নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের পর মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য লোভনীয় সেই শ্রমবাজার প্রায় দুই বছর ধরে পুরুষ কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে। তবে নারী কর্মী পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েত লিবিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিদেশ যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের মাঝে হতাশা নেমে আসে। এই অবস্থার মধ্যে আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের বাদশাহ শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে আগামী ২৫ অক্টোবর আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রমবাজার খোলার শর্ত হিসেবে বন্দিবিনিময় চুক্তিসহ তিনটি চুক্তির প্রস্তাব করেছে আরব আমিরাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুদিনের সফরে আবারও সেখানকার শ্রমবাজার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আমিরাতে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত আছেন। বাংলাদেশিদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় ২০১২ সালের আগস্টে আমিরাত সরকার নতুন ভিসা দেওয়া এবং ভিসা নবায়নে কঠোরতা আরোপ করে। সেই থেকে আমিরাতে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ রয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়েই আবারও খুলতে যাচ্ছে আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। দুয়েকটি ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় দেশেই এখন শ্রমবাজার বন্ধ। এ অবস্থায় আমিরাতের বাজার চালু হলে বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। সফরকালে বন্দিবিনিময় চুক্তিসহ তিনটি চুক্তি হবে আমিরাত সরকারের সঙ্গে।
জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভারসাম্য আনতে আরব আমিরাত ভিসা প্রদান কিছুটা শ্লথ করেছে, তবে ভিসা দেওয়া একেবারে বন্ধ করেনি। পুরুষ কর্মী না গেলেও মহিলা কর্মী নিয়মিতই যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, তবে আগের মতো শ্রমিক পাঠাতে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। এরই মধ্যে আমিরাত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সুখবর। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-আমিরাত সম্পর্ক নতুন মোড় নেবে। কোনো বাধা আর থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরব আমিরাতে কাজ করতে গিয়ে কিছু বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বিচারে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন সহস্রাধিক ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এই অপরাধ প্রবণতার কারণে আরব আমিরাত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসাপ্রক্রিয়া কঠোর করেছে। বাংলাদেশিদের অপরাধ কমানোর লক্ষ্যে সে দেশের সরকার বাংলাদেশের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে আন্তরিক।
জানা গেছে, আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি এবং নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগসংক্রান্ত আরো দুটি চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। ২০ ও ২১ অক্টোবর আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীতে এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার জন্য বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যাচ্ছে।