মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১:২৬

অর্ধেকেরও বেশী ব্রিটিশ মনে করে ক্যামেরনের বিদায় নেয়া উচিৎ

অর্ধেকেরও বেশী ব্রিটিশ মনে করে ক্যামেরনের বিদায় নেয়া উচিৎ

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ: ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না থাকা নিয়ে ২৩শে জুন হবে গণভোট। এই গণভোট নিয়ে ব্রিটিশ জনগন এখন মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিদিনই নানা নাটকীয় ঘটনার জন্ম হচ্ছে ব্রিটিশ রাজনীতিতে। রাজনীতিবিদদের সাথে এখন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারি, এক্সপার্ট আর নানা পেশার জনগনও জড়িয়ে পড়ছেন। বড় বড় ব্যবসায়ীরাও স্বাক্ষর আর গ্রুপ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিবৃতি দিয়ে চলেছেন প্রতি নিয়ত।

এই রেফারেন্ডামে যদি ব্রিটেন ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে রায় যায়, তাহলে অর্ধেকেরও বেশী জনগন মনে করেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ডেভিড ক্যামেরনের ইস্তফা দিয়ে চলে যাওয়া উচিৎ।

ইপসোস মরিস এর নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮% ব্রিটিশ জনগনের মতামত হলও ডেভিড ক্যামেরনের চলে যাওয়া উচিৎ আর ৪৪% ব্রিটিশ মনে করেন কন্টিনিউ লিডারশিপ চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। ইভনিং ষ্ট্যান্ডার্ড সহ মরিস এর ওয়েব সাইটে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

অডিও- https://soundcloud.com/betarnews123/half-of-public-say-cameron-must-quit-if-he-loses-eu-poll

এই জরিপ নির্দেশ করছে যে, রেফারেন্ডামের পর অর্থাৎ ইউরোপিয় ইউনিয়নে থাকা না থাকা যাই রেজাল্ট হউক না কেন, ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্ব নিয়ে টোরি পার্টির রাজনীতি থাকবে সরগরম। কেননা এখনি বিভিন্ন এমইপির মধ্যে উত্তেজনা মূলক বক্তৃতা বিবৃতি ছড়াচ্ছে। সেদিনও এমইপির প্রকাশ্য আলোচনা অনুষ্ঠানে এ নিয়ে তিক্ততা হয়ে গেছে।একে অন্যকে ফিনিশ বলেও সমালোচনা করেছেন।

সাবেক টোরি এমপি ম্যাথিউ প্যারিস সহ অন্যান্য টোরি এমপিরা বলছেন, রেফারেন্ডামের পরে জনসনের লিডারশীপ নিয়ে ক্যামেরনকে বেশী ভোগাবে। গত সপ্তাহের হাউস অব কমন্সে লেবার দলীয় এমপি রিচার্ড বার্গন সরাসরি ক্যামেরনকে প্রশ্ন করেছেন, রেফারেন্ডামে ব্রিটেন ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এলে ডেভিড ক্যামেরন কি পদত্যাগ করবেন- তিনি ইয়েস অথবা নো এর মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন। জবাবে ক্যামেরন উচ্চসিতভাবে বলেছেন- না, পদত্যাগ করবেননা।

এদিকে গত মাসের চেয়ে লিভ ইইউ গ্রুপ ইউনিয়নের ভিতর থাকার গ্রুপের চেয়ে জনমত জরিপে কাছাকাছি শুধু নয় লিড পয়েন্টে এগিয়ে এসেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে থাকার পক্ষে ৫৪ পার্সেন্ট ছিলো, সেখানে ৪৯ পার্সেন্টে নেমে এসেছে। আর বেরিয়ে যাওয়ার গ্রুপ ৩৬ পার্সেন্ট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪১ পার্সেন্ট হয়েছে। অর্থাৎ নাটকীয়ভাবে এই গ্রুপের পক্ষে মতামত বেশী হয়েছে।

পক্ষান্তরে লিভ গ্রুপ গত জুনে ৮ পয়েন্টের মতো পেছনে থেকে গ্যাপ ছিলো। মরিসের সিনিয়র পলিটিক্যাল রিসার্চার স্কিনার মনে করেন, জরিপে যেভাবে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ক্যামেরনের ইন ক্যাম্পেইন বড় এক ক্রুশিয়াল, ক্যামেরনের লিডারশীপও এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।মনে হচ্ছে তার প্রিমিয়ারশিপও শেষ হতে যাচ্ছে।

মজার ব্যাপার হলো ৩৯ পার্সেন্ট ভোটারই বেশ শংকায় আছেন যদি তাদের সাইড হেরে যায়। আবার ৬৪ পার্সেন্ট ভোটার নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কিভাবে ভোট দিবেন।

অপরদিকে এডুকেশন সেক্রেটারি নিকি মর্গান মনে করেন ব্রেক্সিট হলে জেনারেশন হারিয়ে যাবে। অপর এক খবরে বলা হয়েছে, ৫০ জন ব্যবসায়ী যারা লিভ গ্রুপের, তাদের ক্রিমিন্যাল রেকর্ড সহ নানা দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে- সেটাও এখন হট টক অব দ্য ওয়েস্ট মিনিস্টার পলিটিক্স।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026