফোনে আমার কথা হয়েছে। সে আমার চিকিৎসা ও রমজানের খরচের জন্য টাকা পাঠাবে বলে বলেছিল। কিন্তু আমার ছেলে আর আমাকে আর মা বলে ডাকবে না, আর কোনদিন টাকা পাঠাবে না। আমি বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

জাহেদের পরিবার থেকে বলা হয় যে,তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছেন। প্রথমে জানতে পারেন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। পরে জানতে পারেন তারাবির নামাজ পড়তে বের হয়ে আর সে বাসায় ফিরে আসেনি। পরে একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে তার লাশ পাওয়া গেছে। কিন্তু কে বা কারা কী কারনে জাহেদকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন তথ্য তাদের জানা নেই। এদিকে, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আবুল হাশেম গণমাধ্যমকে জানান, ব্রাজিলে বাংলাদেশী যুবক খুন হওয়ার কোন তথ্য তারা পাননি।

ব্রাজিলে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশী জানান, গত ২৮ জুন জাহেদ বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে সাওপাওলো থেকে ৭১১ কিলোমিটার দক্ষিণে প্যারাগুয়ের কাছে পারানা রাজ্যের রাজধানী সিয়া নর্থের কুজেরিয় গ্রামের একটি পরিত্যক্ত এক বাড়িতে তার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় ব্রাজিলের বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু কি কারনে জাহেদ খুন হয়েছেন সে বিষটি সঠিক ভাবে কেউ বলতে পারছে না।

তবে জানাজায় উপস্থিত একটি সুত্র জানায়, তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। ধারনা করা হচ্ছে তাকে হয়তো শ্বাস রোধে হত্যা করা হয়েছে। আর অন্য একটি সুত্র জানায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে জাহেদ নিহতের পরদিন একই জায়গায় সিলেটর গোলাপগঞ্জের সোহেল নামের এক যুবক ছিনতাইকারীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পঞ্জা লড়ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026