শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গত মাসে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের কারনে বর্তমানে কারাগারে অন্ধপ্রকুষ্টে জীবন যাপন করছেন স্কটল্যান্ডের অধিবাসী কাওছার উদ্দিন (৪৭)। তিনি ইর্স্টান মসলা রেস্টুরেন্টের মালিক এবং ট্যাক্সি চালক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যে মতে, গত ২২ ফেব্রুয়ারী সোমবার ওমরাহ পালনের শেষ দিন মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের ধাক্কা ধাক্কির মধ্যে পড়েন। ঐদিন ধাক্কা ধাক্কির কারনে নিজেকে সামলানোর জন্য তিনি পাশ্ববর্তী এক লোককে শক্ত করে ধরেন। ঘটনাক্রমে ঐ ব্যক্তি ছিলেন পুলিশ অফিসার। কোন কিছু বুঝার আগেই ঐ পুলিশ অফিসার কাওছার উদ্দিনকে বেদড়ক মারধর করেন। অবস্থা দেখে মি: উদ্দিন আত্মরক্ষার জন্য দু’হাত তুলে দাঁড়ান। কিন্তু মুহুর্তেও মধ্যেই অসংখ্য পুলিশ তাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সর্বশেষ তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর তার পাসপোর্ট জব্দ করে পুলিশ।
কাওছার উদ্দিন তিন সন্তানের জনক এবং ট্যাক্সি চালক কাওছার উদ্দিন স্কটল্যান্ডের ব্লেকহল মসজিদের একটি গ্রুপের হয়ে ওমরাহ পালন করতে যান। বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া কাওছার উদ্দিন সম্পর্কে তার স্ত্রী আলেয়া, তিন সন্তান কলসুম (১৭), আল ইব্রাহিম (১৭) এবং আল ঈমাইল (৮) কোন খোজ খবর নিতে পারছে না। যতই দিন যাচ্ছে ততই তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছেন।
কাওসার উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা ফরেন অফিস এবং রাজনীতিবিদের কাছে তাকে ফিরিয়ে আনার সহযোগিতা চেয়েছেন। বাবার চিন্তায় আট বছরের সন্তান ঘুমাতে পারে না জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। এ ব্যাপারে তাদের পারিবারিক বন্ধু রেজওয়ান রাজার সাথে যোগাযোগ করেন। তাদের এই বন্ধু রাজা পেশায় একজন একাউন্টটেন্ট। তিনি ফরেন অফিস এবং স্থানীয় এমপি জোহানা চেরির সহযোগিতা চান। ফরেন অফিস মি: উদ্দিনের পরিবারকে সৌদিআরব যাবার পরামর্শ দেয়। একজন বন্ধুর সহায়তায় তারা উদ্দিনের সাথে কারাগারে পাঁচ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান। এবং পরের দিনই তারা স্কটল্যান্ডে চলে আসেন।
তার কন্যা কুলসুম বলেন, এটা ছিল একটি আবেগঘন বিদায়। তার পিতাকে দেখাচ্ছিল অভুক্ত, ক্লান্ত এবং অসুস্থ। কাওছার উদ্দিনের মেয়ে জানান আমাদের বাবার কাজই হচ্ছে আমাদের আয়ের উৎস। তার অনুপস্থিতি পরিবার চালানো বেশ কঠিন।
কাওছার উদ্দিনের পরিবার যখন সৌদিআরব ছিল তাদেরকে জানানো হয় তাদের বাড়ী ছুরি হয়েছে এবং কাওসার উদ্দিনের ট্যাক্সিও ছুরি হয়ে গেছে। এডিনবরায় ফিরে তারা তাদের বাড়ী দরজা ভাঙ্গা দেখতে পান। স্কটল্যান্ড পুলিশ পরবর্তীতে পাশ্ববর্তী স্টেন হাউজ স্ট্রিট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্যাস্কি উদ্ধার করে। ঘটনাক্রমে গাড়ির লাইট অন থাকলেও কোন ক্ষতি হয়নি। গত সাপ্তাহের শেষের দিকে কাওসার উদ্দিন প্রিজন পুলিশকে ঘুষ দিয়ে তার পরিবারের সাথে দু‘বার কথা বলতে সমর্থ হন।
জনাব কাওসার উদ্দিন কান্নাভেজা কন্ঠে বলেন, অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। গত ২৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার তাকে বিচারের সম্মুখিন করা হয়। কোন ধরনের আইনগত সহায়তা ছাড়াই ৩৫ দিনের কারাদন্ড দেয়া হয় পুলিশকে আক্রমন করার জন্য। যদিও পুলিশ অফিসার দৃশ্যত ঐ চার্চ থেকে সরে আসছিল। টেলিফোনে কাপা গলায় কাউসার উদ্দিন ঐ জেলখানার অবস্থা বর্ণনা করেন যা খুবই শোচনীয়। তাকে একটি রোমের আরো পাচ শত কয়েদির সাথে রাখা হয়েছে। সেখানে ঘুমানোর জায়গা নেই। তিনি অসুস্থবোধ করছেন বলার পরও কোন সহায়তা পাননি। উপরন্তু তাকে আরো দু’বছরের কারাদন্ড দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
তার পারিবারিক বন্ধু রেজওয়ানের উদ্বৃতি দিয়ে এডিনবরা নিউজ জানায় কাওছার উদ্দিন তাদেরকে বলেছেন যত পয়সাই লাগুক আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। প্রয়োজনে ঋন কর। আমার ট্যাক্সি বিক্রি কর।
কাওছার উদ্দিনের বন্ধুরা জানান তিনি ছিলেন সহজ সরল এবং ধার্মিক মানুষ। তার দ্বারা কোন পুলিশ অফিসারকে আক্রমন করা সম্ভব নয়। তার বন্ধু রাজা বলেন, ত্রিশ বছর যাবত আমি কাওছার উদ্দিনকে জানি। তিনি একজন অতি সাধারণ মানুষ। তিনি কোনভাবেই এধরনের কাজ করতে পারেন না এবং কোন সময় এ ধরনের সমস্যায় পড়েননি। তিনি কাউকে কখনো কটুকথা বলতে শুনিনি। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তার চরিত্রের সাথে মিলেনা।