আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত মালয়েশীয় এমএইচ১৭’র পরিণতি হয়েছে নিখোঁজ আলজেরীয় যাত্রীবাহী প্লেনটির। এমন আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বারকিনোফাসো থেকে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজির্য়াস যাওয়ার পথে মালির উত্তরাঞ্চলের আকাশে নিখোঁজ হয় এয়ার আলজেরির ফ্লাইট এএইচ৫০১৭। প্লেনটিতে এ সময় ১১০ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলো। বারকিনোফাসার রাজধানী উয়াগাডুগো থেকে উড়াল দেয়ার ৫০ মিনিট পর রাডার থেকে অদৃশ্য হয় প্লেনটি। এ সময় এটি মালির গাও অঞ্চলের আকাশ সীমায় ছিলো।
ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-৮৩ প্লেনটিতে অন্তত ৫০ জন ফরাসি নাগরিক ছিলেন বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। তবে এখনও অস্পষ্ট প্লেনটির ভাগ্যে আসলে কি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটিকে হাইজ্যাক করা হয়েছে। আবার অনেকে ধারণা ওই এলাকার তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ভূপাতিত করেছে প্লেনটিকে।
ফরাসি পত্রিকা ফ্রান্স২৪’কে একজন বিশেষজ্ঞ নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, প্লেনটির এমএইচ১৭’র পরিণতি বরণের স্বপক্ষে যথেষ্ট কারণ আছে। মালির উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও অস্বাভাবিক। ২০১২ সালের শেষ দিকে ওই এলাকা দখলে নেয় ইসলামপন্থি তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা। পরে ফ্রান্স সেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহীদের হটিয়ে দেয়। এখনও সাহেল বলে পরিচিত পশ্চিম আফ্রিকার ওই জটিল সীমান্ত এলাকায় ফ্রান্সের সেনারা ইসলামপন্থি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
মালি, নাইজার, আলজেরিয়া, চাদ ও লিবিয়ার সীমান্তবর্তী এই মরু অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত। যেখানে নিয়ন্ত্রণ নেই কোনো দেশের সরকারেরই। এখানে রাজত্ব করে বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপ ও অস্ত্রের চোরাকারবারিরা। তাই ওই এলাকায় ফ্রান্সের সামরিক অভিযানে ক্ষুব্ধ কোনো বিদ্রোহী গ্রুপ প্লেনটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ভূপাতিত করেছে, এমন সম্ভাবনা প্রচুর।
যদিও ফ্রান্সের অভিযানের মুখে বিদ্রোহীরা মালির উত্তরাঞ্চলের মূল শহর এলাকা থেকে সরে গেছে তবে এখনও ওই এলাকায় রয়েছে তাদের শক্ত অবস্থান। নিখোঁজের সময় প্লেনটি মালির গাও শহরের নিকটে ছিলো। আর গাও নগরী তুয়ারেগ এমএনএলএ বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নিখোঁজ প্লেনটির সন্ধান পেলে। তবে বিশাল মরু এলাকায় প্লেনটিকে খুঁজে পাওয়াই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। বিশাল সাহারা মরুভূমিতে প্লেনের ধ্বংসাবশেষ বালিতে ঢাকা পড়তে একটি ধুলিঝড়ই যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া সেই মালয়েশীয় প্লেনটির মত এই রহস্যেরও সমাধান না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।