শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:১৩

নিজামীর রিভিউ শুনানি বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় লন্ডন আলতাফ আলী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজামীর রিভিউ শুনানি বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় লন্ডন আলতাফ আলী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ শুনানি বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের আলতাফ আলী পার্কে।

লন্ডন আলতাফ আলী পার্কে সামনে জনতার ঢলে পার্ক ছিলো উত্তাল। ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর দাবি অভিলম্ভে প্রহসনের যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনলের কার্যক্রম বন্ধ করে এবং অন্যায় ভাবে দেওয়া রায় বাতিল করে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সহ সকল রাজবন্দীদের অভিলম্ভে মুক্তি দিতে হবে।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের শ্লোগানে ছিলো মুখরিত। নানা ধরনের শ্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানারে লেখা ছিলো দেশ রক্ষার হৃদয়বিদারক আকুতি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার শ্লোগান। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন অপপ্রয়াস রুখে দাড়াতে বিশ্ববিবেকের কাছে আবেদন।

গত ৫ মে ২০১৬ বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে থেকে ৩ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্বের সকল আর্ন্তজাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে অস্বচ্ছ, আগ্রহনযোগ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলা সত্বেও তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথিত শ্লোগান নিয়ে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে। তাই তারা দেশের সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছেন তাদের সেই প্রতিবাদী কন্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগ যেভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো এখন বাংলাদেশকে সেইরকম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বক্তারা বলেন সরকার

একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলছে কিন্তু বিরোধী দল রাস্তার পাশে সাড়ে তিন হাত একটি ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করতে গেলেও এবং পুলিশ এবং আওয়ামীলীগের কর্মীরা এসে হামলা করছে। অথচ সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গুলি করলেও এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

বক্তারা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালকে আর্ন্তজাতিক ভাবে ধিকৃত ট্রাইবুনাল উল্লেখ করে বলেন শেখ মুজিব কর্তৃক ৭১ সালের একটি মীমাংষীত ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসে শেখ হাসিনা ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। একদিন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যাদের দরজায় এসে ধর্না দিতেন সেই জামায়াত ইসলামীকে স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যায়িত করে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারীক হত্যা ষড়যন্ত্রের লিপ্ত রয়েছে এই জালেম সরকার ।

বক্তরা বলেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের গেইট থেকে সরকারী বাহিনী প্রকাশ্যে স্বাক্ষী অপহরন করে নিয়ে গেলেও ট্রাইবুনালের বিচারকরা সেটাকে আমলে নেন না। অথচ আসামী পক্ষ্যের আইনজীবিকে আদালত থেকে বহিস্কার করে দেন। বক্তারা বিদ্যমান ট্রাইবুন্যালকে দলীয় আখ্যা দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিরোধীদলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে এই ট্রাইবুন্যালকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার।

বক্তারা সরকারকে হুশিয়ার করে বলে আগুন নিয়ে খেলবেন না। তাহলে এ আগুনে সরকারকে পুড়ে মরতে হবে। বক্তারা সকল রাজবন্ধির মুক্তির দাবী জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়া না হলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সকল দায়দায়িত্ব আওয়ামীলীগকেই বহন করতে হবে।

বিশিষ্ট আইনজিবী বদরে আলম দিদারের পরিচালনায সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামের ইউরোপের মূখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বক্কর মোল্লা , জামিয়তে উলামা ইউরোপের সভাপতি মুফতি শাহ সদুরুদ্দিন, আর ও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যাক্তিবগ আব্দুল বাসিত , মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ,মো: তরিকুল ইসলাম, জুবাইর আহমেদ, মোজাম্মেল হোসাইন, মীর আব্দুল আউওয়া তারেক, সাংবাদিক আমিমুল আহসান তানিম, মুহম্মদ আলাউদ্দিন প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের তথাকথিক ট্রাইবুন্যাল তার সকল নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। দলীয় বিচারকরা স্বাধীনভাবে কোন বিচার কাজ চালাতে ইচ্ছুক নয়। সরকারী নিদের্শনা অনুযায়ী তারা কাজ করছে। মূলত: লোক দেখানো নাটকের অংশ হিসেবে বিচার বিচার খেলা চলছে। কি রায় হবে তা আগে থেকেই

ঠিক করা আছে। সময় হলেই তারা তা পড়ে শুনানো হয় । তারা বলেন, বর্তমান ট্রাইবুন্যাল একটি বিতর্কিত ট্রাইবুন্যাল তাই একে বাতিল করতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড়ঁ করানো হোক। কিন্তু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সে সৎ সাহস নেই। মূলত: শেখ মুজিবর রহমান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজেই যুদ্ধাপরাধীদের মদদ করেছেন।

এমনকি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। আর সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে মুজিব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। প্রকৃত দোষীদের ছেড়ে দিয়ে আজ বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগে।

আর এ থেকে প্রমানিত হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়, আওয়ামীলীগের মুল টার্গেট জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিবর্গ। নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক সকল মহল এই ট্রাইবুন্যালকে প্রত্যাখান করেছে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইন আন্তর্জাতিক মানে নেই। তারা বলেন, সরকার তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূলের অভিযানে নেমেছেন। দেশের মানুষ দেখেছে, কিভাবে চোর, বাটপার, জালিয়াতদের দিয়ে দেশের সম্মানিত মানুষদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ানো হচ্ছে।

ট্রাইবুনালে জামাতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হতে সরকারের তরফ থেকে বাধ্য করা হয়েছিলো বলে নান্নু মিয়া তা নিজেই জানান। একটি অফিসে গোপনে ধারণ করা এই ভিডিওতে দেখা যায় জনাব নান্নু খোলামেলাভাবে ট্রাইবুনাল নিয়ে বলেছেন, সরাসরি শেখ হাসিনার হুকুমে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য হয় মুক্তিযোদ্ধা নান্নু। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল এর জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য নিয়ে আসার অন্যতম নায়ক হচ্ছে লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইমরুল কায়েস।

তিনি সেনাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড! শেখ হাসিনা তাকে পদোন্নতি দেন! তিনি মুক্তিযোদ্ধা নান্নুকে ক্যন্টনম্যান্ট এ নিয়ে যেয়ে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে বাধ্য করেন। সাথে জড়িত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু। ব্যক্তিগত দূর্দশার বর্ণণা দিয়ে টাকা-পয়সার লেনদেন সহ এবং পুরো ঘটনার বিবরণ দেন।

বক্তারা বলেন বর্তমান ব্যর্থ সরকারের নানাবিধ চুরি ডাকাতি আর গুম খুন দামাচাপা দিতে হঠাৎ করে মাওলানা নিজামীর রায় দেওয়া হয়েছে ।

তারা আরও বলেন, দোষ করলো কে আর ফাঁসি হয় কার? দোষী ভুট্টো কে দেয়া হলো লাল গালিচা সংবর্ধনা আর নিজামী সাহেবের হয় ফাঁসি পাকিস্তানি দোষী আর্মিদের চুক্তি করে ক্ষমার ঘোষণা করলো আর জামায়াত নেতাদের ধরে ধরে ফাঁসি দেয়া হলো! মহা অবাক করা কান্ড ! যার বিরুদ্ধে ৪২/৪৩ বছরে কেউ যুদ্ধূপরাধের অভিযোগ করলনা


প্রধানবিচারপতি ওপেন কোর্ট এ বললেন নিজামী সাহেব আলবদর নেতা ছিলেন না এবং কোন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার ও কোন প্রমান নেই 
তারপর ও ফাঁসি দিলেন! যার সাথে হাসিনা একসাথে মিলে কেয়ারটেকার আন্দোলন করলো। সেই হাসিনা আজ রাজার আসনে বসে নিজামীর ফাঁসির হুকুম করছে আর নিজামী সাহেব ফাঁসির কাষ্ঠে!

– ইমেইল প্রেরিত সংবাদ




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026