রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৮

ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতিতে চট্টগ্রাম বন্দর

ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতিতে চট্টগ্রাম বন্দর

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)’র জন্য প্রায় ১২শ’ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে সংসদীয় কমিটির আগামী বৈঠকে আলোচনার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। আর এই অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এনসিটি পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয়-প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনাকালে বিষয়টি উঠে আসে। ওই বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত আলোচনা উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ লতিফ।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য এম এ লতিফ জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে ইতোমধ্যে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে এনসিটি পরিচালনার জন্য ৬৫টি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে ওই ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়।

এছাড়া কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্দরের অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে আগামী বৈঠকে আলোচনা হবে। সেক্ষেত্রে বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলেও তিনি জানান। সংসদীয় কমিটিতে আনা অভিযোগে জানা গেছে, সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সরকারি ক্রয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ২০ বছরের পুরনো তিনটি লঞ্চ তিনগুণ বেশি দাম দিয়ে ৫৫ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে। কোনো অপারেটর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কন্টেইনার পরিবহনে ওই জাহাজ তিনটি ব্যবহারে রাজি না হওয়ায় গত এক বছর ধরে তা অলস পড়ে রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে সিটিএমএস সরবরাহ, স্থাপন, টেস্টিং ও চালুকরণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২০১২ সালে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই তদন্তে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ সিঙ্গাপুরস্থ এসটি ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এরপর কোনো কাজ না করলেও ওই কোম্পানিকে ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ভেসেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম প্রকল্প গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই সিস্টেমের টাওয়ার আগে বন্দর ভবনের উপরে বসানোর কথা থাকলেও পরে তা ভবনের নিচে স্থাপন করা হয়। আর এজন্য অতিরিক্ত এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। বন্দরের অটোমোশন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম তদন্তে বেরিয়ে এলেও এই প্রকল্পে ব্যয় অব্যাহত রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগে জানা গেছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ চলতি বছরে একটি ড্রেজারমিশন কিনেছে ২০ কোটি টাকারও বেশি দিয়ে। আর একই ড্রেজার কিনতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি টাকারও কম। আর একই ব্যক্তির মালিকানাধীন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তা সরবরাহ করেছে।

ওয়াটার মাস্টার ক্লাসিক ফোর’ নামের ওই যন্ত্রটি ক্রয়ে বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া অরুণ এন্টারপ্রাইজ ও মাল্টিটেক নামে দু’টি প্রতিষ্ঠানের মালিক একজন হলেও গত দুই বছরে একের পর এক কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে টেন্ডারমূল্য ২৫ টাকার নীচে রেখে সমঝোতার মাধ্যমে এই কার্যাদেশ দিয়ে মূলত সরকারি অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024