শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের একমাত্র শিয়া মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের ধর্মীয়, সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রেসর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক হলেন ধর্মগুরু খামেইনি৷ বুধবার শীর্ষ সেনা অফিসার ও সরকারি নীতি নির্ধারক এলিটদের এক সম্মেলনে অশীতিপর খামেইনি বলেন, ইরানের এলিট শ্রেণিকে যৌনতা ও টাকা ছড়িয়ে হাতের মুঠোয় রাখতে চায় আমেরিকা৷ যৌনকর্মী ও ডলার ছড়িয়ে ইরানকে কব্জা করবে চায় ওরা৷
ইরানে নিজেদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে আমেরিকা মরিয়া হয়ে সুযোগ খুঁজছে৷ এজন্য তারা সেক্স, টাকা ছড়িয়ে ইরানের সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রের প্রভাবশালী মহলকে কেনার চেষ্টা করে যাচ্ছে৷ ইরানের সেনাবাহিনীর সামনে এক বক্তৃতায় এই অভিযোগ করলেন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনি৷
আয়াতোল্লা খামেনি বলেন, ওদের টার্গেট করা ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনযাপনের ধরন সবই বদলে ফেলতে চায় ওরা৷ এই বদলটা ঘটানো হয় ধীরে ধীরে সবার অজান্তে৷ আমেরিকার মতো করে ভাবতে ও দেখতে বাধ্য করা হয়৷ মার্কিন গুপ্তচর সংগঠন সিআইএ এবং ইজরায়েলের শক্তিশালী গুপ্তচর সংগঠন মোসাদ এভাবেই ইরানকে দুর্বল করতে সব সময় সক্রিয় রয়েছে৷
কিন্তু আপনাদের সাবধান থাকবে হবে৷ ইহুদি ও মার্কিনিরা ইরানে ঢোকার জন্য যেন কোনও ছিদ্র খুঁজে না পায়৷ খামেনি বলেন, সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আছে ইরানে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন৷ ইরানের সেনাবাহিনীর এলিট শাখা রেভলিউশনারি গার্ড-এর কমান্ডারদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি৷
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে সিরিয়া থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত জারি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট৷ সিরিয়ায় শিয়াপন্থী প্রেসিডেণ্ট বাশার এল আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগকরেছে ইরান৷ অন্যদিকে, আসাদকে উৎখাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলি৷ একইসঙ্গে, ইয়েমেনে সুন্নি্ মতাবলম্বী সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে যতটা
অত:পর ইরানের চরম শত্রূ সৌদি আরব ও আমেরিকা, ওই সরকারকে উৎখাত করতে ততটাই মরিয়া তেহরান৷ শিয়া হুথি জঙ্গিদের সামরিক ও আর্থিক মদত দিয়েইয়েমেনে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে নেমেছে তারা৷ তেমনি মার্কিন বন্ধু ইজরায়েলের বিরুদ্ধে জেহাদ চালাতে হিজবুল্লাকেও তিন দশক ধরে সামরিক ও আর্থিক মদত দিয়ে চলেছে৷
সাম্প্রতিককালে মার্কিনি প্রভাব ছড়ানো ও ভিন দেশি রাষ্ট্রের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেফতার হয়েছেন বহু সাংবাদিক, কলাকুশলী, সিনেমা ও নাট্য ব্যক্তিত্ব৷ হাজতবাস এবং মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কয়েকজন মার্কিন নাগরিকেরও৷ ইরান বার বারই গলা চড়িয়ে একে পশ্চিমি দুনিয়ার ইরানোফোবিয়া (ইরান আতঙ্ক) বলে বর্ণনা করেছে৷ আমেরিকা ও পশ্চিমি দুনিয়ার সঙ্গে নিজের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে শান্তিপূর্ণ চুক্তি হয়েছে ইরানের৷
চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমি দুনিয়ার অনেক শর্ত যেমন ইরান মেনে নিয়েছে, তেমনি তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে বিশ্বাস ও মর্যাদা দিয়েছে ওয়াশিংটনও৷ প্রাক্তন প্রেসিডেণ্ট আহমেদিনেজাদের আমলে ইরান-মার্কিন সম্পর্ক ছিল সাপে নেউলে৷ নব নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট হাসান রৌহানির আমলে আবহাওয়া অনেক শান্ত ও অনুকূল৷ তাহলে সরকারের ক্ষমতার চাবিকাঠি যাঁর হাতে সেই খামেইনির কন্ঠে কেন বজ্রনির্ঘোষ?