রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৫

আমার কথা ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন বিরোধীদল (ভিডিও)

আমার কথা ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন বিরোধীদল (ভিডিও)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: রাজনৈতিক অঙ্গনে কয়েকদিন ধরে আলোচিত তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে রাজনৈতিক এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিজে। ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের এক ইফতার অনুষ্ঠানে গত ২৩ জুলাই জয় বলেন, তার কাছে তথ্য আছে যে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। একাত্তর টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বিরোধী দল তার বক্তব্য ঘোরানোর চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জয় রংপুরের পীরগঞ্জে পৈত্রিক এলাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় মায়ের সঙ্গে বক্তৃতা দেয়ার পরদিনই সাক্ষাৎকারটি প্রচার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে জয় বলেছেন, তার এখনকার প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগকে পুনারায় ক্ষমতায় আনা। তার এই বক্তব্য বিএনপির সমালোচনার মুখে পড়ে। দলটি দাবি করে, এতে কুটিল ষড়যন্ত্রের’ আভাস রয়েছে। এরপর জয়ের মা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে কথা বলেন। কথা বলেন দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও। তারা বলেন, দলের করা কয়েকটি জরিপ থেকে তারা জেনেছেন আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার জয়লাভ করবে।

সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, দুটি জরিপের তথ্য ধরে তিনি বলেছিলেন যে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসবে। সম্প্রতি দুটি জরিপ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ বিএনপির চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে। এই জরিপ দেশের বাইরের কোম্পানিকে দিয়ে করা হয়েছে। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল আমার কথা ঘোরানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের অভ্যাস তাদেরই আছে। আওয়ামী লীগের আমলে গত চার বছরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোদিন কারচুপি করেনি, করে না। নির্বাচনে কারচুপি করার কোনো উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের নেই। সুতরাং যে নীলনকশার অভিযোগ বিরোধী দল তুলছে, সেটা সঠিক নয়। হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে মতিঝিল অভিযান নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে এবং তা মানুষ বুঝতে পারবে বলে মনে করেন জয়।

রাজনীতিতে যোগ দেয়ার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর নাতি বলেন, শুধুই উত্তরাধিকার দিয়ে রাজনীতি হয় না। যোগ্যতা থাকতে হয়। রাজনীতি করা ডিপেন্ড করে সম্পূর্ণ মেধার ওপর, ক্যাপাবিলিটির ওপর। আমি কার ছেলে, সেটা তুলে ধরেই যে আমি রাজনীতি করব, তা কিন্তু নয়। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ১৯৮২ সালে বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী হলেও এতে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না বলে জানালেন তিনি। রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে না থাকলেও ২০০৪ সালে ২১ অগাস্ট যখন আমার মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয় তখন বাধ্য হয়ে রাজনীতিতে নামি। তা আমার ওপর এক ধরনের প্রভাব ফেলে, আমার একটা জেদ উঠেছিল যে আমি আমার দেশকে রক্ষা করব, বিএনপি যে ভয়ঙ্কর একটা দল, এদের হাত থেকে আমি আমার দেশকে রক্ষা করবে। আমি এসেছি শুধু আমার দলকে সহযোগিতা করতে। আমার চিন্তা হল, বাকি ছয় মাস আমার জন্য উপযুক্ত সময়। এই সময়ের মধ্যে চেষ্টা করে আমার দলকে জেতাতে হবে। দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মোকাবেলা করতে এসেছি, নিজের এখনকার সক্রিয়তার ব্যাখ্যা দেন জয়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবির পর আগামী নির্বাচন নিয়ে কীভাবে এত আশাবাদী- প্রশ্ন করা হয় প্রধানমন্ত্রীপুত্রকে। উত্তরে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যু প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু ন্যাশনাল লেভেলে দেখলে আওয়ামী লীগ একটু এগিয়ে আছে। কারণ মিউনিসিপ্যাল ইলেকশানে ভোটার টার্নআউট ছিল প্রায় ৬০ পার্সেন্ট। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে সেটা হয় ৮০ থেকে ৮৩ পার্সেন্ট। তাছাড়া যখন ন্যাশনাল ইলেকশানে মানুষ ভোট দিতে যায় তখন ভোট দেয় নৌকা আর ধানের শীষ দেখে। নৌকার আলাদা একটা ব্র্যান্ড ইমেজ আছে। যারা নৌকার ভোটার, তারা কিন্তু শেষমেশ নৌকায় ভোট দেবে।

তবে জেতার জন্য আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামতে হবে বলে মনে করেন জয়। এক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি আছে বলে তার পর্যবেক্ষণ। দল ক্ষমতায় থাকলে কিছুটা অনৈক্য দেখা দেয়। সেন্ট্রাল নেতারা, এমপিরা রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এগুলো হয়। তবে এখনো সময় আছে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এগুলো ঘুচে যাবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা জয় তার মা শেখ হাসিনা সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করেনি, বরং দুর্নীতি থামিয়েছে। পদ্মা সেতুতেও কোনো টাকা বিতরণ করা হয়নি। শুধু দুর্নীতির ইচ্ছে ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে আমরা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কেস দিয়েছি, ধরেছি, গ্রেপ্তার করেছি। কিন্তু আবুল হোসেনের (সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী) বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই তাকে ধরা হয়নি। তাকে ধরার জন্য জন্য কোনো একটা প্রমাণ লাগবে। বলা হয়েছে, ডায়রির কথা। কিন্তু সেই ডায়রি কেউ দেখেনি। কানাডায় যে কেইস চলছে, সেই কেইসের টেস্টিমোনিতে আবুল হোসেনের কথা নেই।

 

[youtube id=”1P9bgp9j-vE” width=”600″ height=”350″]

[youtube id=”j4fD1_BM5″ width=”600″ height=”350″]

[youtube id=”jRKKV1M8ERI” width=”600″ height=”350″]

 

 

 

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024