শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: গর্ভপাত নিয়ে মার্কিন সমাজ ও রাজনীতি সব সময় উত্তপ্ত। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা নারীর গর্ভপাতের পক্ষে গেছে।
উদারনৈতিক ওই রায়ে বলা হয়েছে, নারীর গর্ভপাতের সহজলভ্যতা অঙ্গরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ ব্যাপারে অঙ্গরাজ্যের নিয়ন্ত্রণকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করা হয়েছে।
যু
ক্তরাষ্ট্রে উদারনৈতিক রাজনীতিবিদসহ নাগরিক সংগঠনগুলো সব সময় গর্ভপাতের পক্ষে। অপর দিকে রক্ষণশীল এবং ধর্মাশ্রয়ী গোষ্ঠীগুলো গর্ভপাত নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো সমাজ গর্ভপাতের বৈধতা নিয়ে চরমভাবে বিভক্ত। স্থানীয় নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচন—সব ক্ষেত্রে গর্ভপাত একটি নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্য গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহ পর গর্ভপাত আইন করে নিষিদ্ধ করেছে। গর্ভপাত নিয়ে মার্কিন সমাজে বিতর্ক চলমান। মাতৃগর্ভে জীবনের শুরু কোন সময়—এ নিয়েও বিতর্ক আছে। গর্ভ ধারণের ছয় সপ্তাহ হয়ে গেলে গর্ভপাতকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আইন করার দাবি কোনো কোনো রক্ষণশীল সংগঠনের।
অপর দিকে উদারনৈতিক লোকজন ও নাগরিক সংগঠনগুলো গর্ভপাতকে নারীদের নিজস্ব বিষয় হিসেবে দেখার পক্ষে। শারীরিক জটিলতা, অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ, সামাজিক-পারিবারিকসহ নানা যুক্তিতে গর্ভপাতের পক্ষে আন্দোলন করে আসছে লোকজন।
সম্প্রতি টেক্সাসে গর্ভপাত ক্লিনিকের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এ নিয়ে আমেরিকাজুড়ে গর্ভপাতের পক্ষের লোকজন অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সংগঠনগুলো এবং রক্ষণশীলদের মধ্য রায় নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
মার্কিন সমাজে চরম বিতর্কিত গর্ভপাতের বিষয়ে গত ১০ বছরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এই প্রথম শুনানি গ্রহণ করেন। গতকাল ৫-৪ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গর্ভপাতসংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়কে উদারনৈতিকদের পক্ষে শতাব্দীর সেরা রায় বলে মনে করা হচ্ছে। এ রায়ে গর্ভপাত করতে আগ্রহী নারীর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণকে স্পষ্টত দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর জেনারেল উইমেন ল সেন্টারের মুখপাত্র এমিলি মার্টিন বলেছেন, গর্ভপাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ করার সব কালাকানুন সংবিধানবিরোধী ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে নারীদের সাংবিধানিক অধিকার আরও পোক্ত হলো।
গর্ভপাতের বিরোধী পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অনেকটাই হতাশ। ন্যাশনাল লাইফ কমিটির ক্যারোল টবিয়াস বলেছেন, জীবন রক্ষার (প্রো-লাইফ) পক্ষে আন্দোলন দুই পা এগিয়েছে, কখনো এক পা পিছিয়েছে। এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ভ্রূণ হত্যা বন্ধ এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে জীবনের স্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে জনমতের জয় হবে।
গর্ভপাত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।