সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫

না ভোট জয়ী হওয়ায় ইংল্যান্ডের সঙ্গেই থাকছে স্কটল্যান্ড

না ভোট জয়ী হওয়ায় ইংল্যান্ডের সঙ্গেই থাকছে স্কটল্যান্ড

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়া ‘না’ ভোটের সমর্থকরা তাদের পক্ষে ফলাফল ঘোষণায় আনন্দ প্রকাশ করছে। গ্লাসগোর ‘বেটার টুগেদার’ প্রচারণার সদরদপ্তরের দৃশ্য। -রয়টার্স

সুমন আহমেদ, এডিনবারা, স্কটল্যান্ড থেকে: যুক্তরাজ্যের সঙ্গেই থাকার রায় দিল স্কটল্যান্ডের জনগণ। ঐতিহাসিক গণভোটে প্রত্যাখ্যাত হল ৩০৭ বছরের পুরনো ব্রিটিশ ইউনিয়ন ভেঙে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা। ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নিয়ে স্বাধীনতা প্রত্যাখ্যান করলো স্কটল্যান্ডের জনগণ।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়া ‘না’ ভোটের সমর্থকরা তাদের পক্ষে ফলাফল ঘোষণায় আনন্দ প্রকাশ করছে। গ্লাসগোর ‘বেটার টুগেদার’ প্রচারণার সদরদপ্তরের দৃশ্য। -রয়টার্স

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্কটল্যান্ড আত্মপ্রকাশ করবে কি না তা নিয়ে হ্যাঁ ও না ভোটের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার দিনভর ঐতিহাসিক গণভোটে ভোট দেয়ার জন্য প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। না ভোট জয়ী হলে স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সঙ্গেই থাকবে, আর হ্যাঁ জয়ী হলে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ হতো স্কটল্যান্ডের।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়া ‘না’ ভোটের সমর্থকরা তাদের পক্ষে ফলাফল ঘোষণায় আনন্দ প্রকাশ করছে। গ্লাসগোর ‘বেটার টুগেদার’ প্রচারণার সদরদপ্তরের দৃশ্য। -রয়টার্স

এই ফলাফল লাখ লাখ ব্রিটনের মতো প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকেও স্বস্তি এনে দিল। স্কটল্যান্ডের গণভোট নিয়ে ডেভিড ক্যামেরনের প্রধানমন্ত্রিত্ব হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি দেশটির মিত্ররাও যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য ভাঙ্গনের শঙ্কায় পড়েছিলেন। স্কটল্যান্ডের ৩২টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩১টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়ার পক্ষে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর স্বাধীনতাকামীরা পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ ভোট।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়া ‘না’ ভোটের সমর্থকরা তাদের পক্ষে ফলাফল ঘোষণায় আনন্দ প্রকাশ করছে। গ্লাসগোর ‘বেটার টুগেদার’ প্রচারণার সদরদপ্তরের দৃশ্য। -রয়টার্স

আশা করা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের রাণী এলিজাবেথ ও প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এই ফলাফল উপলক্ষ্যে বিবৃতি দেবেন। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষগোষ্ঠী সবচে বড় শহর গ্লাসগোতে জয় লাভ করলেও অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় প্রত্যাশিত ফল লাভে ব্যর্থ হয়।

কিন্তু শুক্রবার ৩১টি নির্বাচনী এলাকার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, না ভোটই জয়যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ স্কটিসরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গেই থাকতে চায়। স্কটল্যান্ডের ৪২,৮৫,৩২৩ জন ভোট দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন যা মোট ভোটের ৯৭ শতাংশ। দেশটির ৩২টি কাউন্সিলের নাগরিকরা এই ভোটে অংশ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় রাত ১০টায়। দেশটির ২৬০৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলে। স্কটিস ন্যাশনালিস্ট পার্টির উপনেতা নিকোলা স্টারগেওন দাবি করেছেন, দেশজুড়ে হাজারো মানুষের মতো আমিও সর্বাত্মকভাবে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছি। কিন্তু হতাশার সঙ্গে জানাতে হচ্ছে আমরা খুব স্বল্প ব্যবধানে হেরে যাচ্ছি। স্বাধীনতার পক্ষগোষ্ঠী যেখানে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বিপরীতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়া গোষ্ঠী ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দ আর উল্লাসে মেতে উঠছে।

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকারী একজন ফলাফল বিপক্ষে যাওয়ায় হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন। গ্লাসগোর জর্জ স্কয়ার থেকে তোলা ছবি। -রয়টার্স

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকারী একজন ফলাফল বিপক্ষে যাওয়ায় হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন। গ্লাসগোর জর্জ স্কয়ার থেকে তোলা ছবি।

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকারী একজন ফলাফল বিপক্ষে যাওয়ায় হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন। এডিনবার্গে স্কটিস পার্লামেন্টের সামনে থেকে তোলা ছবি। -রয়টার্স
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণাকারী একজন ফলাফল বিপক্ষে যাওয়ায় হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন। এডিনবার্গে স্কটিস পার্লামেন্টের সামনে থেকে তোলা ছবি।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্য মতে, প্রতিটি প্রশাসনিক এলাকার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, স্কটল্যান্ডের কি স্বাধীন দেশ হওয়া উচিত? শীর্ষক গণভোটে না ভোট পড়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৯২৬টি, যা মোট ভোটের ৫৫.৩০ শতাংশ। আর হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৯টি, যা মোট ভোটের ৪৪.৭০ শতাংশ। আর ভোট পড়েছে মোট ৮৪.৬ শতাংশ।কোনো পক্ষকে এই গণভোটে জিততে হলে ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮২৮টি ভোট পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। সে হিসেবে ‘অবিভক্ত যুক্তরাজ্যে’র পক্ষের না ভোটই জয় লাভ করলো।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026