বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৮

এবার বন্দি নারীদের বিক্রিতে নেমেছে আইএস

এবার বন্দি নারীদের বিক্রিতে নেমেছে আইএস

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবার বন্দি নারীদের বিক্রিতে নেমেছে। স্মার্টফোনের বার্তাবিষয়ক অ্যাপ টেলিগ্রামে নারী বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তারা। আরবি ভাষায় এবং বিশেষ নিরাপত্তায় (এনক্রিপ্ট) এসব বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি নারী বিক্রির এক বিজ্ঞাপনে আইএস থেকে লেখা হয়েছে- ‘কুমারী, সুন্দরী ও মাত্র ১২ বছর বয়স্ক। এরই মধ্যে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার দাম উঠেছে। শিগগিরই বিক্রি হবে।’ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় আরবি ভাষায় আদান-প্রদানকৃত বার্তায় অস্ত্রসহ বিভিন্ন জিনিসের পাশাপাশি নারী বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে এমন একটি বার্তা দেখান ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের এক অধিকারকর্মী। এই সম্প্রদায়ের নারীদের বন্দি রেখেছে আইএস। ধারণা করা হয়, আইএসের হাতে তিন হাজারের বেশি নারী ও মেয়েশিশু বন্দি আছে।

ইরাক ও সিরিয়ায় দখলকৃত এলাকা ধীরে ধীরে আইএসের হাতছাড়া হচ্ছে। অর্থের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আদিম বর্বর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিক্রির জন্য রাখা নারীদের নাম, ছবি ও তথ্য স্মার্টফোনে রাখা হয়। একই সঙ্গে রাখা হয় যাঁর কাছে বিক্রি করা হয়েছে তাঁর নাম-পরিচয়। এভাবেই চেকপোস্টে বিক্রি হওয়া নারীদের পালিয়ে যাওয়া রোধ করে তারা। একই সঙ্গে বন্দি নারীদের উদ্ধারে সহায়তা করা পাচারকারীদের হত্যা করছে আইএস।

কুর্দি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগস্টে ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার ইয়াজিদি নারীকে বন্দি করে আইএস। শুধু ধর্মবিশ্বাসের কারণে কুর্দিভাষী এই সংখ্যালঘুদের নির্মূলের পরিকল্পনা নেয় তারা। এর পর থেকেই আরব ও কুর্দি পাচারকারীরা প্রতি মাসে গড়ে ১৩৪ জনকে উদ্ধার করে। গত মে মাসে পাচারকারীদের রুখতে জোর অভিযান চালায় আইএস। তাই পরবর্তী ছয় সপ্তাহে মাত্র ৩৯ নারীকে মুক্ত করা সম্ভব হয়।

জার্মান ইরাকি ত্রাণবিষয়ক সংস্থা লাফটব্রাক ইরাকের প্রতিষ্ঠাতা মিরজা দানাই বলেন, গত দু-তিন মাসে উদ্ধারকাজ প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রতি নারী বন্দির তথ্য রাখছে আইএস। কোনো নারী পালিয়ে গেলেও তাঁর তথ্য ঠিকই পৌঁছে যায় আইএসের সব নিরাপত্তা চৌকিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, কিছু প্রতিবেদনে আইএসের নারী বিক্রির বিষয়টি তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। ইয়াজিদিদের মানুষই মনে করে না আইএস। ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্ম ও পারস্যের প্রাচীন ধর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ইয়াজিদি বিশ্বাস। ইরাক যুদ্ধে আগে সেখানে ইয়াজিদির সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ। তবে এখন ইয়াজিদিদের সঠিক সংখ্যা কত তা অজানা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025