সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৭:০৮

একজন মানুষ চাইলেই বিশ্বের চেহারা বদলিয়ে দিতে পারে আর তিনি হলেন ইমাম ক্বাসিম রাশেদ

একজন মানুষ চাইলেই বিশ্বের চেহারা বদলিয়ে দিতে পারে আর তিনি হলেন ইমাম ক্বাসিম রাশেদ

২রা মার্চ শনিবার। সকাল ১২টা থেকে রাত ৮টা। ৯ ঘন্টা ব্যাপী বিশাল আয়োজন। লন্ডনের হার্ট অব সিটি লন্ডন মুসলিম সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরের পুরো হল জুড়ে বিশাল আয়োজন। ২৪ ঘন্টা টিভি এড লিফলেট প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যাপক প্রচার সত্বেও আশানুরূপ সমাগন হয়নি বলে প্রতিয়মান হলো।

ক্বরা বাংলা টিভির কলা কৌশলিদের চেষ্টার ক্রটি ছিলনা। পুরো প্রগ্রামটি লাইভ প্রচারে ছিলো তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম। কিন্ত একটি আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনের ডাক থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থপনা প্রগ্রাম সঞ্চালনায় দুর্বল চিত্রই দৃশ্যমান হয়ে ফুঠে উঠেছে। স্টলেগুলো অন্ধকারে ঢাকা। কয়েকশত ট্রাভেল এজেন্ট থাকলেও হাতে গুনা ৫/৬ জনের অংশগ্রন যেন একটা তীব্র ধাক্কা। মহিলাদের জন্য আলাদা বসার অডমার্কা পার্টিশন প্রগ্রামের সৌন্দর্য্যকে করেছে ম্লান। কারণ বৃটেনের একটি নামকরা হেলথী টিভি হলো ইক্বরা বাংলা। আর তার হজ্জফেয়ার এমন ঢিলে ঢালা আমাদের একটু ভাবিয়ে তুলে।

প্রথম যখন তিলাওয়াতের জন্য কারো নাম ডাকা হলো সে নেই। অন্য একজনকে করজ করে এনে কাজ সারানো হলো। মক্কা মদীনার কণ্ঠে তিলাওয়াতের আওয়াজে পুরো গ্রগ্রাম মাতিয়ে রাখার মতো ক্বারী লন্ডনে অভাব ছিলোনা। শিশু কিশোরদের সংগীত ইসলামী সাংস্কৃতি প্রচারের মোক্ষম এই সুযোগ কাজে লাগানো গেলনা বলে অনেকে আহত হয়েছেন।

আমাদের ক্বওমি মাদরাসায় যেভাবে বার্ষিক সম্মেলনে মুহতামিম সাহেব নিজে ওয়াজ করেন তেমনি শিক্ষা রিপোর্ট অর্থ রিপোর্ট চাদা পরিচালনা সবই একাই করেন। মেধার সম্মিলন অন্যদের সুযোগ প্রসস্থ মনের পরিচয় দানে খুবই কার্পণ্যতা চলে। অন্য মুসলমানকে নিজের ভাইয়ের মতো ইজ্জত দেয়া মায়া মমতা করা কাজে লাগানোর মতো হৃদয়ের মানুষের বড় অভাব। এভাবে কেবল নিজেকে মেলে না ধরে আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে অন্যদের যোগ্যতার মুল্যায়েনের খুবই অভাব আমাদের মাঝে।

কেউ তার ব্যক্তিগত খরচে নিজের ইচ্ছা মতো কিছু করলে যায় আসেনা। কিন্তু কমিউনিটির একটি প্লাটফরম যদি হয়। যেখানে একটি ঐক্যমত আছে। ডজনের ডজন লোক শরিক আছে। বিরাট একটি টিম যদি একসাথে থাকে। মেধা যোগ্যতায় অনেক পারদর্শি আছে তাদেরকে ঘুমে রেখে বগলে বগলে বস্তনি নিয়ে ঘুরে নিজের ঢোল কেউ পেটাতে লাগলে আসলেই খারাপ লাগে। ফলাফল জিরো হয়। হলের বিভিন্ন প্রান্তে দেখেছি চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে অনেকের মাঝে।

এই হজ্জ ফেয়ার থেকে কে কি শিখলেন?

এহরাম একজন তওয়াফ একজন আরাফাত একজন মুজদালিফা একজন মোট কথা বুনা খিচুড়ি। তারপর প্রজাক্টারের মাধ্যমে ঘন্টা ব্যাপী বিরক্তিকর ব্যাখ্যা। প্রশ্ন করার মতো লোক নেই তাই হায়ার করে প্রশ্নকারীকে তৈরী করতে হয়েছে। ইমাম কাসিমকে মধ্যখানে বসিয়ে তাকে তুষামুদি আর চাটুকারী কারো নজর এড়ায়নি। এভাবে স্টেজে লাইন বেধে ট্রাভেলারদের বসানো আর মাছ বাজারের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকলো কই?

হ্যাঁ যদি এভাবে হতো- ৯ ঘন্টা প্রগ্রামকে ৩ ভাগে বিভন্ত করা। প্রতি সেশনের জন্য একজন সঞ্চালক। ইংলেন্ডের মতো নামি একটি টিভির একজন সঞ্চালক হওয়া উচিত ছিলো যিনি চমৎকার ইংরেজি ও শুদ্ধ বাংলায় বলতে পারেন। ভাল ভাল কিছু ক্বারী এবং সংগীত শিল্পীদের অংশগ্রহন। মহিলা ও শিশুদের জন্য আলাদা হলে খোলা মেলা পরিবেশে বসার ব্যবস্থা। প্রজেক্টারের মাধ্যমে সংযোগ প্রদান। আরো স্টলের আয়োজন। লাইটিং এবং ব্যাপক বুক স্টল ও ইসলামী গ্রাফিক্সের আয়োজন করা যেত। কিছু নন মুসলিম শাদা লোকদের হজ্জফেয়ারে দাওয়াত করা জরুরী ছিলো। আনন্দ উপভোগ্য সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলা খুবই জরুরী।

বিজ্ঞ উলামা জেনারেল শিক্ষীত শিল্পপতি ব্যবসায়ী শিক্ষক সাংবাদিক সহ সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহনের জন্য আলাদা আলাদা টিম কাজ করলে ব্যাপক উপস্থিতি সম্ভব হতো।

হজ্জের পুরো মাসআলা একজনই বয়ান করলে ভাল হতো। তারপর পুরো ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে বাস্তব হজ্জ দেখানো যেত। অতঃপর অন্য একজন নিয়ম কানুন পরিবেশ ও সৌদির আইন সহ বিভিন্ন জরুরী বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারতেন। একজন ডাক্তার বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দিয়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের কথাও বলানো যেত। কিছু নামি দামী সেলিব্রেটিদের ডেকে এনে দুএক কথা বলানো যেতো। আরো রকমারি মানুষের উপস্থিতি মেধার সম্মিলন ও কমিউনিটির মিলন মেলায় পরিণত করার একটা বিশেষ সুযোগ। মহিলাদের উদ্দেশ্যে মহিলা দিয়েও একটা বক্তব্য দেয়া যেত। কারণ হজ্জে তাদের ব্যক্তিগত অনেক সমস্যা আছে যা সাধারণ ভাবে বলা যাবেনা।

প্রতিটি সেশন যখন আলাদা আলাদা বিষয় দিয়ে সাজানো হত এবং কখন কি হবে তা আগে থেকে টাইম টেবিল সামনে চলে আসলে অনেক উদ্বুদ্ধ হতো। অনেকের হয়তো সারা সময় বসার সুযোগ নেই তখন তিনি তার পছন্দের সময়ে এসে বক্তব্য এসে শোনে যেতে পারতেন। বুকলেট বাংলা ইংরেজীতে পর্যাপ্ত থাকা দরকার। কারো পকেট বুক নয় যাদের পক্ষথেকে প্রগ্রামের অফার করা হয়েছে তারা ফরমায়েশী সুন্দর হজ্জ গাইড বুক উপহার দিতে পারতেন। আমাদের একটা কু অভ্যাস হলো যখনই সুযোগ পাই তখনই নিজের ঢোল পেটাতে শুরু করি। কাকের নাচন ময়ুরের মতো হচ্ছে কিনা তা ভাবার সময় কই?

পরিশেষে ইমাম ক্বাসিম রাশেদের সারগর্ব বক্তব্য উপস্থিতিদের মাঝে চাঞ্চচল্য সৃষ্টি করে। লাইভ প্রগ্রামটা মাঠে মারা যেত যদি তিনি এসে হজ্জের ইতিহাস তুলে না ধরতেন। তিনির আগের বক্তা আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের সিও মিস্টার সাইফ সাহেব পবিত্র কোরআনের ভুল তিলাওয়াত করে ভুল তরজমা পেশ করেন। হাজার হাজার দর্শক যারা ইউরোপ আমেরিকা ব্যাপী দেখছে তাদের জন্য একটা স্বপ্ন যেন ঝিলিক মেরে মাটি হয়ে গেল। তবু বলবো যেহেতু শুরু হয়েছে শিখা হবে। আগামীতে আরো ভাল পারফরমেন্স তারা দেখাতে পারবে এই আশা আমাদের সকলের।

– ইমেইল প্রেরিত সংবাদ




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026