আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘আর রাহমাহ মসজিদ’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী জেদ্দায় অবস্থিত ভাসমান মসজিদ আর-রহমাহ দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের একটি জায়গা। লোহিত সাগরের তীরে নির্মিত এই মসজিদটিকে অনেকে ভাসমান জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেন।
জেদ্দার সমুদ্রতটে অবস্থিত আল-রাহমা মসজিদ ১৯৮৫ সালে নির্মিত হয়। মসজিদটি একই সাথে ফাতেমা আল-যাহরা মসজিদ নামেও পরিচিত এবং জেদ্দার অন্যতম দর্শনীয় মসজিদ এটি। বিশেষত পূর্ব এশিয়ার মুসলিমরা এ মসজিদে বেশি এসে থাকেন।
২৪০০ বর্গ কিলোমিটার জায়গারর উপর প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত। আটটি স্তম্ভের উপর দণ্ডায়মান মসজিদটির ছাদে মোট ৫২টি গম্বুজ রয়েছে, তন্মধ্যে একটি গম্বুজ বৃহত্তর। একই সাথে মসজিদটির একটি মিনার রয়েছে। নারীদের নামায আদায়ের জন্যও মসজিদটিতে আলাদা নামাযের স্থান রয়েছে।
লোহিত সাগরের উপর মসজিদটির প্রায় সম্পূর্ণ অংশ অবস্থিত হওয়ায় জোয়ারের সময় মসজিদটিকে পানির উপর ভাসমান বলে মনে হয়। এ কারণে মসজিদটি জেদ্দার ভাসমান মসজিদ হিসেবেও পরিচিত।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় লোহিত সাগরের পটভূমিতে মসজিদটির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সউদি আরব এবং অন্যান্য দেশের পর্যটক এবং মুসল্লীরা ভীড় জমান এই মসজিদে।
দুই হাজার ৩০০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই মসজিদে নারীদের নামাজের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মসজিদের মধ্যভাগে কাঠের ঝুলন্ত স্থানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন ৫০০ নারী।
বছরের বেশির ভাগ সময় মসজিদের স্তম্ভগুলো থাকে পানির নিচে। প্রতিবছর অসংখ্য হজ ও ওমরাহ যাত্রী মসজিদটি পরিদর্শনে যান। এর মধ্যে পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি।
মসজিদটি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের লোনাপানি বা শ্যাওলা এই মসজিদ অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা, তীব্র স্রোত, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়াসহ নানা দিক মাথায় রেখেই মসজিদটিতে উপযোগী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

Leave a Reply