রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৩

জিহাদি যুদ্ধে অংশ নেয়ার তালিকায় ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণ

জিহাদি যুদ্ধে অংশ নেয়ার তালিকায় ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণ

নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ সরকারের সর্বশেষ তৈরি সন্ত্রাসী তালিকায় এবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়ার (আইএসআইএস) জিহাদি আব্দুল রাকিব আমিনের নাম উঠে এসেছে। সোমবার ব্রিটিশ হোম অফিস প্রকাশিত সর্বশেষ তৈরি ২৫ জনের শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকায় আমিনের নাম রয়েছে ৬ নম্বরে।

গোয়েন্দাদের ধারণা, রাকিব আমিন ব্রিটেনে সন্ত্রাসী আক্রমণের ষড়যন্ত্র বা এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অর্থ জোগানে সক্রিয় রয়েছেন। আর তাই, রাকিবসহ তালিকাভুক্ত অন্যান্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দসহ তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্রিটেন। গত মাসে প্রচারিত ভিডিও বার্তায় রাকিব নিজেকে ব্রাদার আবু বারা আল হিন্দি নামে পরিচয় দেন। স্কটল্যান্ডের আবার্ডিনে লেখাপড়া করা রাকিবের পরিবার বছর দুয়েক আগে এ শহর ছেড়ে অন্যখানে চলে যায়। তাদের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়।

প্রকাশিত সন্ত্রাসী তালিকায় রাকিবের পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, রুহুল আমিন নামে পরিচিতি আব্দুল রাকিব আমিন আব্দুল রাকিব বারা আল হিন্দি নামেও পরিচয় দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রাকিবের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় বলে উল্লেখ করা হয়। আর ব্রিটেনের ঠিকানা হিসেবে স্কটল্যান্ডের আবার্ডিনের কথা জানানো হয়, হোম অফিসের সন্ত্রাসী তালিকায়। রাকিবের ব্রিটিশ পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে এ তালিকায়।

২৫ বছর বয়সী রাকিব আমিন সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় সিরিয়া ও ইরাকের চলমান গৃহযুদ্ধে দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া  (আইএসআইএস/আইএসআইএল) জিহাদিদের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান ব্রিটিশ মুসলিম তরুণদের। তিনি নিজেও বর্তমানে এই যুদ্ধে নিয়োজিত রয়েছেন। পশ্চিমা সরকারগুলো আইএসআইএসকে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের ধারণা, এই সংগঠনটি আল-কায়েদার চেয়েও ভয়ঙ্কর। সম্প্রতি, এই সংগঠনটি ইরাকেও সরকারবিরোধী সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে। সিরিয়ার পর এখন ইরাকের এই যুদ্ধে যোগদানের জন্য মুসলিম তরুণদের  আহ্বান জানাচ্ছে সংগঠনটি।

এদিকে, সোমবার আইটিভির গুডমর্নিং ব্রিটেন প্রোগ্রামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত শীর্ষ জিহাদি রাকিব আমিন জানান, খেলাফত প্রতিষ্ঠার যে উদ্দেশ্য নিয়ে  সংগ্রাম শুরু করেছেন, সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম থামবে না। রাকিব অঙ্গীকার করেন, হয় খেলাফত, নয় মৃত্যু; এই লক্ষ্যেই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। আইটিভি প্রোগ্রামে রাকিব জানান, ইন্টারনেটের মাধ্যমেই তিনি আইএসআইএস জিহাদে নিযুক্ত হয়েছেন। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে তিনি মৃত্যুর জন্যও প্রস্তুত হচ্ছেন। জিহাদের উদ্দেশ্যে ব্রিটেন ছাড়ার মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম একটি খুশির সময় হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই ব্রিটিশ তরুণ বলেন, আল্লাহর নির্দেশেই আমি জিহাদের উদ্দেশ্যে ব্রিটেন ছেড়েছিলাম। আমার সবকিছু আমি আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিতে চাই।

তিনি জানান, জিহাদের উদ্দেশ্যে ব্রিটেনের গেটউইক বিমানবন্দর থেকে তাদের প্লেন উড়াল দেওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের অন্যতম একটি খুশির সময়। রাকিব মন্তব্য করেন, আমি তখন খুবই খুশি ছিলাম। একজন মুসলমান কখনো কোনো কাফিরের দেশে থাকতে পারে না। তিনি আইটিভি প্রোগ্রামে আরো জানান, তিনি ঘর ছেড়েছিলেন ঘরে আর না ফেরার লক্ষ্য নিয়ে। তিনি বলেন, আমি ওই যুদ্ধে যাচ্ছি। খেলাফত প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ শেষ হবে না; হয় খেলাফত, নয় মৃত্যু।

আইটিভি প্রোগ্রামে রাকিব জানান, অস্ত্র চালানোয় তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আগে জানতাম না কীভাবে অস্ত্র চালাতে হয়! আমরা সবাই ট্রেনিং ক্যাম্পে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর আবারও ইসলামিক ট্রেনিং ক্যাম্পে ট্রেনিং নিই। রাকিব জানান, তিনি কয়েকটি অপারেশনেও অংশ নিয়েছেন। প্রথমটি ছিল, আর্মির বিরুদ্ধে একটি অপারেশন। ওই অপারেশনে তারা আর্মির দুটো ট্যাঙ্ক দখল করেছিলেন।

জিহাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি নিজ থেকেই এমন মন্তব্য করে রাকিব জানান, নিজ শহর আবার্ডিন মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে তার মতো জিহাদের প্রতি আগ্রহী এমন মানসিকতার একজন মানুষও তিনি পাননি। রাকিবের মন্তব্য, আবার্ডিন মসজিদ থেকে জিহাদ সম্পর্কে আমি কিছুই জানতে পারিনি। যতটুকু জেনেছি, ইন্টারনেটসহ অন্যান্য মাধ্যমে, আমার নিজের চেষ্টায়। তিনি বলেন, আবার্ডিন মসজিদ জেহাদি মতবাদে বিশ্বাসী নয়। এই মসজিদটির অবস্থান সব ধরনের উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে।

এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ব্রিটিশ জিহাদিদের অপতৎপরতায় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বেগের পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্রিটিশ মুসলিম জিহাদিদের বিষয়ে ব্যাপক নজরদারি শুরু করেছে। উগ্রপন্থার প্রতি ঝুঁকেপড়া এই তরুণদের ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি বিবেচনা করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই নজরদারি শুরু করে। সম্প্রতি, তিন ব্রিটিশ মুসলিম তরুণের একটি ভিডিও বার্তা প্রচারিত হওয়ার পরই জিহাদিদের নিয়ে শুরু হয়, তোলপাড়।

সিরিয়ায় প্রায় তিন বছর ধরে শিয়া সমর্থিত আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সুন্নি মুসলিম গোষ্ঠী লড়াই করে যাচ্ছে। এ সুযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কট্টরপন্থি সুন্নি গোষ্ঠীগুলো ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েমের নামে সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি গোষ্ঠী হলো দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া  (আইএসআইএস)। তারা ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা দখল করে খেলাফত রাষ্ট্র (ইসলামিক রাষ্ট্র) ঘোষণা করে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025