মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৮

ব্রিটিশ বাংলাদেশী দম্পতির ১.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বেনিফিট জালিয়াতি

ব্রিটিশ বাংলাদেশী দম্পতির ১.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বেনিফিট জালিয়াতি

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ: ভুয়া কোম্পানী গঠন করে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীদের বেনিফিট প্রতারণায় সহযোগিতার অভিযোগে দোষি সাব্যস্ত হয়েছেন ৩ বৃটিশ নাগরিক। অভিযুক্তরা হলেন ইলফোর্ডের বাসিন্দা চৌধুরী মূঈদ ও আসমা খানম এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। যদিও আদালতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবী করেছেন।

অভিযুক্ত দম্পতী ৫১ বছর বয়সী চৌধুরী মুঈদ পেশায় একজন একাউন্ট্যান্ট। তার স্ত্রী আসমা খানম, বয়স ৪৭। টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি ঠিকানা ব্যবহার করে ফ্যামিলিস ফর সার্ভাইভাল ইউকে এবং এইজ শেল্টার ইউকে লিমিটেড নামে দুটি কোম্পানীর মাধ্যমে রেডব্রিজ ও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে ইতালিয়ান পাসপোর্টধারী বাংলাদেশীদের ইউকের কাজ দেখিয়ে তাদের নামে প্রায় ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড বেনিফিট ক্লেইম করেছেন বলে আদালতের শুনানিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রতারণার কাজে সহযোগিতা করায় টাওয়ার হ্যামলেটসের নাগরিক হাবিবুর রহমান দোষি সাব্যস্ত হয়েছেন।

স্নেয়ার্সব্রোক ক্রাউন কোর্টে ১২ সদস্যের জুরিবোর্ড প্রায় ৯ ঘন্টা শুনানি শেষে তাদের দোষি সাব্যস্ত করেন। যদিও জুরির সামনে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবী করেছেন অভিযুক্তরা। আগামি ৮ এপ্রিল তাদের সাজার মেয়াদ ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য ২০১৪ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি ঠিকানা ব্যবহার করে প্রায় ৪শ ইতালিয়ান পাসপোর্টধারী বাংলাদেশী নাগরিকের নামে ইউকেতে জব সিকার এবং হাউসিং বেনিফিট ক্লেইমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহ করে বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। ক্লেইমাররা ইতালি থেকে একই ফ্লাইটে এসে জব সেন্টারে স্বাক্ষর করে একই দিন ইউকে ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ ছিল।

জানাযায় অভিযুক্ত বৈধ অভিবাসীরা ইতালি ও অন্যান্যদেশ থেকে এসে একই ঠিকানায় উঠতেন। তারা সকলে ষ্টানষ্ট্যাড এয়ারপোর্ট হয়ে ব্রিটেনে আসতেন সকালের ফ্লাইটে। এসে এই এড্রেসে উঠে জব সেন্টারে ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের ইন্টারভিউতে এটেন্ড করে বিকেলের ফ্লাইটে ব্রিটেন ছাড়তেন। ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স নাম্বার পাওয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে এই দম্পতি ভুয়া এই ঠিকানা দেখিয়ে হাউজিং বেনিফিট সহ অন্যান্য বেনিফিট ক্লেইমের সব ব্যবস্থা করে দিতেন। এভাবে ৩০০ ক্লেইম সন্দেহ হলেও ১৩৯টি ক্লেইম সাকসেস হয়।

তাদেরকে সহযোগীতা করার জন্য হাবিবুর রহমান নামের একজনকেও দোষী সাব্যস্ত ও শাস্তি দেয়া হয়েছে। এই দম্পতি আবার মাইল এন্ডে হাইবা লাইবা লিমিটেড এবং ক্রিস্টাল জবস লিমিটেড কেও তাদের জালিয়াতিতে ব্যবহার করতেন।

অপারেশন রাইনো এই দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্তে নামে এবং ডিপার্টম্যান্ট ফর ওয়ার্ক এন্ড পেনশন মুঈদ চৌধুরীর অফিস ও বাসা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ভুয়া ক্লেইমের কাগজ পত্র উদ্ধার করে। অপারেশন রাইনো টিম চৌধুরীকে এসব কাগজের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি তার বিভিন্ন ডাইরেক্টর ও আগের শেয়ার হোল্ডারদের কাগজ পত্রের কথা বলেন, অথচ তারা তার সাথে থাকার প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে বলেন ডাইরেক্টর ও শেয়ার হোল্ডাররা চলে গেছেন।

আদালতে চারজন পুরুষ ও নয়জন মহিলা জুরি নয় ঘন্টা সময় লাগে তাদের মেজর ভার্ডিক্টের সিদ্ধান্তে পৌছতে। জাজ নাইজেল পিটারস কিউসি এই দম্পতি দ্বারা হাউজিং বেনিফিট জালিয়াতিতে সিরিয়াস ক্রাইম ও ফ্রড, একই সাথে স্ত্রী তার স্বামীর সাথে চক্রান্ত ও ফ্রডে সহযোগীতার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেন।

প্রসিকিউটর মার্ক হাইমসওয়ার্থ বলেন, ২০১৪ সালে এই দম্পতির এড্রেস এর ব্যাপারে বেনিফিট অফিসারদের সন্দেহ হয়, যখন তারা দেখতে পান অধিক সংখ্যক বেনিফিট আবেদন একটি মাত্র ঠিকানার মাধ্যমে খুবই গোছানো ও উন্নতমানের ডকুম্যান্টস তৈরি করে জমা হচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026