শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: শাহ আব্দুল করিম সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সহিদ প্রথম রানার্স আপ হয়েছেন জয়নাল ও দ্বিতীয় রানার্স আপ হয়েছেন শাহ টুনু মিয়া। গত রবিবার জাকজমকপূর্ণ ভাবে অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো শাহ আবদুল করিম সঙ্গীত প্রতিযোগিতা। শাহ আবদুল করিমের গান,জীবন ও দর্শনের উপর ভিত্তি করে আর্ন্তজাতিকমানের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র তৈরীর পরিকল্পনা ও হাতে নিয়েছে সেলিব্রেশন অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি কালচার।আমন্ত্রিত অতিথিরা ও আয়োজকরা ছবি নির্মাণের অর্থের যোগান দেবার প্রতিশ্রুতি ও দিয়েছেন। পাশাপাশি সিলেটে কালচারাল ইনিষ্টিটিউট নির্মানের কাজও এগিয়ে নেয়ার চলছে বলে জানিয়েছেন কতৃপক্ষ।
ব্রিটেনের জনপ্রিয় উপস্থাপক উর্মি মাজহার, ফারহান মাসুদ, আমিন রাজা ও নাদিয়া আলীর মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনায়, সেলিব্রেশন অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি কালচারের উদ্যাগে,অক্সফোর্ডশ্যায়ারে হেইথ্রোপ পার্ক রিসোর্ট এর বল রুমে ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশত অতিথি দিনভর গানে আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন।
বাংলাদেশের সঙ্গীত, লোক ঐহিত্য সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ব্রিটেনে কাজ করছে সেলিব্রেশন অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি কালচার। বিকাল ৩ টা থেকে শুরু হয় মূল প্রতিযোগীতা। আয়োজনে অংশ নেয়া ২০ জন প্রতিযোগির মাঝ থেকে উপস্থিত অতিথিরা ডিজিটাল ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের মতামত জানান। বিচারকের মঞ্চ আলোকিত করে ছিলেন প্রবাসী শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী, আলাউর রহমান, বাংলাদেশ থেকে আগত সেলিম চৌধুরী ও আশিক।
বিচারকরা গান শুনে তাদের মতামত দিয়েছেন কিন্তু তাদের হাতে কোন মার্ক ছিলো না। শুধু মাত্র দর্শক দের ভোটেই প্রতিযোগীদের ভাগ্য নির্ধারন হয়। ২০ জন থেকে দর্শকদের ভোটে নির্বাচিত হন ১০ জন সেমিফাইনালিষ্ট, সেখান থেকে আবার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন ৫ জন ফাইনাল রাউন্ডের জন্য। পরে ৫ জন থকে দর্শক বেছে নেন তাদের প্রিয় শিল্পী কে। প্রত্যেক পর্বে গান গেয়ে দর্শকদের মন জয় করে চুড়ান্ত পর্বে আসতে হয়েছে প্রতিযোগীদের। বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে বাংলাদশের বাইরে এতো বড় পরিসরে কোন উৎসবের আয়োজন এর আগে হয়নি।
তাছাড়া আনোয়ার চৌধুরী পেরুর এম্বেসডর হিসাবে যোগ দিতে যাচ্ছেন,তার এই অর্জনকে বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশ হিসাবে উযযাপন করতেই সংগঠনটি করিমের প্রিয় গানগুলো ইউরোপের জনপ্রিয় শিল্পীরা গেয়ে শুনান। সেখান থেকে দর্শকরা বেছে নিলেন ব্রিটেনের নতুন প্রজন্মের আবদুল করিমের গানের সেরা শিল্পী বাউল সহিদ কে। বিজয়ী শিল্পীর হাতে ১০ হাজার পাউন্ডের চেক তুলে দেন এর স্পন্সর ক্লিফটন গ্রুপের সিরাজ হক ও আল হারামাইন গ্রুপের মোহাম্মদ মাহাতাবুর রহমান।
প্রথম স্থান অর্জনকারী সহিদ যিনি ব্রিটেনে বাউল সহিদ নামে পরিচিত তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, আমার সঙ্গীত জীবন সার্থক হলো, দর্শকদের ভালোবাসার কাছে ঋণী হয়ে গেলাম, বাউল সম্রাটের গান গাইবার মতো ক্ষমতা আমার নেই, সেই শিল্পী আমি হতে পারিনি, তবু চেষ্টা করে যাবো এই ভালোবাসার দাম দেয়ার।
ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর আব্দুল আজিজ চৌধুরী বলেন, সফল ভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন করতে পেরে সত্যিই আমরা আনন্দিত। প্রথম আয়োজন এতো সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পেরে ভালো লাগছে এবং আগামী বছর আরো ব্যাপক পরিসরে লালন উৎসব উদাযাপনের প্রেরণা পেয়ে গেলাম।