নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি মহলের অপতৎপরতায় ইকনোমিক জোন বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও বাহুবল উপজেলায় প্রাইভেট ইকনোমিক জোন স্থাপনে আর কোন সমস্যা নেই। এখানে পরিকল্পিতভাবে তৈরি হবে এই ইকনোমিক জোন। এর ফলে এখানে আসবে বিদেশী বিনিয়োগ। কর্মসংস্থান হবে ২০ থেকে ৩০ হাজার লোকের।
এ জোনে উৎপাদিত পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা হবে। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রাইভেট ইকনোমিক জোন।
জানা যা
য়, দেশের অন্যতম শিল্প উদ্যোক্তা আজম জে চৌধুরীর মালিকানাধীন ইস্ট কোস্ট গ্রুপ সম্প্রতি বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ৫০ একর ভূমি ক্রয় করে সেটিতে প্রাইভেট ইকনোমিক জোন করার জন্য একটি প্রস্তাবনা ইকনোমিক জোন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করে। বেজার প্রাথমিক নির্বাচন কমিটি সম্প্রতি এ প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। উল্লেখ্য, পরিকল্পনায় সেখানে আরও ১শ’ একর ভূমি ক্রয়ের কথা রয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব পবন চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেজার সোস্যাল স্পেশালিস্ট আব্দুল কাদের খান, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব রুকন উদ্দিন।
বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানান, জুন মাসে চুনারুঘাটে শুরু হওয়ার কথা ছিল ইকনোমিক জোনের কাজ। ৬ মাসের মাঝে সেখানে শিল্প কারখানা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চা শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে সেই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। হবিগঞ্জের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাহুবলে ইস্ট কোস্ট গ্রুপ প্রাইভেট ইকনোমকি জোন করার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বেজার সোস্যাল স্পেশালিস্ট আব্দুল কাদের খান জানান, বেজার প্রাথমিক নির্বাচন কমিটি (যার প্রধান বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান) যেহেতু প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে তাই বাহুবলে প্রাইভেট ইকনোমিক জোন হবে। ইকনোমিক জোনের জন্য প্রয়োজন গ্যাস, বিদ্যুৎ আর পানি। এখানে সব কিছই আছে। এখন পরিবশেগত সমীক্ষাসহ বিভিন্ন সমীক্ষার পর এক বছরের মধেই বাহুবলে ইকনোমিক জোন চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এক শ্রেণির দেশের উন্নয়নবিরোধী লোক চুনারুগাটে ইকনোমিক জোন নির্মাণের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। এতে করে হবিগঞ্জ অনেক পিছিয়ে পড়বে।
ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সিইও মাসুদুর রহিম জানান, বাহুবলে হবে পরিকল্পিত প্রাইভেট ইকনোমিক জোন। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বিদেশি কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। এখানে সিরামিক, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সাটাইল ও কনজ্যুমার আইটেম উৎপাদন হবে। যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা হবে। এখানে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি উদ্যোক্তাদের আহবান জানালে ইতোমধ্যে জাপান, সিঙ্গাপুর ও চীনের উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এখানে ২০ থেকে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম জানান, হবিগঞ্জে গ্যাস, বিদ্যুৎ, কাঁচামাল আর শ্রমিকের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে এখানে বিনিয়োগের ভাল পরিবশে রয়েছে। বাহুবলে এ সুবিধাকে কাজে লাগাতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে প্রাইভেট ইকনোমিক জোন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।
বাহুবল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, বাহুবলে বিনিয়োগের অনূকূল পরিবেশ রয়েছে। এখানে প্রাইভেট ইকনোমিক জোন হলে যেমন উদ্যোক্তা লাভবান হবেন, তেমনিভাবে স্থানীয় লোকজনও উপকৃত হবে। তিনি প্রাইভেট ইকনোমিক জোনে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান।