মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৫

আমদানি নির্ভর দেশের ফলের বাজার

আমদানি নির্ভর দেশের ফলের বাজার

ইমরান আহমেদ: বছরজুড়ে ফলের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ফলের চাহিদার তুলনায় দেশে উৎপাদন কম। চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে দেশের মৌসুমী ফলের বাজার। বিদেশি ফলের মধ্যে আঙুর, ডালিম, কমলা, আপেল, মাল্টা, আনারসহ বেশ কয়েক প্রকারের ফল  আমদানি করা হয়। তবে সাতক্ষীরায় কিছু মাল্টা চাষ হয়।

মৌসুমী আমের জন্য রাজশাহী, নাটোর আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল দেশের ফলের বাজার। তবে অর্থনৈতিক বিকাশ ও বিনিয়োগ বাণিজ্যের সম্ভাবনা বিবেচনায় আম গাছকে জাতীয় বৃক্ষের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও দেশের চাহিদার ৪০ শতাংশ আম ভারত থেকে আমদানি করতে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, কদমতলী ফলবাজারে ছয়শতাধিক ফল ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইশ’ ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে ফল আমদানি করেন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কাছেই নদী ঘেঁষে কদমতলী ফল বাজার অবস্থিত হলেও বিদেশি ফলগুলো আসে ট্রাকযোগে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি ট্রাকে বিভিন্ন প্রকার ফল পরিবহন করা হয়। এতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়।

বুড়িগঙ্গা নদী তীরে অবস্থিত বাদামতলী ফল মার্কেটের ফল ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের ফলের চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ করছে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ফল। বছরের বিভিন্ন ফলের বাজারে আম, জাম, কাঁঠাল, লটকন, তরমুজ, আনারস, লিচু, জামরুল, পেঁপে, বেলসহ বিভিন্ন প্রকারের মৌসুমী ফল পাওয়া যায়। দেশে উৎপাদিত ফলের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় চীন, ভারত, নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে এসব ফল।

মৌসুমী আমের জন্য রাজশাহী, নাটোর আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল দেশের ফলের বাজার। তবে অর্থনৈতিক বিকাশ ও বিনিয়োগ বাণিজ্যের সম্ভাবনা বিবেচনায় আম গাছকে জাতীয় বৃক্ষের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও দেশের চাহিদার ৪০ শতাংশ আম ভারত থেকে আমদানি করতে হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, কদমতলী ফলবাজারে ছয়শতাধিক ফল ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইশ’ ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে ফল আমদানি করেন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কাছেই নদী ঘেঁষে কদমতলী ফল বাজার অবস্থিত হলেও বিদেশি ফলগুলো আসে ট্রাকযোগে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি ট্রাকে বিভিন্ন প্রকার ফল পরিবহন করা হয়। এতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়।

ফ্রেস ফ্রুট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। তবে স্থলপথের যোগাযোগ থাকায় ভারত থেকে আমদানি করা অধিকাংশ ফল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। তিনি জানান, কদমতলী ফলের বাজারে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০ ট্রাক ফল আসে। দিনে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৬শ’ থেকে ৭শ’ কোটি টাকা। বছরে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধ করা হয় সরকারের কোষাগারে। আপেল, আঙুর, নাশপাতি, মাল্টা,  আম ও বেদানা ছাড়াও রাম্বুঠান, এপ্রিকোট, বেবি ম্যান্ডারিন, পাম, নেকটারিন, কিউইর, সুইট মিলান, এবাকাডোর মতো কিছু অপরিচিত ফল আমদানি করা হয় বলেও তিনি জানান।

কদমতলী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ২০ কেজি ওজনের প্রতি কার্টন আঙুর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কার্ট‍ন ফুজি আপেল ১ হাজার ৯০০ টাকায় এবং দিলশান ও ক্রাউন আপেল ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি হওয়া হানি আপেল ও গালা আপেল বিক্রি হয় ২ হাজার ৭০০  টাকায়। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা প্রতি কার্টন। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের নাশপাতি ও ডালিম বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ টাকা কার্টন। ভারত থেকে আমদানি হওয়া আম বিক্রি হয় প্রতি কার্টন ২ হাজার ২০০ টাকায়। তবে মৌসুমের আগে আমদানি করা আম বিক্রি হয় ৩ হাজার ৪০০ টাকায়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026