রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০২:১২

ভাগ্যক্রমে আন্দামানে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেচে যান আবু বক্কর সিদ্দিক

ভাগ্যক্রমে আন্দামানে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেচে যান আবু বক্কর সিদ্দিক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: লাইফ জ্যাকেটের সাহায্যে উত্তাল আন্দামান সাগরের থাই উপকূলে এমভি হোপ কাত হয়ে ডুবতে শুরু করলে প্রাণ বাঁচতে সাগরে লাফ দেন ডেক ক্যাডেট আবু বকর সিদ্দিক ও কয়েকজন নাবিক।  শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এমভি হোপের বাকি ১১ নাবিকের সন্ধান মেলেনি বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর। নৌ বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা এখনো সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। তবে ভাগ্যক্রমে বেচে যান আবু বক্কর সিদ্দিক।

নৌবাহিনীর সদস্যরা ৫০ বছর বয়সী আবু বক্করকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে করে ভাশিরা ফুকেট হাসপাতালে নিয়ে যান। আর উত্তাল সাগরে কোনোক্রমে ভেসে থাকা লাইফ বোট থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে এমভি বাক্সমুন নামের মালবাহী একটি জাহাজ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবু বকর ফুকটে নিউজকে জানান, মাত্র তিন মাস আগে তিনি হোপে যোগ দেন।  এই জাহাজে  এমনিতে ৩২ জন নাবিক ও কর্মকর্তা থাকলেও এবারের যাত্রায় তারা ছিলেন মোট ১৭ জন।
ফুকেট গেজেট জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে হোপ থেকে পাঠানো একটি এসওএস বার্তা অস্ট্রেলিয়ার রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারে পৌঁছালে তারা বিষয়টি ব্যাংকক কর্তৃপক্ষকে জানায়। খবর পেয়ে সকালেই হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে রয়্যাল নেভি। মালয়েশিয়ার লুমুট বন্দর থেকে সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত ৬ হাজার  ৫৪৫ মেট্রিক টন বল ক্লে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ফেরার পথে ৯৮ মিটার দীর্ঘ এমভি হোপ বুধবার মধ্যরাতের পর প্রবল ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে। ১৭ জন নাবিক ও কর্মকর্তাকে নিয়ে বাংলাদেশি জাহাজটি তখন ফুকেট উপকূলের রাকা জাই দ্বীপ থেকে আনুমানিক ৫৪ কিলোমিটার দূরে আন্দামান সাগরে। ভয়ঙ্কর ঢেউ আর দমকা হাওয়ার মধ্যে বেঁচে থাকার মরিয়া চেষ্টার কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে আবু বকরের।
ফুকেট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢেউয়ের মধ্যে জাহাজ প্রবলভাবে দুলতে থাকায় ভেতরে রাখা কার্গো এক পাশে গিয়ে জমা হয়।  এক দিক অতিরিক্ত ভারি হয়ে যাওয়ায় কাত হয়ে যায় হোপ। জাহাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হোপের নাবিকরা।  কয়েকজন নাবিক কোনোক্রমে একটি লাইফ বোটে করে সাগরে ভেসে পড়েন।  আর জাহাজে থাকলে ডুবে মরতে হবে- এই ভয়ে সাগরে ঝাঁপ দেন আবু বকরসহ আরো কয়েকজন। কয়েক ঘণ্টা পর থাই রয়্যাল নেভির হেলিকপ্টার আন্দামানে খুঁজে পায় আবু বকরকে।
জানা যায়, ২৩ বছরের পুরনো এমভি হোপের মালিক ট্রেড ব্রিজ শিপিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্ত্বাধীকারী সামা কাদের চৌধুরী। তিনি বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী। জাহাজের সনদ অনুযায়ী এর ধারণ ক্ষমতা পাঁচ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন হলেও মালিকপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে যে তথ্য দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার টন বেশি পণ্য বহন করছিল জাহাজটি। আগামী ৮ জুলাই এমভি হোপের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
জাহাজের মালিকপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ১১ নাবিক হলেন- জাহাজের ক্যাপ্টেন রাজীব চন্দ্র কর্মকার, প্রধান কর্মকর্তা মো. মাহবুব মোর্শেদ, দ্বিতীয় কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, ডেক ক্যাডেট ফাইজুর, প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাইফুদ্দিন, দ্বিতীয় প্রকৌশলী মো. নেজাম উদ্দিন, ইঞ্জিন ক্যাডেট মুশফিকুর রহমান, ইলেকট্রিশিয়ান ছাদিম আলী, কেবি নাসির উদ্দিন, আলী হোসেন এবং প্রধান কুক নাসির উদ্দিন।
ফুকেট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আবু বকর বাঁ হাত ও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। মানসিকভাবেও তাকে বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল।  তবে সাগরে ফেলে আসা সহকর্মীদের নিয়ে দুশ্চিন্তাও উঠে আসে তার কথায়। নিজের বুকে হাত রেখে তিনি থাই সাংবাদিকদের বলেন, আল্লাহর কাছে শোকর আদায় করছি যে আমি বেঁচে গেছি। দেশে আমার মেয়েটার কথা খুব মনে হচ্ছে। এমভি হোপের দুর্ঘটনায় পড়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবারই সিঙ্গাপুর থেকে ফুকেটে ফোন করেন আবু বকরের ছেলে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান এই বাংলাদেশি নাবিক। উদ্ধার পাওয়া বাকি পাঁচ বাংলাদেশি এমভি বাক্সমুনে করেই দেশে ফিরছেন। আর আবু বকরও আবার সহকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেয়ার অপেক্ষায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024