রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:১৪

দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেছেন দেগুইতো: সহকর্মীকে ৫০ লাখ পেসো দিতে চেয়েছিলেন দেগুইতো

দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেছেন দেগুইতো: সহকর্মীকে ৫০ লাখ পেসো দিতে চেয়েছিলেন দেগুইতো

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: বুধবার ফিলিপাইন সিনেটের রুদ্ধদ্বার শুনানিতে আরসিবিসি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো দুই জ্যেষ্ঠ ব্যংক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেছেন। সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর তিওফিস্তো গুইঙ্গোনার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফিলিপাইনের জিএমএ নিউজ।

ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো তার এক সহকর্মীকে ৫০ লাখ পেসো দিতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮.১ কোটি ডলার চুরি হওয়ার ঘটনায় নীরব থাকতেই হয়তো ঘুষ হিসেবে এ অর্থ দিতে চেয়েছিলেন দেগুইতো। রোমুয়ালদো আগারাদো নামে ওই সহকর্মী নিজেই গতকাল সিনেট শুনানিতে এসব বলেছেন। এ খবর দিয়েছে এনকোয়ার।

খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ৮.১ কোটি ডলার হাতানোর ঘটনায় ওই দুই জ্যেষ্ঠ ব্যংক কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। শুনানির সাইডলাইনে সাংবাদিকদেরকে তিওফিস্তা বলেন, মনে হচ্ছে আরও বড় ব্যক্তিরা এখানে জড়িত। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন, দেগুইতো আরসিবিসি ব্যাংকের দুই নির্বাহীর নাম জানিয়েছেন যাদের হাত এ লেনদেনে থাকতে পারে।

এর আগে একটি নির্বাহী শুনানির অনুরোধ জানিয়ে সফল হন দেগুইতো। রুদ্ধদ্বার ওই শুনানিতে তিনি সিনেট কমিটির কাছে সব বলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী একটি রুদ্ধদ্বার শুনানি আয়োজনও করা হয়। তবে সেখানে দেগুইতো কী বলেন, তা জানা যায়নি। আরসিবিসি’র ওই শাখায় কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের প্রধান ছিলেন আগারাদো। তিনিই জানান, আরেক ব্যংক কর্মকর্তা আদ্রিয়ান ইয়ুজুইসোর ঘরে ১২ই ফেব্রুয়ারি দেগুইতো তাকে ওই প্রস্তাব দেন।

এর আগে আরাগাদো সিনেট শুনানিতে বলেন, তিনি দেখেছেন অন্তত ২ কোটি পেসো উইলিয়াম গো নামের এক ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলন করা হয়। এরপর ওই অর্থ দেগুইতোর গাড়িতে তোলা হয়। তিনি ওই অর্থ নিয়ে বাড়িও চলে যান। আগারাদোর এ স্বাক্ষ্যে আরও বিপাকে পড়েন দেগুইতো। আরসিবিসি ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার ওপরই দোষ চাপিয়ে আসছিলেন। তবে দেগুইতোর দাবি, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তিনি এ কাজ করেন।

আগারাদোর এ স্বাক্ষ্যের বিপরীতে উত্তর দিতে দেগুইতো অস্বীকার করেন। তবে তিনি বারবার রুদ্ধদ্বার শুনানিতে সব বলবেন বলে জানাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে সিনেট কমিটি তাকে নিয়ে বিশেষ সেশনে বসতে রাজি হয়। সেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অবঃ) জন গোমেজ।

আরাগাদো বলেন, দেগুইতোর সহকারী অ্যাঙ্গেলা তোরেসের আদেশ মোতাবেক তিনি ২ কোটি পেসো গুনে দিতে সহায়তা করেন ৫ই ফেব্রুয়ারি। ওই অর্থ উইলিয়াম গোর অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলিতও হয়। উইলিয়াম গো’র দাবি, তার নামে দেগুইতো ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এরপর দেগুইতোর রুমে নিয়ে যাওয়া হয় ওই অর্থ। ব্যাঙ্কের মেসেঞ্জার জোভি মোরালেস বাক্সে ভরা ওই অর্থ নিয়ে যায় দেগুইতোর গাড়িতে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় আভ্যন্তরীন নিরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ১১ই ফেব্রুয়ারি আরাগাদোকে নিরীক্ষকরা প্রশ্ন করেন। এ সময় অ্যাঙ্গেলা তোরেস তাকে বলেন, তিনি যেন নিরীক্ষকদের ওই অর্থ দেগুইতোর গাড়িতে তোলা নিয়ে কিছু না বলেন। কারণ, তাতে বিপদে পড়বেন দেগুইতো। এ কারণে আরাগাদো তখন নিরীক্ষকদের কিছু বলেননি।

এক পর্যায়ে সিনেটররা আরসিবিসি ব্যাংকের কর্মীদের আরও হলফনামা জমা দিতে বলে। কিন্তু ব্যাংকের আইনজীবী ফার্নান্দেজ এস্তাভিলো বলেন, অ্যাঙ্গেলা তোরেস যে হলফনামা দিয়েছেন, তা শপথভঙ্গ! এস্তাভিলো বলেন, তোরেস দাবি করলেন তিনি উইলিয়াম গোর গাড়িতে ওই অর্থ ঢুকান। এমনকি তাকে উত্তোলনের স্লিপে স্বাক্ষরও করান। কিন্তু গার্ড লগে এ বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পাওয়া যায় না। আবার তোরেসের বক্তব্য আর আগারাদোর বক্তব্য বিপরীতমুখী। এছাড়া প্রমান অনুযায়ী, তোরেসের হলফনামা মিথ্যা। এস্তাভিলো আরও বলেন, ব্যাংক তোরেসের বিরুদ্ধে শপথভঙ্গের মামলা করবে।

প্রসঙ্গত: ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করে হ্যাকারচক্র।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026