বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৪

জালিয়াতি করে ব্রিটেনের ব্যাংক থেকে ১৬০ হাজার পাউন্ড উধাও

জালিয়াতি করে ব্রিটেনের ব্যাংক থেকে ১৬০ হাজার পাউন্ড উধাও

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ পুলিশের হিসেব মতে রোমানিয়ার প্রতারক চক্র ১৬০ হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নিয়েছে এটিএম মেশিনের মাধ্যমে। সেই টাকা তারা বিভিন্ন মানি এজেন্সির মাধ্যমে পানামা, রুমানিয়া, ইতালি, কলম্বিয়া প্রভৃতির দেশের মাধ্যমে ভাগ ভাগ করে ছোট ছোট ট্রান্সফার করে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এই সব জালিয়াতি রোধের জন্য ব্যাংকের ফান্ডের মাধ্যমে ডেডিকেটেড চেক এন্ড প্লাস্টিক ক্রাইম ইউনিট গত ১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে এই ইউনিট ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড জালিয়াতি সেভ করতে সক্ষম হয়েছে। রুমানিয়ার এই জালিয়াতি চক্রকে এই ইউনিটই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ২০১৩ সালে ইউকেতে ৪৫০ মিলিয়ন কার্ড ফ্রড হয়, যা বর্তমানে ১৩ পার্সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, তাদের প্রতারণার কৌশল অভিনব, যা রীতিমতো হলিউডের সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। সমস্ত আধুনিক টেকনোলজিকে পেছনে ফেলে দিয়ে তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ব্রিটেনের ৬০ হাজার কাস্টমারের ব্যাংক ডিটেইলস, এমনকি এই ৬০ হাজার কাস্টমারের কার্ডের পিন নম্বর ও হুবহু কার্ডের কার্বন কপিও তাদের কাছে আছে।এন্টি-থেফট স্ক্যানার ও লেজার প্রটেক্টকেও তারা অতি সহজে হারিয়ে দিয়েছে।
এক্সপার্টরা বলছেন, পুলিশের হিসেবের চাইতে আরো অধিক পরিমাণ টাকা তারা এটিএম বুথের মাধ্যমে উঠিয়ে নিয়েছে। এই গ্যাংরা পূর্ব ইউরোপের রুমানিয়া থেকে ব্রিটেনে আসে। তারা গতকাল পুলিশের রেইডে ধরা পড়ার আহ পর্যন্ত এটিএম বুথে যেকেউ তার ব্যাংকের কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা উঠালেই সঙ্গে সঙ্গে তারা সেই ডেভিড ও ক্রেডিট কার্ডের একেবারে হুবহু কার্বন কপি কার্ড বানাতে সক্ষম হতো, এমনকি তাদের বিশেষ সেই সিস্টেমের মাধ্যমে তারা কার্ডের ডিটেইলস সহ পিন নম্বরও জেনে নিতো।
শুধু তাই নয় কার্ডের মাধ্যমে পিন নাম্বারে ট্রানজেকশন সাকসেস হওয়ার পরেও কাস্টমার সেই টাকা এটিএম মেশিন থেকে বের করে যাতে নিতে না পারেন তারা সেই ডিসপাস স্থানেও ব্যাংকের অজান্তে নিজেদের সফট ওয়ারের দ্বারা বানানো এমন এক বিশেষ আটার পাতা স্থাপন করে রাখতো যা টাকা ডিসপাসের সময় আটকে যেতো, কাস্টমার পেতেননা, বিরক্ত হয়ে চলে যেতেন, কারণ ট্রানজেকশন সফল বা কেনসেল ডিসপ্লে ম্যাসেজ দেখে, অথচ এই প্রতারক চক্র তখন সেই মানি ডিসপেন্সার আউট লয়ে থেকে বের করে নিয়ে আসতো অনায়াসে, যা ব্যাংকের হাই সিকিউরিটি ক্যামেরা ও লেজারেও তা ধরা পড়তোনা।

এভাবেই তারা এবং আরো কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে কাস্টমারদের ডেভিড ও ক্রেডিট কার্ড থেকে ১৬০ হাজার পাউন্ড এটিএম মেশিন থেকে উত্তোলন করেছে গত ১৬ থেকে ২৪ মাসে। আজ আদালতে তা স্বীকার করেছে। চার সদস্যের এই প্রতারক চক্রকে ৬৪ মাসের সেন্টেন্স দিয়েছেন আদালত।

এই প্রতারক চক্র লন্ডনের হারোতে তাদের বাসায় পুলিশ রেডের সময় গত ডিসেম্বরে ধরা পরে।চার সদস্যের এই টিমে একজন মহিলাও ধরা পড়েছে। তাদের সাথে আরো দুই মহিলা প্রতারক রয়েছে, তারাও ধরাও পড়েছে অবশেষে। পুলিশের মতে ৯৫৩ ব্যাংক একাউন্ট থেকে তারা টাকা প্রতারণার মাধ্যমে উঠিয়ে নিয়েছে, ৩৬ হাজার ব্যাংক কাস্টমারের কার্ড একাউন্ট থেকে এটিএম মেশিন ব্যবহার করে গড়ে প্রতিদিন ৪৫০ পাউন্ড করে উত্তোলন করেছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025