দুনিয়া জুড়ে ডেস্ক: গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাসে শুক্রবার বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের ওপর গোয়েন্দাগিরির প্রসঙ্গ তুলে ৪১ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ বলেন, গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে; একেবারেই ভেঙে পড়েছে সেখানকার আইনের শাসন। তিনি বলেন, একই অবস্থা অন্যান্য ক্ষেত্রেও। কারাগারে ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের সাথে কী আচরণ করা হয়েছে। চালকবিহীন বিমান হামলা চলছেই। এমনকি মার্কিন নাগরিকরাও তার শিকার হচ্ছেন।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সেদেশে বসবাসকারী প্রত্যেকেরই ফোন রেকর্ড সংরক্ষণ করে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে তারা তাদের প্রতিদিনের কার্যক্রম নজরদারি করছে, যে বিষয়টি সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। সম্প্রতি দুটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) মার্কিন ও বিদেশি নাগরিকদের ভিডিও, ছবি ও ইমেইল তথ্য পাওয়ার জন্য মাইক্রোসফট, গুগল, ফেসবুক ও অ্যাপলের মতো ইন্টারনেট প্রোগ্রামগুলোতে সরাসরি আঁড়ি পাতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিরাপত্তা বাহিনীর এইসব কাজের প্রশংসাও করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা বেআইনি কিছুই করেনা। সন্ত্রাসী মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এই কাজ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, মার্কিন সেনা সদস্য ব্র্যাডলি ম্যানিং উইকিলিকসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন। ২০১০ সালে বিপুল পরিমাণ মার্কিন গোপন তারবার্তা ও দলিল প্রকাশ করে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে উইকিলিকস। এর পরই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়। সুইডিশ সরকার অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করে। গত প্রায় এক বছর তিনি লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে রয়েছেন। মার্শাল ল’ এর আওতায় তার বিচার চলছে। এছাড়া এপি ও ফক্স নিউজের সাংবাদিকদের ফোন রেকর্ড জব্দ করা নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে চলছে তুমুল সমালোচনা।
Leave a Reply