সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১২

টাকা আর সেক্স দিয়ে ইরানকে কেনার চেষ্টা করছে আমেরিকা

টাকা আর সেক্স দিয়ে ইরানকে কেনার চেষ্টা করছে আমেরিকা

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের একমাত্র শিয়া মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের ধর্মীয়, সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রেসর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক হলেন ধর্মগুরু খামেইনি৷ বুধবার শীর্ষ সেনা অফিসার ও সরকারি নীতি নির্ধারক এলিটদের এক সম্মেলনে অশীতিপর খামেইনি বলেন, ইরানের এলিট শ্রেণিকে যৌনতা ও টাকা ছড়িয়ে হাতের মুঠোয় রাখতে চায় আমেরিকা৷ যৌনকর্মী ও ডলার ছড়িয়ে ইরানকে কব্জা করবে চায় ওরা৷

ইরানে নিজেদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে আমেরিকা মরিয়া হয়ে সুযোগ খুঁজছে৷ এজন্য তারা সেক্স, টাকা ছড়িয়ে ইরানের সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রের প্রভাবশালী মহলকে কেনার চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ ইরানের সেনাবাহিনীর সামনে এক বক্তৃতায় এই অভিযোগ করলেন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনি৷

আয়াতোল্লা খামেনি বলেন, ওদের টার্গেট করা ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনযাপনের ধরন সবই বদলে ফেলতে চায় ওরা৷ এই বদলটা ঘটানো হয় ধীরে ধীরে সবার অজান্তে৷ আমেরিকার মতো করে ভাবতে ও দেখতে বাধ্য করা হয়৷ মার্কিন গুপ্তচর সংগঠন সিআইএ এবং ইজরায়েলের শক্তিশালী গুপ্তচর সংগঠন মোসাদ এভাবেই ইরানকে দুর্বল করতে সব সময় সক্রিয় রয়েছে৷

কিন্তু আপনাদের সাবধান থাকবে হবে৷ ইহুদি ও মার্কিনিরা ইরানে ঢোকার জন্য যেন কোনও ছিদ্র খুঁজে না পায়৷ খামেনি বলেন, সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আছে ইরানে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন৷ ইরানের সেনাবাহিনীর এলিট শাখা রেভলিউশনারি গার্ড-এর কমান্ডারদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি৷

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে সিরিয়া থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত জারি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট৷ সিরিয়ায় শিয়াপন্থী প্রেসিডেণ্ট বাশার এল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগকরেছে ইরান৷ অন্যদিকে, আসাদকে উৎখাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলি৷ একইসঙ্গে, ইয়েমেনে সুন্নি্ মতাবলম্বী সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে যতটা

অত:পর ইরানের চরম শত্রূ সৌদি আরব ও আমেরিকা, ওই সরকারকে উৎখাত করতে ততটাই মরিয়া তেহরান৷ শিয়া হুথি জঙ্গিদের সামরিক ও আর্থিক মদত দিয়েইয়েমেনে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে নেমেছে তারা৷ তেমনি মার্কিন বন্ধু ইজরায়েলের বিরুদ্ধে জেহাদ চালাতে হিজবুল্লাকেও তিন দশক ধরে সামরিক ও আর্থিক মদত দিয়ে চলেছে৷

সাম্প্রতিককালে মার্কিনি প্রভাব ছড়ানো ও ভিন দেশি রাষ্ট্রের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেফতার হয়েছেন বহু সাংবাদিক, কলাকুশলী, সিনেমা ও নাট্য ব্যক্তিত্ব৷ হাজতবাস এবং মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কয়েকজন মার্কিন নাগরিকেরও৷ ইরান বার বারই গলা চড়িয়ে একে পশ্চিমি দুনিয়ার ইরানোফোবিয়া (ইরান আতঙ্ক) বলে বর্ণনা করেছে৷ আমেরিকা ও পশ্চিমি দুনিয়ার সঙ্গে নিজের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে শান্তিপূর্ণ চুক্তি হয়েছে ইরানের৷

চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমি দুনিয়ার অনেক শর্ত যেমন ইরান মেনে নিয়েছে, তেমনি তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে বিশ্বাস ও মর্যাদা দিয়েছে ওয়াশিংটনও৷ প্রাক্তন প্রেসিডেণ্ট আহমেদিনেজাদের আমলে ইরান-মার্কিন সম্পর্ক ছিল সাপে নেউলে৷ নব নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট হাসান রৌহানির আমলে আবহাওয়া অনেক শান্ত ও অনুকূল৷ তাহলে সরকারের ক্ষমতার চাবিকাঠি যাঁর হাতে সেই খামেইনির কন্ঠে কেন বজ্রনির্ঘোষ?

 




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026