দুনিয়া জুড়ে আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: কয়েক ডজন পারমাণবিক বোমা বানানোর জন্য যথেষ্ট এতো পরিমাণ প্লুটোনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে জাপানে পৌঁছেছে বৃটিশ দুটি জাহাজ। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে এসব প্লুটোনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে মজুদ রাখা হবে।
বার্তা সংস্থা এপি বলছে, আজ সোমবার এ জাহাজ দুটি জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে উত্তর-পূর্বে টোকাই নামক উপকূলে পৌঁছেছে। এ স্থানেই জাপানের এটমিক অ্যান্ড এনার্জি এজেন্সির প্রধান পারমাণবিক গবেষণাগার। প্লুটোনিয়াম ভর্তি পিপাগুলো জাহাজে তুলতে বেশ কয়েক ঘন্টা সময় লাগতে পারে বলে বলা হচ্ছে। এ জাহাজে রয়েছে নৌবাহিনীর সুরক্ষা ও অন্যান্য নিরাপত্তামুলক ব্যবস্থা।
বৃটিশ এ জাহাজ দুটির নাম দ্য প্যাসিফিক ইগ্রেট এবং প্যাসিফিক হেরন। দুটি জাহাজই পরিচালনা করে প্যাসিফিক নিউক্লিয়ার ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড। এ জাহাজে করেই জাপান থেকে ৩৩১ কিলোগ্রাম প্লুটোনিয়াম দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সাভানা রিভার সাইটে নিয়ে যাওয়া হবে। নিরাপত্তার কারণে এ বিষয়ে কোন তথ্য দিয়ে রাজি হন নি জাপানের কর্মকর্তারা।
তবে জাপানে প্লুটোনিয়াম জমা করে রাখা ও তা বিদ্যুত উৎপাদনে ব্যবহারের জাপানি উচ্চাশা নিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বলা হচ্ছে, জাপানে প্লুটোনিয়ামের বিশাল মজুদ আছে। সেখানে মজুদ প্লুটোনিয়ামের পরিমাণ ১১ টন। এ ছাড়া ৩৬ টন পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে বৃটেনে ও ফ্রান্সে। তা প্রক্রিয়াজাত শেষে শিগগিরই জাপানে ফিরিয়ে নেয়া হবে। এ প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে প্রায় ৬০০০ পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব। ১৯৯০ এর দশকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরিভার সঙ্গে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের একটি কেন্দ্রের নির্মাণ শুরু করে জাপান।
কিন্তু তাতে নানা রকম ত্রুটি দেখা দেয়। গত নভেম্বরে তা উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আরও নিরাপত্তা ও পরিদর্শক অনুমোদনের জন্য ২০১৮ সাল পর্যন্ত এটির উদ্বোধন স্থগিত করা হয়েছে। জাপানে প্লুটোনিয়াম চালিত দ্রুতগতির পারমাণবিক চুল্লি ‘মনজু’ অচল হয়ে পড়ে আছে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এতে রয়েছে নাজুক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির রেকর্ড।